প্রধান Quotes Calendar ফোরাম
flag

FX.co ★ EUR/USD পেয়ারের সাপ্তাহিক পূর্বাভাস: ISM সূচক, ননফার্মস, এবং...

parent
ফরেক্স বিশ্লেষণ:::2026-01-05T04:40:08

EUR/USD পেয়ারের সাপ্তাহিক পূর্বাভাস: ISM সূচক, ননফার্মস, এবং...

আসন্ন সপ্তাহের অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডার গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টে পরিপূর্ণ রয়েছে। EUR/USD পেয়ারের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সপ্তাহ হতে পারে, বিশেষ করে গত তিন সপ্তাহ ধরে এই পেয়ার যে 1.17-এর রেঞ্জে ট্রেড করা হচ্ছে, সেই রেঞ্জ থেকে এবার মূল্যের বের হয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এখন মূল প্রশ্ন হলো—এই পেয়ারের মূল্য কোনদিকে যাবে: বিক্রেতাদের অনুকূলে গিয়ে নিম্নমুখী হবে, না কি ক্রেতাদের পক্ষে ঊর্ধ্বমুখী হবে?

EUR/USD পেয়ারের সাপ্তাহিক পূর্বাভাস: ISM সূচক, ননফার্মস, এবং...

সপ্তাহের শুরুতে, অর্থাৎ সোমবার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচক — ISM উৎপাদন সূচক প্রকাশিত হবে। গত নভেম্বর মাসে এই সূচক কমে 48.2-এ পৌঁছায়, যা জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন। পরপর দুই মাস ধরে এই সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। এই সূচকের অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য উপ-সূচকের ফলাফলও হতাশ করেছে। বিশেষ করে, নতুন অর্ডার সূচক 49.4 থেকে কমে গিয়ে দাঁড়ায় 47.4-এ (একটানা তিন মাস ধরে নিম্নমুখী হচ্ছে—যা দুর্বল চাহিদা নির্দেশ করে), এবং কর্মসংস্থান সূচক কমে 44.0-এ পৌঁছিয়েছে (আগের মাসে ছিল 46.0)। অর্থাৎ, ISM উৎপাদন সূচকের ফলাফল থেকে এটি স্পষ্ট যে উৎপাদন খাতে চাহিদা কমেছে এবং কর্মসংস্থান হ্রাস পেয়েছে।

প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডিসেম্বরে এই সূচক 48.2 থেকে বেড়ে 48.4-এ যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে তারপরও সূচকটি এখনো 'সংকোচন' অঞ্চলে থেকে যাবে। ডলার সহায়তা পাবে কেবল তখনই যদি সূচকটির ফলাফল পূর্বাভাসকে অতিক্রম করে ৫০-এর স্তর ছাড়িয়ে যায়—তবে এই সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। বরং বিপরীতমুখী পরিস্থিতির সম্ভাবনাই বেশি। ISM সূচকের জন্য বেশিরভাগ পরোক্ষ সংকেত—দুর্বল অর্ডারের পরিমাণ, কর্মসংস্থান হ্রাস, মূল্যস্ফীতির চাপ, রপ্তানিতে দুর্বলতা ইত্যাদি—এর চেয়েও খারাপ ফলাফলের পূর্বাভাস দিচ্ছে। সেইসঙ্গে ডিসেম্বরে প্রকাশিত বিভিন্ন আঞ্চলিক উৎপাদন সূচকের (FRB নিউইয়র্ক, ফিলাডেলফিয়া এবং রিচমন্ড) নেতিবাচক ফলাফলও ইঙ্গিত দেয় যে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প খাতের সংকোচন অব্যাহত রয়েছে।

ISM থেকে পরিষেবা সংক্রান্ত PMI সূচক দু'দিন পর — অর্থাৎ বুধবার, ৭ জানুয়ারি প্রকাশিত হবে। পূর্বাভাস অনুযায়ী সূচকটি সামান্য কমে 52.6 থেকে 52.2-এ নেমে আসতে পারে, তবে তারপরও সূচকটি 'সম্প্রসারণ' অঞ্চলে অবস্থান করবে। তবে যদি এই সূচক উল্লেখযোগ্য হারে কমে গিয়ে ৫০-এর দিকে যায় বা হঠাৎ করে সংকোচন সীমায় পৌঁছে যায়, তাহলে তা মার্কিন ডলারের উপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করবে।

ISM সূচক ছাড়াও EUR/USD পেয়ারেওর ট্রেডাররা যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার সংক্রান্ত প্রতিবেদনের দিকেও দৃষ্টি দেবে। বুধবার ADP এবং JOLTS থেকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, আর শুক্রবার ডিসেম্বরের ননফার্ম পেরোল প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে।

প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ADP প্রতিবেদনে দেখা হবে যে বেসরকারি খাতে ৫০,০০০ কর্মসংস্থান যুক্ত হয়েছে, যেখানে আগের মাসে ৩০,০০০ কর্মসংস্থান হ্রাস পেয়েছিল। যদিও এটি সরকারি খাতে কর্মসংস্থানের প্রতিবেদন সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত নয়, তবুও এটি EUR/USD মার্কেটে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে যদি এটির ফলাফল আবারও নেতিবাচক আসে।

বুধবারই প্রকাশিত হবে নভেম্বরের JOLTS প্রতিবেদন (সংগত অর্থে, এটি আগের মাসের শেষ কার্যদিবস অনুযায়ী চাকরির শূন্যপদ সংক্রান্ত প্রতিবেদন)। অক্টোবর মাসে এই সূচকটি ৭.৬৭ মিলিয়ন ছিল, যা ২০২৫ সালের মে মাসের পর সর্বোচ্চ হার ছিল। পূর্বাভাস অনুযায়ী, নভেম্বরে এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে এবং সূচকটি ৭.৭৩ মিলিয়নে পৌঁছাবে। যদিও সূচকটি বেশ আগের সময়ের ফলাফল প্রতিফলিত করে, তবুও সূচকটির নেতিবাচক ফলাফল প্রকাশিত হলে তা সামগ্রিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারের দুর্বল পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিতে পারে।

তবে সপ্তাহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন হবে ননফার্ম পেরোল (NFP), যা শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি প্রকাশিত হবে। এটি মার্কিন ফেডারেল সরকারি কার্যক্রমে বিরতির পরে প্রথম 'স্পষ্ট' মার্কিন শ্রমবাজার সংক্রান্ত প্রতিবেদন হবে। যেমনটি জানা গেছে, দীর্ঘ সময় ধরে ফেডারেল সরকারের কার্যক্রম স্থগিত থাকায় কিছু সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশে ব্যাঘাত ঘটে। বিশেষ করে, অক্টোবর মাসের নিয়োগ প্রতিবেদন আলাদাভাবে প্রকাশ হয়নি, বরং নভেম্বরের প্রতিবেদনের মধ্যে একত্রিত করা হয়। ফলে, প্রতিবেদনে সংগ্রহে ঘাটতি থাকায় কিছু সূচক বিকৃত ফলাফল প্রদর্শন করেছে। এই কারণে ডিসেম্বরের ননফার্ম পেরোল প্রতিবেদন বর্তমান শ্রমবাজার পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য EUR/USD ট্রেডারদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডিসেম্বরে বেকারত্ব সামান্য কমে ৪.৬% থেকে ৪.৫%-এ নামতে পারে (যা বহু বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল), এবং ননফার্ম পেরোল ৫৫,০০০-এ বৃদ্ধি পেতে পারে, যেখানে নভেম্বর মাসে সূচকটি ৬৪,০০০ ছিল। গড় ঘণ্টাপ্রতি মজুরি বৃদ্ধির হার পূর্ববর্তী মাসের ৩.৫%-এ অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

সামগ্রিকভাবে, প্রতিবেদনটি তুলনামূলকভাবে দুর্বল ফলাফল প্রদর্শন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমনকি যদি প্রকাশিত প্রতিবেদনের ফলাফল পূর্বাভাসের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয়, তবুও মার্কিন ডলার সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের চাপের মধ্যে থাকবে। কিন্তু যদি বেকারত্ব হার আবারও বেড়ে যায় এবং পেরোল বৃদ্ধির হার ৫৫,০০০-এর নিচে আসে, তাহলে মার্কেটে ডলারের ব্যাপক দরপতন হতে দেখা যেতে পারে, এবং ফেডের ভবিষ্যৎ নীতিগত পদক্ষেপ নিয়ে 'ডোভিশ বা নমনীয়' অবস্থান গ্রহণের প্রত্যাশা আরও জোরদার হবে। মনে করিয়ে দিই, বর্তমান পরিস্থিতি অনুসারে মার্চে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনাকে ৫০/৫০ হিসেবে দেখা হচ্ছে (CME ফেডওয়াচ অনুযায়ী)। ননফার্ম পেরোল প্রতিবেদনের দুর্বল ফলাফল এই অবস্থানকে 'ডোভিশ না নমনীয়করণের' দিকেই সরিয়ে দিতে পারে।

এছাড়া আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য: সোমবার মার্কেটে ভেনেজুয়েলায় সংঘটিত ঘটনার প্রতি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, শনিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় একটি বৃহৎ সামরিক অভিযান চালায়, যার ফলে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়।

স্বল্পমেয়াদে (সোমবার), এই ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে মার্কিন ডলার 'নিরাপদ বিনিয়োগ' হিসেবে শক্তিশালী হতে পারে। তবে মধ্যমেয়াদে (সপ্তাহজুড়ে), পরিস্থিতি নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক মার্কেটে এই ঘটনার প্রতি কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানানো হয় তার ওপর। তেলের সরবরাহের স্থিতিশীলতা, রাষ্ট্রগুলোর প্রতিক্রিয়া এবং ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেট নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মতামত—এসবই EUR/USD পেয়ারের মূল্যের দিক নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখবে। যদি উত্তেজনার মাত্রা হ্রাস পায় (অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো দেশের পক্ষ থেকে আর কোনো সক্রিয় পদক্ষেপ না নেয়া হয়), তবে EUR/USD পেয়ারের মূল্যের স্বাভাবিক মৌলিক চালিকাশক্তির প্রভাব আবার শুরু হবে কাছে।

টেকনিক্যাল দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, দৈনিক চার্টে এই পেয়ারের মূল্য এখন বলিংগার ব্যান্ডের মধ্যম লাইনে অবস্থান করছে, তবে টেনকান-সেন লাইনের নিচে, তবে কুমো ক্লাউড ও কিজুন-সেন লাইনের উপরে রয়েছে। অর্থাৎ, যদিও সামগ্রিকভাবে 'বিয়ারিশ' প্রবণতা বিদ্যমান, তথাপি কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা পাওয়া যাচ্ছে। নিম্নমুখী প্রবণতা থাকা সত্ত্বেও EUR/USD পেয়ারের বিক্রেতারা গত তিন সপ্তাহ ধরে মূল্যের 1.1710–1.1800 রেঞ্জের নিচের সীমা ব্রেক করাতে পারেনি। ফলে, মূল সাপোর্ট লেভেল 1.1690 (D1-এ কুমো ক্লাউডের উপরের সীমা) স্পর্শ করাও হয়নি। যদি 1.17-এর এরিয়ার নিচে নিম্নমুখী মোমেন্টাম 'প্রথাগতভাবে' স্তিমিত হয়ে যায়, তাহলে লং পজিশন বিবেচনায় আনা যেতে পারে, যেখানে প্রথম লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে এই পেয়ারের মূল্য 1.1760-এর (D1-এ টেনকান-সেন লাইন) দিকে যেতে পারে।

Analyst InstaForex
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন:
parent
loader...
all-was_read__icon
You have watched all the best publications
presently.
আমরা ইতোমধ্যে আপনার জন্য আকর্ষণীয় কিছু সন্ধান করছি।..
all-was_read__star
Recently published:
loader...
More recent publications...