বুধবারের ট্রেডিংয়ের পর্যালোচনা:
EUR/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

বুধবার সারাদিন ধরে EUR/USD পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে এবং দিনের শেষে এই পেয়ারের মূল্য 1.1908-এ পৌঁছানোর পর ট্রেডিং সেশন শেষ হয়েছে, যার ফলে প্রায় 150 পিপস দরপতন হয়েছে। যেহেতু বুধবার পর্যন্ত এই পেয়ারের মূল্যের শক্তিশালী বৃদ্ধি পরিলক্ষিত হয়েছিল, তাই 150 পিপসের কারেকশনকে যথেষ্ট সঙ্গতিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। এই মুহূর্তে বলা যায় না যে ট্রেন্ড লাইনের সমর্থনে সৃষ্ট ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার সমাপ্তি ঘটেছে। আমরা একটি লক্ষণীয় করেকশন দেখতে পেয়েছিল, তবে তা মূল প্রবণতাকে প্রভাবিত করেনি। কোনো সামষ্টিক প্রতিবেদন বা ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের প্রভাবে এই কারেকশন ঘটেনি। গতকাল ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির বৈঠকই ট্রেডারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। এমনকি এই ইভেন্টটিও ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পর্কিত অন্যান্য ঘটনার ছায়ায় পড়ে গিয়েছিল। ফলে ফেড স্বতঃস্ফূর্তভাবে ডলারের প্রতি দৃঢ় সমর্থন প্রদানে সক্ষম ছিল না। প্রত্যাশা অনুযায়ী মূল সুদের হার অপরিবর্তিত ছিল। জেরোম পাওয়েল সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন যে নতুন করে "শাটডাউন" শুরু হোলে তা কেবল মার্কিন অর্থনীতিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে না, বরং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের অনুপস্থিতির কারণে ভবিষ্যতে সুদের হার আরও হ্রাসের সিদ্ধান্ত নেয়া অসম্ভব করে তুলতে পারে। ফলে পাওয়েল মার্চে সুদের হার হ্রাসের সম্ভাবনার ইঙ্গিত অনুমতি দিয়েছেন, যা প্রত্যাশার তুলনায় বাড়তি "ডোভিশ বা নমনীয়" অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।
EUR/USD 5M পেয়ারের চার্ট

বুধবার 5-মিনিটের টাইমফ্রেমে বুধবার বেশ কয়েকটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছিল। শুরুতে এই পেয়ারের মূল্য 1.1970-1.1988 এরিয়া থেকে বাউন্স করেছিল, কিন্তু এই সিগন্যাল ভুল প্রমাণিত হওয়ায় স্টপ লসের মাধ্যমে ব্রেক-ইভেনে এই ট্রেড ক্লোজ করা হয়। এরপর একই এরিয়ায় একটি সেল সিগন্যাল গঠিত হয়, এবং সন্ধ্যার দিকে এই পেয়ারের মূল্য 1.1908 লেভেলে পৌঁছায়। 1.1908 লেভেল থেকে বাউন্সের ফলে লং পজিশন ওপেন করা সম্ভব হয়েছিল, এবং সেই ক্ষেত্রেও এই পেয়ারের মূল্য লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছায়। তবে সম্ভবত ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির বৈঠকের ঠিক পরে মার্কেটে এন্ট্রি করা বুদ্ধিমানের কাজ ছিল না।
বৃহস্পতিবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা গঠিত হচ্ছে। সোমবার রাতে এই পেয়ারের মূল্য 1.1800–1.1830 এবং মূলত 1.1400–1.1830-এর এরিয়ার উপরে স্থিতিশীল অবস্থান গ্রহণ করায় এই পেয়ারের মূল্য সাত মাসব্যাপী দৃশ্যমান ফ্ল্যাট রেঞ্জ থেকে বেরিয়ে এসেছে বলে ধরা হচ্ছে। মার্কিন ডলারের জন্য সামগ্রিক মৌলিক এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক পটভূমি এখনও বেশ নেতিবাচক রয়ে গেছে, তাই আমরা ইউরোর আরও দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করছি।
বৃহস্পতিবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.1970-1.1988 এরিয়া অতিক্রম করলে নতুন ট্রেডাররা নতুন লং পজিশন ওপেন করতে পারেন, এক্ষেত্রে মূল্যের 1.2044-1.2056 এবং 1.2092-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যায়। এই পেয়ারের মূল্য 1.1970-1.1988 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করলে শর্ট পজিশন ওপেন করা যাবে, এক্ষেত্রে মূল্যের 1.1908-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
5-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলসমূহ বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.1354-1.1363, 1.1413, 1.1455-1.1474, 1.1527-1.1531, 1.1550, 1.1584-1.1591, 1.1655-1.1666, 1.1745-1.1754, 1.1830-1.1837, 1.1908, 1.1970-1.1988, 1.2044-1.2056, 1.2092-1.2104। আজ ইউরোজোন বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই, তাই টেকনিক্যাল বিষয়গুলোর ওপর নির্ভর করে ট্রেডিং করতে হবে।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:
- সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
- ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
- ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
- MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
- নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
- স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।
চার্টে কী কী রয়েছে:
- সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
- লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
- MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।