যখন বিটকয়েনের মূল্য বারংবার $95,000 লেভেল অতিক্রম করতে ব্যর্থ হচ্ছে এবং সেই লেভেল থেকে প্রতিবারই নিম্নমুখী হচ্ছে, ঠিক তখনই মার্কিন সিনেটর টিম স্কট জানিয়েছেন যে—আগামী সপ্তাহেই মার্কিন সিনেটে ক্রিপ্টো মার্কেটের কাঠামোগত নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত ক্ল্যারিটি বিলটি অনুমোদনের জন্য তোলা হতে পারে।

এই ঘোষণা ক্রিপ্টো মার্কেটে নতুন করে আশাবাদের সঞ্চার করেছে। মাসের পর মাস অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে থাকা বিনিয়োগকারীরা এখন আশা করছেন যে একটি সুস্পষ্ট নিয়ন্ত্রণ কাঠামো প্রাতিষ্ঠানিক মূলধন আকৃষ্ট করতে পারে এবং বিটকয়েনের মূল্যকে নতুন রেকর্ড উচ্চতার নিয়ে যেতে পারে। তবে বাড়তি উচ্ছ্বাসের আগে কিছুটা সংযম রাখা দরকার। আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল এবং বিল পাস হয়ে গেলেও, সঙ্গে সঙ্গেই মার্কেটে বড় অঙ্কের মূলধন প্রবাহ শুরু হবে—এমনটা নিশ্চিত নয়। অনেক কিছুই ক্ল্যারিটি বিলের নির্দিষ্ট ধারা ও শর্তগুলোর উপর এবং মার্কেটের বড় বিনিয়োগকারীরা সেগুলো কতটা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছে তার উপর নির্ভর করবে।
এই বিলের লক্ষ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিপ্টো ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটি স্পষ্ট এবং নির্ধারিত নীতিমালা তৈরি করা। মার্কিন কংগ্রেসের হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস ২০২৫ সালের জুলাই মাসেই এই বিলটির অনুমোদন দেয়। যদি সিনেট কোনো আমলাতান্ত্রিক পরিবর্তন ছাড়াই বিলটি পাস করে, তাহলে তা সরাসরি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হবে। যদিও এখনো পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো সর্বসম্মত অবস্থান গঠিত হয়নি। ডেমোক্র্যাটরা ডিফাই (DeFi) ইন্টারফেসগুলোকে নিয়ন্ত্রনের আওতায় আনতে আরও কঠোর নিয়মনীতি আরোপ করতে চাইছে, যা সমালোচকদের দৃষ্টিতে অত্যধিক কঠোর, এবং তারা একইসঙ্গে OFAC-কে অবৈধ কার্যকলাপ দমন করতে বাড়তি ক্ষমতা দিতে চাচ্ছে।
মাত্র একদিন আগেই মার্কেটে গুঞ্জন ছিল যে ক্ল্যারিটি বিলের ভোট স্থগিত হতে পারে। এখন কিছু বিশেষজ্ঞ আশঙ্কা করছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আইনের চূড়ান্ত অনুমোদনের সময়সীমা পিছিয়ে ২০২৭–এ গড়াতে পারে এবং ২০২৯ সালের আগেই এর পূর্ণ বাস্তবায়ন করা না–ও সম্ভব হতে পারে।
ট্রেডিংয়ের পরামর্শ:

টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, বিটকয়েনের ক্রেতারা বর্তমানে এটির মূল্যকে $93,200 লেভেলে ফেরাতে চাইছে—যা সরাসরি বিটকয়েনের মূল্যকে $95,000 এবং এরপর $97,300 লেভেলের দিকে নিয়ে যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $99,400–এর কাছাকাছি লেভেলে যাওয়ার সম্ভাবনার প্রত্যাশা করা যেতে পারে। এই লেভেল ব্রেকআউট করে বিটকয়েনের মূল্য ঊর্ধ্বমুখী হলে সেটি মার্কেটে নতুন বুলিশ প্রবণতা পুনরায় শুরু হওয়ার বার্তা দিতে পারে। যদি বিটকয়েনের মূল্য কমে যায়, তাহলে মূল্য $91,300–এর কাছাকাছি থাকা অবস্থায় ক্রেতারা সক্রিয় হতে পারে। তবে যদি বিটকয়েনের মূল্য এই এরিয়ার নিচে ফিরে আসে, তাহলে এটির মূল্য দ্রুত কমে গিয়ে $89,600–এ পৌঁছাতে পারে, এবং $87,400 পর্যন্ত আরও দরপতন হতে পারে।

ইথেরিয়ামের ক্ষেত্রে, $3,280 লেভেলের উপরে সুস্পষ্টভাবে কনসোলিডেশন হলে ইথারের মূল্য সরাসরি $3,372–এ পৌঁছাতে পারে। এরপরের লক্ষ্যমাত্রা হবে $3,474–এর লেভেল। ইথেরিয়ামের মূল্য এই লেভেল অতিক্রম করলে বুলিশ সেন্টিমেন্ট উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হবে এবং ক্রয়ের আগ্রহ পুনরায় ফিরে আসবে। অন্যদিকে, যদি ইথারের মূল্য কমে যায়, তাহলে মূল্য $3,189–এর কাছাকাছি থাকা অবস্থায় ক্রেতারা সক্রিয় হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে যদি ইথেরিয়ামের মূল্য এই লেভেলের নিচে নেমে আসে, তাহলে মূল্য দ্রুত $3,105–এ নেমে যেতে পারে, এবং $2,997 পর্যন্ত আরও দরপতন হতে পারে।
চার্টে যা যা দেখা যাচ্ছে:
- লাল লাইন সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল নির্দেশ করে, যেখানে মূল্যের মুভমেন্ট থেমে যেতে পারে অথবা সক্রিয় মুভমেন্ট দেখা যেতে পারে;
- সবুজ লাইন ৫০-দিনের মুভিং অ্যাভারেজ নির্দেশ করে;
- নীল লাইন ১০০-দিনের মুভিং অ্যাভারেজ নির্দেশ করে;
- হালকা সবুজ লাইন ২০০-দিনের মুভিং অ্যাভারেজ নির্দেশ করে।
সাধারণত, যেকোনো অ্যাসেটের মূল্য এই ধরনের মুভিং অ্যাভারেজে পৌঁছালে বা অতিক্রম করলে মার্কেটে মুভমেন্ট থেমে পারে কিংবা নতুন দিকে মুভমেন্ট শুরু হতে পারে।