EUR/JPY পেয়ারের মূল্য এখন ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা প্রদর্শন করছে এবং এতে করে গত তিন সপ্তাহের দরপতন অনেকটাই পুষিয়ে নেয়া হয়েছে। এই শক্তিশালী ঊর্ধ্বমুখী মুভমেন্টের মূল চালিকাশক্তি হলো ইয়েনের দরপতন, যা সম্ভাব্য রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ঘটেছে। তবে ইউরোর ভূমিকাও একেবারে কম নয়—ইউরোজোনে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি গতি কমলেও ইউরোর মূল্য এখনো স্থিতিশীল রয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, জাপানের শাসক দল লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) নেত্রী সানায়ে তাকাইচি পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ভেঙে দিয়ে আগাম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেয়ার পরিকল্পনা করছেন, যা আগামী মাসেই অনুষ্ঠিত হতে পারে। প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির প্রধানমন্ত্রী ২৩ জানুয়ারি, শুক্রবার এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা দিতে পারেন।

উল্লেখযোগ্য যে, এলডিপি বর্তমানে কোনো একক কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারেনি। তাদের পূর্ববর্তী নেতা শিগেরু ইশিবার আগাম নির্বাচনের মাধ্যমে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করার যে 'প্রয়াস' নিয়েছিলেন, তা ব্যর্থ হয়ে যায় এবং এর ফলে দলটি জাপানের ইনোভেশন পার্টির সঙ্গে কোয়ালিশন সরকার গঠন করে। ইশিবার আশা করেছিলেন নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিকভাবে আরও স্বাধীনতা পাবেন, কিন্তু বাস্তবে তিনি তার ক্ষমতা হারান এবং ২০১২ সালে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে প্রথমবারের মতো এলডিপি নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়। গত জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চকক্ষ নির্বাচনে কোয়ালিশন সরকার সেখানেও তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অবস্থান হারায়।
তাকাইচি একই পথ অনুসরণ করতে চাইছেন, তবে ফলাফল যেন ভিন্ন ও ইতিবাচক হয়, সেই লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক 'নিক্কেই' জরিপ অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার জনপ্রিয়তা ৬০–৭০% এর মধ্যে রয়েছে, যা দেশটির ইতিহাসে অন্যতম উচ্চপর্যায়ের রেটিং। মনে হচ্ছে, তাকাইচি ইতিবাচক সময়কে কাজে লাগিয়ে জাতীয় পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে এলডিপির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে চান।
তবে, রাজনৈতিকভাবে সফলতা অর্জন করলেও (বিশেষত কট্টর বৈদেশিক নীতির কারণে), অনেক বিশ্লেষক পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন। কারণ অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক দুর্বলতা, দলীয় দ্বন্দ্ব, ইয়েনের অব্যাহত দরপতন এবং মূল্যস্ফীতি এখনো বিদ্যমান। প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধির হার উপভোক্তা মূল্য সূচকের বৃদ্ধির তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে—ফলে প্রকৃত আয়ের পরিমাণ নিম্নমুখী হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির হার টানা ৪৪ মাস ধরে ব্যাংক অব জাপানের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।
চীনের সঙ্গে উত্তেজনাও জাপানের জনসাধারণের কাছে অত্যন্ত অজনপ্রিয়—বিশেষত পর্যটন খাতে নেতিবাচক প্রভাব এবং কূটনৈতিক অভিঘাতের কারণে। বিষয়টি আরও জটিল হয়েছে তাকাইচির সাম্প্রতিক বক্তব্যের কারণে, যেখানে তিনি বলেন—তাইওয়ানের বিরুদ্ধে চীনা সামরিক পদক্ষেপ "জাপান রাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য হুমকি" হিসেবে গণ্য হবে—এমন শ্রেণিকরণের ফলে জাপান সরকার আত্মরক্ষার সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।
এই ধরনের পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তাকাইচি হয়তো শিগেরু ইশিবার ভাগ্যই বরণ করতে যাচ্ছেন—এটি সাহসী পদক্ষেপ হলেও, এতে হিতে বিপরীত হতে পারে এবং যা পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে (এমনকি প্রধানমন্ত্রিত্বও)।
এই সম্ভাব্য সংকটজনক খবরের প্রতিক্রিয়ায় ইয়েনের দরপতন হয়েছে। সাধারণত, রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় ব্যাংক অব জাপান সুদের হার বাড়ানোর দিকে এগোয় না—যদিও ডিসেম্বরের শেষ দিকে গভর্নর কাজুও উয়েদা তাঁর বক্তব্যে "হকিশ বা কঠোর" অবস্থান গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়ে জানিয়েছেন যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক হয়তো সুদের হার বাড়ানোর পদক্ষেপ চালিয়ে যাবে। এই পরিস্থিতিতেই ইয়েনের দরপতন হওয়ায় EUR/JPY পেয়ারের ক্রেতারা মূল্যের নতুন সর্বোচ্চ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে পারছে।
তবে এই ক্রস পেয়ারের মূল্যের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুধুমাত্র ইয়েনের দরপতনের কারণে নয়। ইউরোর মূল্যেরও তুলনামূলক স্থিতিশীলতা দেখা যাচ্ছে, যদিও সামগ্রিকভাবে ভোক্তা মূল্য সূচক বা CPI কমেছে। তবে মূল মুদ্রাস্ফীতি, বিশেষ করে পরিষেবা খাতে (৩.৪% হারে) এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়ে গেছে। এর মানে ইউরোজোনে মূল্যস্ফীতির চাপ এখনো বিদ্যমান। পরিষেবা ও টেকসই পণ্যের খাত মূল মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির কারণ—যা শ্রম ব্যয় এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব উপস্থাপন করছে। সাম্প্রতিককালে জ্বালানি মূল্য কমলেও তা সাময়িক; কাঠামোগত মূল্যস্ফীতি জার্মানি ও ফ্রান্সসহ ইউরোপের প্রধান অর্থনীতিতে এখনো বজায় আছে। সবমিলিয়ে, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) নীতিমালায় দীর্ঘমেয়াদে সুদের হার বৃদ্ধিতে বিরতি থাকার সম্ভাবনাই বেশি, বিশেষত বছরের প্রথমার্ধ পর্যন্ত।
বর্তমান মৌলিক প্রেক্ষাপট EUR/JPY পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী মুভমেন্টকে সহায়তা করছে এবং এখন এই পেয়ারের মূল্য 185.00-এর রেজিস্ট্যান্স লেভেলের দিকে এগোচ্ছে। টেকনিক্যাল চিত্রও এই পেয়ারের মূল্যের বুলিশ মুভমেন্টের ইঙ্গিত দিচ্ছে। হায়ার টাইমফ্রেমগুলোতে (H4 এবং তদূর্ধ্বে), এই পেয়ারের মূল্য এখন বলিঙ্গার ব্যান্ড ইন্ডিকেটরের মিড ও আপার লাইনের মাঝামাঝি অথবা সরাসরি আপার বাউন্ডারির কাছাকাছি রয়েছে। D1 এবং W1 টাইমফ্রেমে ইচিমোকু সূচক একটি শক্তিশালী বুলিশ "প্যারেড অব লাইনস" সিগন্যাল প্রদান করেছে। বর্তমান ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার ক্ষেত্রে নিকটবর্তী এবং প্রধান লক্ষ্যমাত্রা হলো 185.00, যা দৈনিক টাইমফ্রেমে বলিঙ্গার ব্যান্ডের আপার লেভেলের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।