বুধবারের ট্রেডিংয়ের পর্যালোচনা
EUR/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

বুধবার EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্য অত্যন্ত দুর্বল মুভমেন্ট প্রদর্শন করেছে। যদিও দিনের মধ্যে অন্তত চারটি তুলনামূলকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, কিন্তু তাতেও ট্রেডাররা সক্রিয় হয়নি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন দিয়ে দৈনিক ট্রেডিং কার্যক্রম শুরু হয়, যেখানে ডিসেম্বরে বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতির হার ২%-এ পৌঁছায়, যা পূর্বাভাসের সঙ্গে পুরোপুরিভাবে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ADP, ISM এবং JOLTs থেকে বেশ কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ইতঃপূর্বে আমরা বলেছিলাম—এ প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল বেশ গুরুত্বপূর্ণ হলেও, মার্কেটের ট্রেডাররা মূলত নন-ফার্ম পেরোল এবং বেকারত্ব হার সংক্রান্ত প্রতিবেদনের উপর বেশি মনোযোগ দেবে। বাস্তবেও একই পরিস্থিতি দেখা গেছে, প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর প্রভাবে মার্কেটে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। ফলে, সারাদিনে এই পেয়ারের মূল্য মোট মাত্র ২৯ পয়েন্টের মুভমেন্ট প্রদর্শন করেছে।
যদি প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো তেমন গুরুত্বপূর্ণ না হতো, তাহলে এই পেয়ারের মূল্যের স্থবিরতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকতো না। কিন্তু উদাহরণস্বরূপ, ISM পরিষেবা খাতের PMI সূচক 54.4-এ পৌঁছেছে—যা পূর্বাভাসের চাইতে অনেক বেশি। অপরদিকে, ADP এবং JOLTs থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ফলাফল প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল ছিল। অর্থাৎ, বুধবার ডলারের দরপতন হওয়ার জন্য উল্লেখযোগ্য কারণ ছিল, এই বিষয়টি অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, এই ধরনের কোনো মুভমেন্ট দেখা যায়নি।
EUR/USD 5M পেয়ারের চার্ট

৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে বুধবার পুরো দিনজুড়ে একটিও ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়নি, মাত্র ২৯ পয়েন্টের মুভমেন্টের পরিপ্রেক্ষিতে এটি অবাক হওয়ার মতো কোনো বিষয় নয়। সর্বশেষ সেল সিগন্যালটি মঙ্গলবারে—(1.1745–1.1754 লেভেল থেকে রিবাউন্ডের ফলে) গঠিত হয়েছিল, এবং সেটি নতুন ট্রেডারদের জন্য লাভজনক ছিল। বুধবার কোনো নতুন ট্রেড ওপেন করার জন্য যৌক্তিক কোনো কারণ ছিল না।
বৃহস্পতিবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এখনও এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা গঠনের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1800–1.1830 লেভেল ব্রেক করতে ব্যর্থ হয়েছে, যা দৈনিক টাইমফ্রেমে দৃশ্যমান ফ্ল্যাট রেঞ্জের উপরের সীমা হিসেবে কাজ করছে। তাই টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপট অনুযায়ী এই পেয়ারের দরপতনের বিষয়টি যথার্থ এবং 1.1400 লেভেল পর্যন্ত দরপতন দীর্ঘায়িত হতে পারে। মার্কিন ডলারের ক্ষেত্রে সার্বিক মৌলিক ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট এখনও বেশ নেতিবাচক—এ কারণে আমরা মধ্যমেয়াদে EUR/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরায় শুরু হওয়ার প্রত্যাশা করছি।
বৃহস্পতিবার, নতুন ট্রেডাররা 1.1655–1.1666 লেভেল থেকে ট্রে করতে পারেন। এই জোন থেকে এই পেয়ারের মূল্য রিবাউন্ড করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1745–1.1754 লেভেলের দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। যদি এই পেয়ারের মূল্য দৃঢ়ভাবে এই এরিয়া ব্রেক করে নিম্নমুখী হয়, তাহলে শর্ট পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1584–1.1591 লেভেলের দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে এখন ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.1354–1.1363, 1.1413, 1.1455–1.1474, 1.1527–1.1531, 1.1550, 1.1584–1.1591, 1.1655–1.1666, 1.1745–1.1754, 1.1808, 1.1851, 1.1908, 1.1970–1.1988।
বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় ইউনিয়নে বেকারত্ব সংক্রান্ত প্রতিবেদন এবং উৎপাদক মূল্য সূচক (PPI) প্রকাশিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রাথমিক বেকারভাতা আবেদন সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। তবে, যেহেতু ট্রেডাররা গতকাল প্রকাশিত আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনও উপেক্ষা করেছে, তাই আজকের প্রতিবেদনগুলোর প্রভাবেও মার্কেটে কোনো শক্তিশালী প্রতিক্রিয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে না।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী
- সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
- ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
- ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
- MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
- নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
- স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।
চার্টে কী কী রয়েছে
- সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
- লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
- MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।