সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের পর্যালোচনা:

বৃহস্পতিবারের অল্প কয়েকটি সামষ্টিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, এবং সেগুলোর মধ্যে কোনোটিই তেমন উল্লেখযোগ্য নয়। মূলত আমরা কেবল মার্কিন আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত প্রতিবেদন এবং বেকারভাতা আবেদন সংক্রান্ত প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করতে পারি— তবে এগুলো স্বল্প গুরুত্বসম্পন্ন প্রতিবেদন হিসেবে বিবেচিত হয়। গতকালের অনুষ্ঠিত ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির বৈঠকের ফলাফলের ভিত্তিতে মার্কেটে কিছুটা অস্থিরতা প্রত্যাশিত ছিল, তবে ফলাফল প্রত্যাশা অনুযায়ী ছিল। তাই ট্রেডাররা সম্ভবত ইতোমধ্যেই এই ইভেন্টটিকে মূল্যায়ন করে ফেলেছে এবং আজ টেকনিক্যাল বিষয় ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন কোনো বক্তব্যের ওপর ভিত্তি ট্রেডিং করা হবে।
ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ:

বৃহস্পতিবারের ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের মধ্যে তেমন কিছুই লক্ষণীয় নেই। গতকাল সন্ধ্যায় ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির বৈঠক শেষ হয়েছে, এবং এর ফলাফল ট্রেডারদের জন্য সহজেই পূর্বানুমেয় ছিল। জেরোম পাওয়েল মার্চে সুদের হার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করলেও, তাতে ডলার সহায়তা পায়নি। বৈঠকের ফলাফল ঘোষণার পর পুনরায় মার্কিন মুদ্রার দরপতন শুরু হয় এবং বর্তমানে এটির দর গত ৩–৪ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন লেভেল কাছাকাছি রয়েছে।
অতএব, আমরা সম্পূর্ণভাবে মেনে নিচ্ছি যে ইউরো ও পাউন্ডের মূল্য আজও বাড়তে পারে—বিশেষ করে যদি ট্রাম্প কাউকে আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেন, ইরানে সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন, অথবা শুল্ক বাড়ান। ডলার এখন খুবই দুর্বল অবস্থায় রয়েছে; মার্কেটে ডলারের জন্য কোনো দৃঢ় সহায়তা দেখা যাচ্ছে না।
উপসংহার:
চলতি সপ্তাহের শেষদিকের ট্রেডিংয়ে উভয় কারেন্সি পেয়ারই মূলত টেকনিক্যাল কারণগুলোর ভিত্তি করে ট্রেড করা হবে। ইউরো আজ 1.1970-1.1988 রেঞ্জে ট্রেড করা যেতে পারে, এবং ব্রিটিশ পাউন্ড 1.3814-1.3833 রেঞ্জে ট্রেড করা যেতে পারে। অবশ্যই, প্রতিদিনই ডলারের দরপতন হবে বিষয়টি এমন নয়—মাঝে মাঝে বিরতি, কারেকশন এবং পুলব্যাক দেখা যাবে। তবে ইতোমধ্যেই গতকাল একটি কারেকশন ঘটেছে, এবং আজও ডলারের দরপতন অব্যাহত থাকতে পারে।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:
- সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
- ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
- ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
- MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
- নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
- স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।
চার্টে কী কী রয়েছে:
- সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
- লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
- MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।