শুক্রবারের ট্রেডিংয়ের পর্যালোচনা:
GBP/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

শুক্রবার স্বল্প মাত্রার অস্থিরতার সাথে GBP/USD কারেন্সি পেয়ারের ট্রেডিং পরিলক্ষিত হয়েছে, যা সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের সঙ্গে একেবারেই অসঙ্গতিপূর্ণ ছিল। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে ননফার্ম পেরোল এবং বেকারত্ব হার সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়—এ দুটি প্রতিবেদনকে মার্কিন অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচনা করা হয়—এর পাশাপাশি গড় মজুরি এবং ভোক্তা আস্থা সূচক সংক্রান্ত প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়। তবে দৈনিক ভিত্তিতে এই পেয়ারের মূল্যের অস্থিরতার মাত্রা যদি সর্বোমোট ৬০ পিপস হয়, তাহলে প্রশ্ন জাগে—এই গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল প্রভাবে মার্কেটে আদৌ কি কোনো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে? আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার ও বেকারত্ব সংক্রান্ত প্রতিবেদনে আবারও দুর্বল ফলাফল পরিলক্ষিত হয়েছে। ডিসেম্বরে নতুন করে মাত্র ৬০,০০০ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, এবং এর আগের দুই মাসের ফলাফলও সংশোধন করে কমানো হয়েছে। বেকারত্ব হার ০.১% হ্রাস পেয়েছে বটে, তবে মাত্র পাঁচ বছরের চার্ট দেখলেই বোঝা যায় যে এই সূচকের মধ্যমেয়াদি প্রবণতা কোন দিকে রয়েছে। ফলে, আমরা মনে করি, বর্তমানে GBP/USD পেয়ারের দরপতনের (ডলারের দর বৃদ্ধির) বিষয়টি মৌলিক বা সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী ভিত্তিহীন। তবে, ইউরোর মূল্য এখনো ছয় মাসব্যাপী দৃশ্যমান সাইডওয়েজ চ্যানেল ব্রেক করতে ব্যর্থ হয়—এটাই ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী মুভমেন্ট অব্যাহত থাকার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
GBP/USD পেয়ারের 5M চার্ট

৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে শুক্রবার দুটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। এই পেয়ারের মূল্য দুইবার 1.3437–1.3446 এরিয়া থেকে বাউন্স করেছে এবং উভয় ক্ষেত্রেই কয়েক ডজন পিপসের নিম্নমুখী মুভমেন্ট পরিলক্ষিত হয়েছে। মার্কেটের বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী বড় ধরনের মুনাফার আশা করাটা মোটেও যৌক্তিক নয়; তবুও শুক্রবার সন্ধ্যাবেলায় ম্যানুয়ালি পজিশন ক্লোজ করলে নতুন ট্রেডাররা দ্বিতীয় ট্রেড থেকে সহজেই প্রায় ২০–২৫ পিপস লাভ করতে পারতেন। সাধারণভাবে আমরা শুক্রবার ওপেন করা ট্রেড উইকেন্ডে হোল্ড করে রাখার পরামর্শ দিই না।
সোমবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্য এখন ট্রেন্ডলাইনের নিচে থাকা অবস্থায় ট্রেডিং সেশন ক্লোজ হয়েছে; তবে আমরা এখনো কোনো পরিপূর্ণ নিম্নমুখী প্রবণতা দেখতে পাচ্ছি না। বরং এই পেয়ারের মূল্য এখনো একটি ফ্ল্যাট রেঞ্জে রয়েছে। মধ্যমেয়াদে ডলারের মূল্যের শক্তিশালী বৃদ্ধি বজায় রাখার জন্য সামগ্রিকভাবে বৈশ্বিক পর্যায়ে কোনো ভিত্তি নেই—তাই আমরা শুধুমাত্র এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী মুভমেন্টেরই প্রত্যাশা করছি। সার্বিকভাবে আমরা আশা করছি যে ২০২৫ সালে পরিলক্ষিত ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আবারও শুরু হবে, যার ফলে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে এই পেয়ারের মূল্য 1.4000 লেভেল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
সোমবার, নতুন ট্রেডাররা আবার নতুন শর্ট পজিশন ওপেন করার কথা চিন্তা করতে পারেন, যেখানে মূল্যের লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে 1.3319–1.3331 লেভেল বিবেচনায় রাখা যেতে পারে—কারণ শুক্রবার দিনেরবেলা এবং রাতের দিকে এই পেয়ারের মূল্য দুইবার 1.3437–1.3446 এরিয়া থেকে বাউন্স করেছিল। তবে যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3437–1.3446-এর উপরে কনসোলিডেশন করে, সেক্ষেত্রে লং পজিশন ওপেন করার সুযোগ তৈরি হবে, যেখানে মূল্যের 1.3529-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নমুলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনায় রাখা যেতে পারে: 1.3043, 1.3096–1.3107, 1.3203–1.3212, 1.3259–1.3267, 1.3319–1.3331, 1.3437–1.3446, 1.3529–1.3543, 1.3574–1.3590, 1.3643–1.3652, 1.3682, 1.3763।
আজ সোমবার, যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রে কোনো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই—ফলে মার্কেটে খুবই স্বল্প মাত্রার অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:
- সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
- ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
- ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
- MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
- নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
- স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।
চার্টে কী কী রয়েছে:
- সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
- লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
- MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।