সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের পর্যালোচনা:

শুক্রবার বেশ কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। প্রথমত, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইইউ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জানুয়ারি মাসের বিজনেস অ্যাক্টিভিটি সূচকগুলো উল্লেখযোগ্য। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত S&P থেকে প্রকাশিত সূচকগুলোর তুলনায় অভ্যন্তরীণ ISM সূচকগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। তবে ইউরোপ ও ব্রিটেনে এগুলোই একমাত্র উপলব্ধ সূচক, তাই ট্রেডাররা এগুলোর ফলাফলের ওপর নজর রাখবে। যুক্তরাজ্যে রিটেইল সেলস সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান থেকে কনজিউমার সেন্টিমেন্ট সূচক প্রকাশিত হবে। তবে আপনাদের মনে করিয়ে দিতে চাই যে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রেডাররা সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রতি তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি এবং বহু প্রতিবেদন সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করেছে।
ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ:

আজ কয়েকটি ফান্ডামেন্টাল ইভেন্ট নির্ধারিত থাকলেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টগুলো ইতোমধ্যেই এই সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর স্বভাবসুলভভাবে শুল্ক আরোপ করেছিলেন এবং প্রতিপক্ষ কিছুটা ছাড় দেওয়ার পরে তিন দিন পর তা বাতিল করে দিয়েছেন। কোন কোন বিষয়ে ছাড় দেয়া হয়েছে এবং ন্যাটোর সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক রুট ও ডোনাল্ড ট্রাম্প কী কী বিষয়ে সম্মত হয়েছেন তা এখনো স্পষ্ট নয়, তবে পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে আরোপের অপেক্ষায় থাকা শুল্কগুলি বাতিল করা হয়েছে। তবে তারপরও ট্রেডারদের গ্রিনল্যান্ড সংক্রান্ত চুক্তিতে ইইউ ও ডেনমার্কের অবস্থান সম্পর্কে ধারণা নিতে হবে; কারণ এখন পর্যন্ত কেউই সেটি সম্পর্কে নিশ্চিত নয়। গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে মার্কিন অর্থনীতি 4.4% প্রবৃদ্ধির অর্জন করলেও তা বিশেষভাবে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেনি, এবং আজকের ইভেন্টগুলো সম্ভবত মার্কেটের ওপর সীমিত প্রভাবই ফেলবে।
উপসংহার:
চলতি সপ্তাহের শেষ দিনের ট্রেডিংয়ে সম্ভবত পুনরায় উভয় কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী মুভমেন্ট শুরু হতে পারে, কারণ এই সপ্তাহে ইউরো এবং পাউন্ডের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতার সমাপ্তি ঘটেছে। আজ 1.1745–1.1754 রেঞ্জে ইউরোর ট্রেড করা যেতে পারে, এবং ব্রিটিশ পাউন্ড 1.3484–1.3489 রেঞ্জ থেকে ট্রেড করা যেতে পারে।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:
- সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
- ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
- ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
- MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
- নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
- স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।
চার্টে কী কী রয়েছে:
- সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
- লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
- MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।