বৃহস্পতিবারের ট্রেডিংয়ের পর্যালোচনা
EUR/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের একটি নতুন নিম্নমুখী প্রবণতা শুরু হয়েছে, যদিও সেটি খুবই দুর্বল বলে গণ্য করা হচ্ছে। মৌলিক এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ অনুযায়ী—মার্কিন ডলারের মূল্যের এই সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে যথার্থ হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় না। এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, যেগুলোর বেশিরভাগই হতাশাজনক ফলাফল প্রদর্শন করেছে। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলাকে ঘিরে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা মার্কিন ডলারের জন্য ইতিবাচক কিছু নয়। তবে, এমনকি আমরা যদি ভুলও করে থাকি, তাহলেও মার্কেটের মুভমেন্ট এতটাই দুর্বল যে এটিকে নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
আমাদের মতে, ব্যাখ্যাটা বেশ সহজ—দৈনিক টাইমফ্রেমে এখনো ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক ট্রেডিং বজায় রয়েছে। টানা ছয় মাস ধরে EUR/USD পেয়ারের মূল্য 1.1400 এবং 1.1830 লেভেলের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ আগে, ইউরোর মূল্য আবারও এই রেঞ্জের উপরের সীমার উপরে স্থিতিশীল হতে ব্যর্থ হয় এবং সেখান থেকে মূল্য বিপরীতমুখী হতে শুরু করে। ফলে, এখন আমরা যা দেখছি তা হচ্ছে একটি বিশুদ্ধ টেকনিক্যাল মুভমেন্ট—ধীরে ধীরে রেঞ্জের নিচের প্রান্তের দিকে নামা। বৃহস্পতিবার গুরুত্বপূর্ণ কোনো সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। তবে আজ (শুক্রবার) বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে—যেমন: নন-ফার্ম পেরোল, বেকারত্ব হার ইত্যাদি।
EUR/USD 5M পেয়ারের চার্ট

৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, বৃহস্পতিবার একটি সেল সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল, তবে দিনশেষে এই পেয়ারের মূল্যের মোট মাত্র ৪১ পয়েন্টের মুভমেন্ট পরিলক্ষিত হয়েছে। সার্বিকভাবে, বাড়তি বিশ্লেষণের প্রয়োজন একটু কম, কারণ মার্কেটে কার্যত কোনো মুভমেন্টই ছিল না। 1.1655–1.1666 লেভেলের নিচে কনসোলিডেশন শুরু হয়েছিল, যা নতুন ট্রেডারদের জন্য এখনো শর্ট পজিশন ওপেন করার সুযোগ ধরে রেখেছে। তবে যেরকম দুর্বল মুভমেন্ট দেখা যাচ্ছে, তাতে এই পেয়ারের মূল্যের 1.1584–1.1591-এর লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পুরো এক সপ্তাহ লেগে যেতে পারে।
শুক্রবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে, স্পষ্টতই এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা গঠিত হচ্ছে, যা ট্রেন্ডলাইন দ্বারা নিশ্চিত করা যায়। এই পেয়ারের মূল্য 1.1800–1.1830 লেভেল ব্রেক করতে ব্যর্থ হয়েছে, যা দৈনিক টাইমফ্রেমে দৃশ্যমান ফ্ল্যাট রেঞ্জের উপরের সীমা হিসেবে কাজ করছে। তাই টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপট অনুযায়ী এই পেয়ারের দরপতনের বিষয়টি যথার্থ এবং 1.1400 লেভেল পর্যন্ত দরপতন দীর্ঘায়িত হতে পারে। মার্কিন ডলারের ক্ষেত্রে সার্বিক মৌলিক ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট এখনও বেশ নেতিবাচক—এ কারণে আমরা মধ্যমেয়াদে EUR/USD পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরায় শুরু হওয়ার প্রত্যাশা করছি। তবে দৈনিক টাইমফ্রেমে যেহেতু এখনো ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্টই পরিলক্ষিত হচ্ছে, তাই তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতির বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।
শুক্রবার, নতুন ট্রেডাররা 1.1655–1.1666 লেভেল থেকে ট্রেড করতে পারেন। এই এরিয়া থেকে এই পেয়ারের মূল্য রিবাউন্ড করলে শর্ট পজিশনের ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1584–1.1591 লেভেলের দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। অন্যদিকে, যদি এই এরিয়ার উপরে কনসোলিডেশন হয়, তাহলে লং পজিশন গ্রহণযোগ্য হবে, যেখানে মূল্যের 1.1745 লেভেলের দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনায় রাখা যেতে পারে: 1.1354–1.1363, 1.1413, 1.1455–1.1474, 1.1527–1.1531, 1.1550, 1.1584–1.1591, 1.1655–1.1666, 1.1745–1.1754, 1.1808, 1.1851, 1.1908, 1.1970–1.1988।
আজ ইউরোপীয় ইউনিয়নে খুচরা বিক্রয় সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, তবে এই প্রতিবেদনের প্রভাবে মার্কেটে শক্তিশালী প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা কম। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে আজ নন-ফার্ম পেরোল, বেকারত্ব হার, মজুরি বৃদ্ধির হার এবং ভোক্তা আস্থা সূচক সংক্রান্ত একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। কিন্তু মার্কেটের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে—যে প্রতিবেদনগুলো গুরুত্বপূর্ণ থাকলেও, সেগুলো মার্কেটে সক্রিয়ভাবে মুভমেন্ট সৃষ্টি করতে পারবে কিনা, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী
- সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
- ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
- ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
- MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
- নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
- স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।
চার্টে কী কী রয়েছে
- সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
- লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
- MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।