সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের বিশ্লেষণ:
বৃহস্পতিবারের জন্য খুব কম সংখ্যক সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের প্রকাশনা নির্ধারিত রয়েছে। গত তিন দিনে বিভিন্ন প্রতিবেদন পর্যায়ক্রমে প্রকাশিত হয়েছে, তবে সেগুলো ব্রিটিশ পাউন্ড, ইউরো, বা মার্কিন ডলারের উপর কার্যত কোনো প্রভাব ফেলেনি। ফলস্বরূপ, আজ একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন হিসেবে মার্কিন বেকার ভাতা আবেদন সংক্রান্ত প্রতিবেদনের প্রভাবে মার্কেটে খুব বেশি প্রতিক্রিয়া সৃষ্টির আশা করা হচ্ছে না। এছাড়াও, কিছু গৌণ গুরুত্বসম্পন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, যার মধ্যে রয়েছে জার্মানির উৎপাদক মূল্য সূচক (PPI) এবং ইউরোজোনের ভোক্তা আস্থা সূচক, তবে এসব প্রতিবেদন সম্ভবত কোনো কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের মুভমেন্টকেই প্রভাবিত করবে না।
ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ:
বৃহস্পতিবার, ফেডারেল রিজার্ভের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা যেমন গুলসবি, বার, মুজালেম এবং কুগলার বক্তব্য প্রদান করবেন। তবে, পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে ফেডারেল রিজার্ভের অবস্থান ইতোমধ্যে সুস্পষ্ট এবং ট্রেডাররা এটি ভালোভাবে বুঝে নিয়েছে। ফলে, এই কর্মকর্তাদের বক্তব্য থেকে ট্রেডাররা নতুন কোনো দৃষ্টিভঙ্গি পাবে এমন সম্ভাবনা কম। একই কথা বুন্দেসব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জোয়াকিল নাগেলের বক্তব্যের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
উপসংহার:
আজকের ট্রেডিংয়ে, মার্কেটে দুর্বল ও সামান্য মুভমেন্ট এবং দিকনির্দেশনাহীন প্রবণতার প্রত্যাশা করা উচিত। যদি ট্রেডাররা মঙ্গলবার এবং বুধবার আরও সক্রিয়ভাবে ট্রেড করার কারণ খুঁজে না পেয়ে থাকে, তাহলে আজ আরও কম মুভমেন্টের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে, এর অর্থ এই নয় যে একেবারেই কোনো মুভমেন্ট যাবে না, তবে সোমবার, মঙ্গলবার এবং বুধবারের তুলনায় আজ উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটার সম্ভাবনা অনেক কম।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:
1) সিগন্যালের শক্তি: সিগন্যাল গঠন করতে কতক্ষণ সময় নেয় তার উপর ভিত্তি করে সিগন্যালের শক্তি নির্ধারণ করা হয় (বাউন্স বা লেভেলের ব্রেকথ্রু)। এটি গঠন করতে যত কম সময় লাগবে, সিগন্যাল তত শক্তিশালী হবে।
2) ভুল সিগন্যাল: যদি ভুল সিগন্যালের উপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট লেভেলের কাছাকাছি দুটি বা ততোধিক পজিশন খোলা হয় (যা টেক প্রফিট শুরু করেনি বা নিকটতম লক্ষ্যমাত্রায় পৌছায়নি), তাহলে এই লেভেলে প্রাপ্ত পরবর্তী সমস্ত সিগন্যাল উপেক্ষা করা উচিত।
3) ফ্ল্যাট মার্কেট: ফ্ল্যাট মার্কেটের সময়, যেকোন পেয়ারের একাধিক ফলস সিগন্যাল তৈরি হতে পারে বা কোন সিগন্যালের গঠন নাও হতে পারে। যাই হোক না কেন, ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়া মাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেয়া উচিত।
4) ট্রেডিং টাইমফ্রেম: ইউরোপীয় সেশনের শুরু এবং মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময়ে ট্রেড ওপেন করা উচিত। এর বাইরে সমস্ত ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করতে হবে।
5) MACD সূচকের সিগন্যাল: প্রতি ঘন্টার চার্টে, শুধুমাত্র উল্লেখযোগ্য ভোলাট্যালিটি এবং প্রতিষ্ঠিত প্রবণতার মধ্যেই MACD থেকে প্রাপ্ত সিগন্যালের উপর ভিত্তি করে ট্রেড করার পরামর্শ দেওয়া হয়, যা একটি ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেল দ্বারা নিশ্চিত করা হয়।
6) কাছাকাছি লেভেল: যদি দুটি লেভেল একে অপরের খুব কাছাকাছি অবস্থিত হয় (5 থেকে 15 পিপস পর্যন্ত), সেগুলোকে সাপোর্ট এবং রেজিস্ট্যান্স লেভেল হিসাবে বিবেচনা করা উচিত।
7) স্টপ লস: মূল্য 15 পিপস উদ্দেশ্যমূলক দিকে যাওয়ার পর, ব্রেক-ইভেনে স্টপ লস সেট করা উচিত।
চার্টে কী কী আছে:
সাপোর্ট এবং রেজিস্ট্যান্স লেভেলগুলো হল সেই লেভেল যা কারেন্সি পেয়ার কেনা বা বিক্রি করার সময় লক্ষ্যমাত্রা হিসাবে কাজ করে। আপনি এই লেভেলগুলোর কাছাকাছি টেক প্রফিট সেট করতে পারেন।
লাল লাইন হল চ্যানেল বা ট্রেন্ড লাইন যা বর্তমান প্রবণতা প্রদর্শন করে এবং দেখায় যে এখন কোন দিকে ট্রেড করা ভাল হবে।
MACD (14,22,3) সূচক, হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন উভয়ই অন্তর্ভুক্ত করে, এটি একটি সহায়ক টুল হিসেবে কাজ করে এবং এটি সিগন্যালের উৎস হিসেবেও ব্যবহার করা যেতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ বক্তৃতা এবং প্রতিবেদন (সর্বদা নিউজ ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত থাকে) যেকোন কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের গতিশীলতাকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। অতএব, এগুলো প্রকাশের সময় অত্যন্ত সতর্কভাবে ট্রেডিং করতে হবে। প্রচলিত প্রবণতার বিপরীতে আকস্মিকভাবে মূল্যের পরিবর্তন থেকে সুরক্ষিত থাকতে মার্কেটে থেকে বের হয়ে যাওয়াই যুক্তিসঙ্গত হতে পারে।
নতুন ট্রেডারদের সর্বদা মনে রাখতে হবে যে প্রতিটি ট্রেড থেকে লাভ হবে না। সুস্পষ্ট কৌশল ও কার্যকর অর্থ ব্যবস্থাপনাই দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ের সাফল্যের ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।