সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের পর্যালোচনা:

বুধবার খুব অল্প সংখ্যক সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশের কথা রয়েছে, যার মধ্যে কেবল একটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ—সেটি হচ্ছে যুক্তরাজ্যের মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, দেশটির ভোক্তা মূল্য সূচক (CPI) কমে ৩.৪%-৩.৫%-এ নেমে আসবে, যার ফলে ব্যাংক অব ইংল্যান্ড আগামীকালের বৈঠকে আর্থিক নীতিমালা আরও একধাপ নমনীয় করতে সক্ষম হতে পারে। নতুন ট্রেডারদের মনে রাখা উচিত যে, মুদ্রানীতির নমনীয়করণ যেকোনো কারেন্সির মূল্যের "বিয়ারিশ" প্রবণতার কারণ হিসেবে কাজ করে। তবে যদি মূল্যস্ফীতির হার ৩.৫%-এ না নেমে আসে বা বরং নভেম্বর মাস শেষে বৃদ্ধি পায়, তাহলে বৃহস্পতিবার সুদের হার সম্ভাব্য হ্রাসের সম্ভাবনাই প্রশ্নের মুখে পড়ে যাবে। এই পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য সারাদিনজুড়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।
ইউরোজোনে আজ নভেম্বর মাসের মূল্যস্ফীতির দ্বিতীয় অনুমান প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে, তবে এটি খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন নয়। দ্বিতীয় অনুমান সাধারণত প্রথম অনুমান থেকে খুব বেশি ভিন্ন হয় না এবং ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ইসিবি) বর্তমানে মূল্যস্ফীতির স্থিতিশীলতা নিয়ে খুব একটা উদ্বেগের মধ্যে নেই। অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে আজ কোনো অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না।
ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ:

বুধবার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফান্ডামেন্টাল ইভেন্ট নির্ধারিত রয়েছে, মূলত ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির বেশ কয়েকজন সদস্যের বক্তব্য দেয়ার কথা রয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ফেডারেল রিজার্ভ তাদের সর্বশেষ বৈঠক গত সপ্তাহে আয়োজন করেছিল, যেখানে মূল সুদের হার হ্রাস করা হয় এবং ভবিষ্যতে আরও নমনীয়করণের বিষয়ে 'অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণের' অবস্থান গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে গতকাল প্রকাশিত শ্রমবাজার ও বেকারত্ব বিষয়ক প্রতিবেদন এবং আগামীকাল প্রকাশিতব্য মূল্যস্ফীতির প্রতিবেদন মিলিয়ে এই মুহূর্তে ফেডের কর্মকর্তাদের মনোভাব উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। এজন্য মার্কেটের ট্রেডারদের মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিনিধিদের বক্তব্যগুলো ভালোভাবে বিশ্লেষণ করা উচিত।
উপসংহার:
সপ্তাহের তৃতীয় দিনের ট্রেডিংয়ে উভয় কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের আবারো ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হতে পারে, কারণ দুটি পেয়ারের ক্ষেত্রেই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা এখনও অব্যাহত রয়েছে। আজ ব্রিটিশ পাউন্ডের ট্রেডিং মূলত প্রকাশিত মূল্যস্ফীতির প্রতিবেদনের ফলাফলের উপর নির্ভর করবে, অন্যদিকে উভয় পেয়ারেরই ট্রেডিং মূলত নিকটবর্তী টেকনিক্যাল লেভেল এবং এরিয়ার ওপর নির্ভর করবে। ইউরোর জন্য এই এরিয়া হলো 1.1745–1.1754 এবং পাউন্ডের জন্য এটি হলো 1.3413–1.3421।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:
- সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
- ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
- ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
- MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
- নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
- স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।
চার্টে কী কী রয়েছে:
- সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
- লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
- MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।