সোমবারের ট্রেডিংয়ের পর্যালোচনা:
GBP/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

সোমবার GBP/USD পেয়ারের মূল্যের মুভমেন্ট থেকে স্পষ্টভাবে এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেছে যে মার্কিন ডলার আসলেই একটি 'নিরাপদ' অ্যাসেট কিনা। এর উত্তরে সহজভাবে বলা যায়: "না।" EUR/USD পেয়ারের ক্ষেত্রে অন্তত কিছুটা দরপতন দেখা গেলেও, GBP/USD পেয়ারের এমন কোনো বাড়তি দরপতনের চিহ্নও দেখা যায়নি। বরং সকাল থেকেই এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয়েছিল এবং মার্কিন ISM ম্যানুফ্যাকচারিং PMI সূচক প্রকাশের পর সেটি আরও তীব্র হয়। ডিসেম্বর মাসে দেশটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম সূচক কমে 47.9 পয়েন্টে নেমে এসেছে, যেখানে বিশ্লেষকরা সূচকটি 48.3 পয়েন্টে বৃদ্ধি পাবে বলে প্রত্যাশা করেছিলেন। যদিও 48.3 পয়েন্টও ৫০-এর নিচে থাকার কারণে দুর্বল ফলাফল হিসেবেই বিবেচিত হতো, তবে অন্তত এটি মার্কিন শিল্প খাত পুনরুদ্ধারের একটি সূচনা সংকেত দিত। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।
এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি তৃতীয় প্রান্তিকে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখালেও—অনেকেই বড় ধরনের মন্থরতার প্রত্যাশা করছেন। বিগত এক বছরে প্রায় সব সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকের ফলাফল দুর্বল ছিল, যার ভিত্তিতে বলা যায় যে, শুধুমাত্র মৌলিক অর্থনৈতিক কারণে মার্কিন ডলারে দরপতনের ধারাবাহিকতা দীর্ঘায়িত হতে পারে।
GBP/USD পেয়ারের 5M চার্ট

৫-মিনিট টাইমফ্রেমে সোমবার বেশ কয়েকটি সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল, যদিও দিনের প্রথমার্ধে এই পেয়ারের মূল্যের একদম এলোমেলো মুভমেন্ট পরিলক্ষিত হয়েছে এবং স্পষ্ট কোনো কৌশলের অভাব অনুভূত হচ্ছিল। প্রথম সেল সিগন্যালটি রাতের মধ্যেই তৈরি হয়েছিল, তবে তা ভুল সিগন্যাল ছিল। দ্বিতীয় ও তৃতীয় সিগন্যাল 1.3437–1.3446 এরিয়ার কাছাকাছি গঠিত হলেও সেগুলোও কার্যকর করা যায়নি। পরবর্তীতে শুধুমাত্র ISM সূচক প্রকাশের পর ওপেন করা লং ট্রেড থেকেই আগের ট্রেডগুলোর লোকসান কিছুটা পুষিয়ে নেয়া গেছে।
মঙ্গলবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, GBP/USD পেয়ারের মূল্য ট্রেন্ডলাইনের নিচে কনসোলিডেট করেছে; তবে এখন পর্যন্ত কোনো সুস্পষ্ট বিয়ারিশ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে না। মধ্যমেয়াদে মার্কিন ডলারের উল্লেখযোগ্য মূল্য বৃদ্ধির জন্য এখনো কার্যকর কোনো মৌলিক কারণ নেই; তাই আমরা শুধুমাত্র এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী মুভমেন্টের প্রত্যাশা করছি। সামগ্রিকভাবে, আমরা এখনও মনে করি যে ২০২৫ সালে পরিলক্ষিত বৈশ্বিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরায় শুরু হবে এবং পরবর্তী কয়েক মাসের মধ্যে GBP/USD পেয়ারের মূল্য 1.4000 লেভেলে পৌঁছাতে পারে।
মঙ্গলবার, যেসকল ট্রেডাররা নতুন করে পজিশনে এন্ট্রি করতে চান, তাদের জন্য সুসংবাদ হলো—এই পেয়ারের মূল্য 1.3529–1.3543 লেভেলের উপরে কনসোলিডেট করেছে, তাই এখন লং পজিশন বিবেচনায় আনা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3574–1.3590 এবং পরবর্তীতে 1.3643–1.3652 লেভেলের দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। অন্যদিকে, যদি এই পেয়ারের মূল্য আবার এই লেভেলের নিচে কনসোলিডেট করে, তাহলে মূল্যের 1.3437–1.3446 লেভেলের দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে শর্ট পজিশন ওপেন করা যেতে পারে।
৫-মিনিট টাইমফ্রেমে বর্তমানে উল্লিখিত লেভেল থেকে ট্রেড করা যেতে পারে:: 1.3043, 1.3096–1.3107, 1.3203–1.3212, 1.3259–1.3267, 1.3319–1.3331, 1.3437–1.3446, 1.3529–1.3543, 1.3574–1.3590, 1.3643–1.3652, 1.3682, 1.3763।
মঙ্গলবার যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশেই ডিসেম্বর মাসের ব্যবসায়িক কার্যক্রম সূচকের দ্বিতীয় মূল্যায়ন প্রকাশিত হবে। তাই আজ মার্কেটে এই পেয়ারের মূল্যের অস্থিরতার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী
- সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
- ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
- ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
- MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
- নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
- স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।
চার্টে কী কী রয়েছে
- সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
- লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
- MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।