সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের পর্যালোচনা:

বৃহস্পতিবার বেশ কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, কিন্তু এগুলোর বেশিরভাগই গুরুত্বপূর্ণ মনে হলেও বাস্তবে মার্কেটে শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করার সম্ভাবনা কম। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদনটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় প্রান্তিকের জিডিপির তৃতীয় মূল্যায়ন। এই প্রতিবেদনের পূর্ববর্তী মূল্যায়নগুলোতে ইতিবাচক ফলাফল পরিলক্ষিত হয়েছিল, কিন্তু ট্রেডাররা সেই ফলাফলের যথার্থতা নিয়ে সন্দিহান অবস্থায় রয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নানাভাবে অর্জিত হতে পারে; বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি উচ্চ ভোক্তা চাহিদা, প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধি বা শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধির ভিত্তিতে প্রবৃদ্ধি প্রদর্শন করতে না। জিডিপির পাশাপাশি দেশটির উৎপাদক মূল্য সূচকও প্রকাশিত হবে, যেটিকে কোনো এক কারণে অনেকেই মুদ্রাস্ফীতির পরিপূরক হিসেবে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন হিসেবে বিবেচনা করেন। প্রকাশিতব্য অন্যান্য প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। যুক্তরাজ্য ও ইইউ-এর ক্যালেন্ডারে আজ কোনো কিছুই অন্তর্ভুক্ত নেই।
ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ:

আজ কয়েকটি ফান্ডামেন্টাল ইভেন্ট নির্ধারিত থাকলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট গতকালই অনুষ্ঠিত হয়েছে। ট্রাম্প তাঁর স্বভাবসুলভভাবে শুল্ক আরোপ করেন এবং তিনদিন পর প্রতিপক্ষ ছাড় দেওয়ার পর সেগুলো প্রত্যাহার করে নেন। কী ছাড় দেওয়া হয়েছে এবং ন্যাটোর সেক্রেটারি-জেনারেল মার্ক রুট ও ডোনাল্ড ট্রাম্প কোন বিষয়ে একমত হয়েছেন তা স্পষ্ট নয়। তবুও, যদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট শুল্ক আরোপের হুমকি থেকে সরে আসেন, তাহলে এর মানে হচ্ছে গ্রিনল্যান্ডের যৌথ ব্যবহার সম্পর্কিত প্রস্তাবিত শর্তগুলো তাঁকে সন্তুষ্ট করেছে। অথবা এটি আরেকটি ধাপ্পাবাজি ছিল।
উপসংহার:
চলতি সপ্তাহের শেষদিকের ট্রেডিংয়ে উভয় কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের আবার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হতে পারে, কারণ এই সপ্তাহে ইউরো এবং পাউন্ডের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতার সমাপ্তি ঘটেছে। আজ 1.1655–1.1666 এরিয়ায় ইউরোর ট্রেড করা যেতে পারে, এবং পাউন্ড স্টার্লিং 1.3437–1.3446 এরিয়ায় ট্রেড করা যেতে পারে।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:
- সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
- ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
- ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
- MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
- নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
- স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।
চার্টে কী কী রয়েছে:
- সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
- লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
- MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।