শুক্রবারের ট্রেডিংয়ের পর্যালোচনা:
EUR/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

গত শুক্রবার EUR/USD পেয়ারের মূল্যের উভয়দিকে মুভমেন্ট পরিলক্ষিত হয়েছে, তবে দিনের শেষভাগে এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতার সাথে ট্রেডিং সেশন শেষ হয়েছে। টেকনিক্যাল দৃষ্টিকোণ থেকে এটি বেশ স্বাভাবিক, কারণ এই পেয়ারের মূল্য পূর্ববর্তী অ্যাসেন্ডিং ট্রেন্ডলাইন ইতোমধ্যে ব্রেক করে গেছে। তবে মনে রাখতে হবে, গত দুই সপ্তাহে দৈনিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্য 1.1400–1.1830-এর মধ্যে গঠিত ছয় মাসব্যাপী দৃশ্যমান সাইডওয়েজ চ্যানেলের উপরের সীমানা, অর্থাৎ 1.1800–1.1830 এরিয়া অতিক্রম করতে ব্যর্থ হয়েছে। আমাদের মতে, এই ব্যর্থতাই সম্প্রতি পরিলক্ষিত এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা মূল কারণ।এদিকে উইকেন্ডে এক অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটে—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালানোর নির্দেশ দেন, এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মার্কিন সেনাবাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে। এখন মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসবাদ ও মাদক সংশ্লিষ্ট অভিযোগে বিচারের সম্মুখীন হচ্ছেন। পাশাপাশি ট্রাম্পের নজরে ইতোমধ্যে কিউবা ও গ্রিনল্যান্ডও রয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, ট্রেডাররা এই ঘটনাকে ইতিবাচক হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে—সেদিন রাতেই মার্কিন ডলার শক্তিশালী হয়েছে ও এটির দর বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও ডলারের দর মাত্র ৪০ পিপসের মতো বৃদ্ধি পেয়েছে, যা খুব বেশি নয়। তবে টেকনিক্যাল ও মৌলিক—উভয় দিক থেকেই সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ডলার কিছুটা সহায়তা পেয়েছে।
EUR/USD 5M পেয়ারের চার্ট

৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, শুক্রবার 1.1745–1.1755 এরিয়া থেকে দুটি রিবাউন্ডের মাধ্যমে দুটি সেল ট্রেড সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। যারা নতুন বছরের শুরুতেই উইকেন্ডের আগে ট্রেড করতে চেয়েছিলেন, তাদের জন্য এই সিগন্যালগুলো ব্যবহার করে ট্রেড করার সুযোগ ছিল। প্রথম সিগন্যাল অনুযায়ী এই পেয়ারের মূল্য প্রায় ২০ পিপস কমেছিল, দ্বিতীয়টিতেও প্রায় সমান মুভমেন্ট পরিলক্ষিত হয়েছে, এবং পরে রাতের সেই নিম্নমুখী প্রবণতা সোমবার পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। বর্তমানে, এই পেয়ারের মূল্য প্রায় 1.1666-এর কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, যা ছিল সবচেয়ে নিকটবর্তী লক্ষ্যমাত্রা। সুতরাং, দুটি সিগন্যাল থেকেই কার্যকরভাবে মুনাফা করা যেত।
সোমবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, এখন এই পেয়ারের মূল্যের 'বিয়ারিশ' প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1800–1.1830 এরিয়া অতিক্রম করতে পারেনি, যা দৈনিক টাইমফ্রেমের সাইডওয়েজ চ্যানেলের উপরের সীমা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাই টেকনিক্যাল কারণে এই দরপতন স্বাভাবিক হিসেবে বিবেচনা করা যায়, এবং 1.1400 লেভেল পর্যন্ত এই দরপতনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে সামগ্রিক মৌলিক এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ অনুযায়ী মার্কিন ডলারের প্রেক্ষাপট এখনও নেতিবাচক থাকায়, আমরা মধ্যমেয়াদে EUR/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার প্রত্যাশা করছি।
সোমবার, নতুন ট্রেডাররা 1.1655–1.1666 এরিয়া থেকে ট্রেডের সুযোগ খুঁজতে পারেন। এই এরিয়া থেকে যদি এই পেয়ারের মূল্য রিবাউন্ড করা, তাহলে মূল্যের 1.1745–1.1755 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে। অন্যদিকে, এই পেয়ারের মূল্য যদি এই এরিয়ার নিচে থাকা অবস্থায় ট্রেডিং সেশন সেহষ হয়, তাহলে শর্ট পজিশন হোল্ড করে রাখা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে 1.1584–1.1591 লেভেল নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে নিম্নোক্ত লেভেলগুলো ব্যবহার করে ট্রেড করা যেতে পারে: 1.1354–1.1363, 1.1413, 1.1455–1.1474, 1.1527–1.1531, 1.1550, 1.1584–1.1591, 1.1655–1.1666, 1.1745–1.1754, 1.1808, 1.1851, 1.1908, 1.1970–1.1988। সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে কোনো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে গুরুত্বপূর্ণ ISM উৎপাদন সংক্রান্ত সূচক প্রকাশিত হবে, যেটির ফলাফলের মার্কেটে প্রভাব বিস্তার করতে পারে।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:
- সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
- ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
- ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
- MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
- নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
- স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।
চার্টে কী কী রয়েছে:
- সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
- লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
- MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।