ফেডারেল রিজার্ভের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নজিরবিহীন এবং ক্রমবর্ধমান আক্রমণ উল্টো প্রভাব ফেলতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদি ঋণের খরচ বাড়িয়ে ফিন্যান্সিয়াম মার্কেট এবং অর্থনীতিকে প্রভাবিত করবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপর ক্রমাগত প্রকাশ্য চাপ—বিশেষত সুদের হার কমানোর দাবি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ—ফেড এবং এর স্বাধীনতার প্রতি আস্থা ক্ষুণ্ণ করছে। মুদ্রানীতিতে রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন বিনিয়োগকারীরা মার্কিন ঋণভিত্তিক ইন্সট্রুমেন্ট কিনতে গেলে বেশি রিস্ক প্রিমিয়াম চাইতে পারেন, যা সরকারের পাশাপাশি কর্পোরেশন এবং ভোক্তাদের জন্য ঋণের খরচ বাড়াবে। দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ সুদের হার ট্রেডারদের জন্য বিনিয়োগ ব্যয় এবং ভোক্তাদের জন্য গাড়ি, বাড়ি এবং অন্যান্য বড় ক্রয়ের ঋণকে আরও ব্যয়বহুল করে তুলতে পারে। এর ফলে ব্যয় হ্রাস, ব্যবসায়িক কার্যকলাপের পতন এবং এমনকি অর্থনৈতিক মন্দাও দেখা যেতে পারে।
এছাড়াও, মুদ্রানীতিতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ রিজার্ভ কারেন্সি হিসেবে মার্কিন ডলারের প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থাকে দুর্বল করতে পারে। যদি বিনিয়োগকারীরা ফেডের স্বাধীনতার প্রতি আস্থা হারান, তবে তারা তাদের বিনিয়োগ অন্য মুদ্রায় স্থানান্তর করতে শুরু করতে পারেন, যা ডলারের দুর্বলতা এবং উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি সৃষ্টি করবে। দীর্ঘমেয়াদে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হলে দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক কল্যাণে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
উল্লেখযোগ্য যে, ট্রাম্প আবারও ফেডের সদস্যদের তীব্র সমালোচনা করেছেন। গত দুই সপ্তাহে তিনি কেবল সুদের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলকেই আক্রমণ করেননি, বরং ফেডের গভর্নর লিসা কুকের অপসারণের ঘোষণাও দিয়েছেন।
তবে, অনেক অর্থনীতিবিদের মতে, ফেডের স্বল্পমেয়াদী সুদের হারের উপর নিয়ন্ত্রণ থাকলেও, 10-বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের ইয়িল্ড—যা সারা বিশ্বের ট্রেডাররা রিয়েল টাইমে নির্ধারণ করে—মূলত নির্ধারণ করে আমেরিকানরা ট্রিলিয়ন ডলারের মর্টগেজ, ব্যবসায়িক ঋণ এবং অন্যান্য দেনার জন্য কত টাকা পরিশোধ করবে।
গত সপ্তাহের শেষে, পাওয়েল ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে তিনি আগামী মাস থেকেই মুদ্রানীতির নমনীয়করণ শুরু করতে প্রস্তুত। তবে, দীর্ঘমেয়াদি বন্ড এবং তাদের ইয়েল্ড স্থায়ীভাবে উচ্চ রয়ে গেছে। প্রধান কারণ হলো শুল্ক, যা ইতোমধ্যেই উচ্চ মুদ্রাস্ফীতিকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। ট্রাম্পের কর হ্রাস আগামী বছর অতিরিক্ত প্রণোদনা হয়ে মুদ্রাস্ফীতি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এর সঙ্গে যদি যোগ হয় এই উদ্বেগ যে প্রেসিডেন্টের প্রতি অনুগত ফেড খুব দ্রুত এবং অতিরিক্তভাবে সুদের হার কমাতে পারে—তাহলে মুদ্রাস্ফীতির মোকাবিলাকারী হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতি আস্থা ক্ষুণ্ণ হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি সুদের হার বর্তমানের চেয়েও বেশি হতে পারে, যা অর্থনীতির উপর চাপ সৃষ্টি করবে এবং অন্য মার্কেটকেও অস্থিতিশীল করতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে, শুক্রবার পাওয়েলের বক্তব্য সত্ত্বেও মার্কিন ডলারের দর তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। এ কারণেই ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটের বিপরীতে ডলারের ব্যাপক দরপতন হয়নি এবং গত শুক্রবারের বুলিশ মোমেন্টাম সপ্তাহের শুরুতে অব্যাহত থাকতে দেখা যায়নি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দুর্বল মজুরি প্রবৃদ্ধি এবং ফেডারেল রিজার্ভের উপর হোয়াইট হাউসের চাপ ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগকারীদের জন্য বাস্তবিক অর্থেই সমস্যা তৈরি করছে, বিশেষ করে যখন মুদ্রাস্ফীতি এখনো ফেডের লক্ষ্যমাত্রার অনেক উপরে রয়েছে। স্বল্পমেয়াদে উল্লেখযোগ্যভাবে সস্তা অর্থ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে আসবে, তবে একইসাথে মুদ্রাস্ফীতি ব্যাপকভাবে বাড়িয়ে দেবে। বাজেট ঘাটতি এবং উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি দীর্ঘমেয়াদী বন্ডের ইয়েল্ডকে সমর্থন করবে, পাশাপাশি মার্কিন ডলারের চাহিদাও বজায় রাখবে।
EUR/USD-এর টেকনিক্যাল চিত্র
বর্তমানে ক্রেতাদের এই পেয়ারের মূল্যকে 1.1630 লেভেলে পুনরুদ্ধার করতে হবে। কেবল এটিই 1.1660 লেভেল টেস্ট করার সুযোগ দেবে। সেখান থেকে এই পেয়ারের মূল্যের 1.1690 পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে, যদিও বড় ট্রেডারদের সমর্থন ছাড়া এটি অর্জন করা বেশ কঠিন হবে। সবচেয়ে দূরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হলো 1.1740 এরিয়া। দরপতনের ক্ষেত্রে, আমি কেবল মূল্য 1.1600 লেভেলের কাছাকাছি থাকা অবস্থায় উল্লেখযোগ্য ক্রয় কার্যক্রমের আশা করছি। যদি সেখানে সক্রিয়ভাবে এই পেয়ার ক্রয় না করা যায়, তবে 1.1565-এর লেভেল পুনরায় টেস্ট হওয়ার জন্য অপেক্ষা করা বা 1.1530 থেকে লং পজিশন ওপেন করা উত্তম হবে।
GBP/USD-এর টেকনিক্যাল চিত্র
পাউন্ডের ক্রেতাদের এখন এই পেয়ারের মূল্যের 1.3490 লেভেলের নিকটবর্তী রেজিস্ট্যান্স ব্রেক করাতে হবে। কেবল তখনই এই পেয়ারের মূল্যকে 1.3523-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে নিয়ে যাওয়ার সম্ভব হবে, যার উপরে ওঠা কঠিন হবে। সবচেয়ে দূরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হলো 1.3560 লেভেল। দরপতনের ক্ষেত্রে, মূল্য 1.3440 লেভেলে থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। তাঁরা সফল হলে, মূল্য এই রেঞ্জ ব্রেক করলে সেটি ক্রেতাদের নিয়ন্ত্রণ উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করবে এবং GBP/USD পেয়ারের মূল্যকে 1.3420-এ লেভেলে নামিয়ে আনবে, যেখানে 1.3390 পর্যন্ত আরও দরপতনের সম্ভাবনা রয়েছে।