সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের বিশ্লেষণ:
বুধবার তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না, শুধুমাত্র জার্মানিতে GfK কনজিউমার কনফিডেন্স বা ভোক্তা আস্থা সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। এর ফলে, আমাদের জন্য সম্ভবত আরেকটি "নীরস দিন" অপেক্ষা করছে। অস্থিরতার মাত্রা কম থাকতে পারে এবং এমনকি সারাদিন ধরে কোনো নির্দিষ্ট প্রবণতা নাও দেখা যেতে পারে।
ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ:
বুধবারের ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টগুলোর মধ্যে কেবল ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির সদস্য থমাস বার্কিনের বক্তব্য উল্লেখযোগ্য। মনে রাখা উচিত, ফেডারেল রিজার্ভ সেপ্টেম্বরে সুদের হার কমাবে কি না তা নিয়ে বর্তমানে মার্কেটে তীব্র বিতর্ক চলছে। বেশিরভাগই মনে করছেন যে ফেড সুদের হার কমাবে, তবে সবকিছু নির্ভর করছে আসন্ন কর্মসংস্থান ও মুদ্রাস্ফীতি প্রতিবেদনের ফলাফলের উপর। যেকোনো অবস্থাতেই, বর্তমানে ফেডের আর্থিক নীতিমালা নমনীয়করণের পক্ষে ভোট দেয়ার জন্য পর্যাপ্ত "সদস্য" নেই।
ফেড সেপ্টেম্বরে মূল সুদের হার না কমালে সেটি ডলারের জন্য ইতিবাচক হবে। তবে এটি মার্কিন মুদ্রাকে তুলনামূলকভাবে কতটা সহায়তা করতে পারবে তা নিয়ে অনিশয়তা রয়েছে, কারণ এতে শুধুমাত্র আর্থিক নীতিমালা অপরিবর্তিত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার কমানো হবে, তবে এটি কবে হবে এবং কত দ্রুত পরবর্তীতে আবারও আর্থিক নীতিমালা নমনীয় করা হবে তা এখনো স্পষ্ট নয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও ফেডের উপর চাপ সৃষ্টি করছেন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আরও নিয়ন্ত্রণযোগ্য করার জন্য ফেডের সদস্য পরিবর্তনের চেষ্টা করছেন।
ট্রেডারদের জন্য বাণিজ্য যুদ্ধই মূল আলোচ্য বিষয় হসেবে রয়ে গেছে। যেহেতু বাণিজ্য যুদ্ধ প্রশমনের কোনো লক্ষণ নেই, তাই মধ্যমেয়াদে ডলার ক্রয়ের কোনো যৌক্তিকতাও নেই। আগের মতোই, মার্কিন মুদ্রার মূল্য শুধুমাত্র মাঝে মাঝে টেকনিক্যাল বিষয় বা নির্দিষ্ট ইভেন্ট/প্রতিবেদনের ভিত্তিতে স্বল্পমেয়াদে ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে—তার বেশি কিছু নয়।
উপসংহার:
সপ্তাহের তৃতীয় দিনের ট্রেডিংয়ে, মূলত টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপটের উপর নির্ভর করে উভয় কারেন্সি পেয়ারের ট্রেডিং করা হবে। 1.1655–1.1666 এরিয়ার কাছে ইউরোর আরও দুটি সেল সিগন্যাল গঠিত হয়েছে; তাই 1.1571 লেভেলের দিকে স্বল্পমেয়াদে ইউরোর দরপতনের সম্ভাবনা রয়েছে। রাতেরবেলা 1.3466–1.3475 এরিয়ার কাছে পাউন্ড স্টার্লিংয়ের একটি নতুন সেল সিগন্যাল গঠিত করেছে, তাই পাউন্ডেরও দরপতনের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, ডলারের দর বৃদ্ধির জন্য খুবই সীমিত কারণ রয়েছে, এবং আজ আবারও দুর্বল মাত্রার অস্থিরতা দেখা যেতে পারে।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:
- সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
- ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
- ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
- MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
- নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
- স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।
চার্টে কী কী আছে:
সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।