গতকাল মার্কিন ইক্যুইটি সূচকগুলোতে প্রবল ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার সাথে লেনদেন শেষ হয়েছে। S&P 500 সূচক 1.16% বৃদ্ধি পেয়েছে, যখন নাসডাক 100 সূচক 1.18% বৃদ্ধি পেয়েছে। ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ সূচক 1.21% বৃদ্ধি পেয়েছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপে শুল্ক আরোপের হুমকি থেকে সরে আসার পরে বিশ্বব্যাপী ইক্যুইটি মার্কেটগুলোতে পুনরুদ্ধার পরিলক্ষিত হয়েছে, যা নতুন বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কা শিথিল করেছে।

অপ্রত্যাশিত এই পরিবর্তনের ফলে টোকিও থেকে নিউইয়র্ক পর্যন্ত আশাবাদের ঢেউ দেখা দিয়েছে। আগের যে উদ্বিগ্ন অবস্থা বজায় ছিল, সেটি এখন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে পুনরায় বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনার প্রতি আস্থা ফিরিয়েছে, যা আপেক্ষিকভাবে স্থিতিশীল বাণিজ্য সম্পর্ক থেকে সমর্থন পেয়েছে। সাধারণত বাণিজ্য নীতিমালার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংবেদনশীল প্রযুক্তি খাতের শেয়ারগুলোর মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে। বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারের মূল্যের শক্তিশালী বৃদ্ধি বিস্তৃত সূচকগুলোকেও ঊর্ধ্বমুখী করেছে, যা ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা এবং উদ্ভাবনের প্রতি আস্থার পুনরুদ্ধার নির্দেশ করে। তবুও বর্তমান আশাবাদের মাঝেও মার্কেটের ট্রেডারদের সতর্ক থাকা উচিত: ট্রাম্প সাময়িকভাবে শুল্ক স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন এবং গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যেকোনো নতুন বিবাদ পুনরায় মার্কেটে ব্যাপকভাবে স্টক বিক্রির প্রবণতা সৃষ্টি করতে পারে।
ট্রাম্পের ঘোষণার প্রভাবে ওয়াল স্ট্রিটে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার পর এশীয় স্টক সূচকগুলোতেও প্রবৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছে ও ইউরোপীয় ইক্যুইটি সূচকের ফিউচারগুলো 0.7%-এর বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন স্টক সূচকের ফিউচারগুলোও অগ্রসর হয়েছে, যা স্থায়ী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার সম্ভাব্যতার ইঙ্গিত দেয়।
উল্লেখ্য যে, ডাভোসে এনভিডিয়ার সিইও জেনসেন হুয়াংয়ের মন্তব্যের পর বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহকারীদের শেয়ারের দর বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এআই মার্কেটের প্রতি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহ বাড়িয়েছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডিস্কো কর্পোরেশনের শেয়ারের দর জাপানে 17% বৃদ্ধি পেয়েছে, অন্যদিকে স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স কোং-এর স্টকের দর 1.9% বৃদ্ধি পেয়েছে।
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্প তথাকথিত "কাঠামোবদ্ধ চুক্তির" কোনো শর্তাবলীর কথা উল্লেখ করেননি, ফলে উক্ত চুক্তির বিশদ বিবরণ অমিমাংসিত রয়েছে। বুধবার ডেনমার্কও আধা-স্বায়ত্তশাসিত দ্বীপটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হস্তান্তর সংক্রান্ত আলোচনা বাতিল করে দয়েছে। গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে চলমান ঘটনাগুলো ইক্যুইটি মার্কেটের পূর্ববর্তী ধারা ফিরে নিয়ে এসেছে: এখন ট্রেডাররা মার্কিন অর্থনীতির দারুণ প্রবৃদ্ধির সম্ভাব্যতা সম্পর্কে বাড়তে থাকা আশাবাদের মাঝে আরও মুনাফা করার চেষ্টা করছে।

অ্যাসিমেট্রিক অ্যাডভাইসর পিটিই জানিয়েছে যে ডাভোসে ট্রাম্পের বক্তব্য কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে, কারণ এতে এই বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড আক্রমণের জন্য কোনো সামরিক অভিযান চালাবে না; মোটের ওপর এটি মার্কেটের ট্রেডারদের দৃষ্টিকোণ থেকে প্রতীয়মানভাবে একটি ভাল ফলাফল ছিল।
S&P 500-এর টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, আজ ক্রেতাদের প্রধান কাজ হলো সূচকটির মূল্যকে $6,883-এর রেজিস্ট্যান্স লেভেল অতিক্রম করানো। সূচকটির দর এই লেভেল ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হলে সেটি আরও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার সম্ভাবনা নির্দেশ করবে এবং $6,896-এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত করবে। ক্রেতাদের জন্য সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হবে সূচকটির মূল্যকে $6,914-এর উপরে ধরে রাখা, যা ক্রেতাদের অবস্থানকে শক্তিশালী করবে। ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা কমে যাওয়ার প্রেক্ষিতে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেলে সূচকটির দর প্রায় $6,871-এর আশপাশে থাকা অবস্থায় ক্রেতাদের সক্রিয় হতে হবে; এই লেভেল ব্রেক করে সূচকটির দর নিম্নমুখী হলে দ্রুত এই ইন্সট্রুমেন্টটির দর $6,854-এর দিকে নেমে যাবে এবং $6,837-এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনাও উন্মুক্ত হতে পারে।