বিটকয়েন এবং ইথেরিয়াম আবারও দরপতনের শিকার হচ্ছে। পুরো ক্রিপ্টোকারেন্সি মার্কেটেও নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। মাত্র চার মাসে বিটকয়েনের মূল্য প্রায় 40% বা $50,000 কমে যাওয়ার কারণগুলো কী কী? প্রথমত, আমরা ট্রেডারদের দুটি বিষয় স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। কোনো ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাই চিরস্থায়ী হয় না। অবশ্য এরও ব্যতিক্রম আছে, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই নীতিই প্রযোজ্য। আমরা এখনও মনে করতে পারি যে স্বর্ণের মূল্য সবসময় বাড়বে (যদিও তা সম্ভব নয়), কিন্তু বিটকয়েন স্বর্ণ নয় এবং এটির কোনো ভৌত মূল্য নেই। দ্বিতীয়ত, বিটকয়েনের মূল্যের প্রতিটি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাই সাধারণত 70–80% দরপতনের সাথে শেষ হয়েছে। তাই আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে বর্তমান পরিস্থিতি পুরোপুরিভাবে পূর্বানুমেয়।
এদিকে, বিশেষজ্ঞরা ধীরে ধীরে সতর্কবার্তা দিতে শুরু করেছেন। অবশ্য এখনও এমন অনেক বিশ্লেষক আছেন যারা "শীঘ্রই দুর্দান্ত ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হবে" এরকম অতি আশাবাদী পূর্বাভাস দিচ্ছেন, কিন্তু আমরা আগেই আলোচনা করেছি এসব পূর্বাভাস কীভাবে গ্রহণ করা উচিত। বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী—গত কয়েক মাসে ডলারের দুর্বলতা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভূ‑রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে বেশিরভাগ বিনিয়োগকারী পরীক্ষিত ও নির্ভরযোগ্য বিনিয়োগ যেমন স্বর্ণ, রূপা ও স্টক বেছে নিচ্ছেন।
আগে একটি তত্ত্ব প্রচলিত ছিল যে ডলারের দরপতন হলে বিটকয়েনের মূল্য বাড়বে এবং মুদ্রাস্ফীতি থেকে সুরক্ষিত থাকা যাবে। এখন সবাই দেখতে পারছেন যে এই তত্ত্ব কতটা কার্যকর। আগে বিটকয়েন ও স্বর্ণ বা বিটকয়েন ও মার্কিন স্টক সূচকের মধ্যে শক্তিশালী পারস্পারিক সম্পর্কের ধারণা প্রচলিত ছিল—এখন সে সংযোগ কতটা সত্য তা প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে। আমাদের মতে বেশিরভাগ "বিশেষজ্ঞরা" যেরকম আচরণ দেখান তা টেক্সাস শার্পশুটার সিনড্রোমের অনুরূপ। কথিত আছে যে টেক্সাসে একজন কৃষক গোলাঘরের দেয়ালে অনেকগুলো গুলি বর্ষণ করলেন এবং পরে যেখানে বেশি গুলি লেগেছিল সেখানেই লক্ষ্যচিহ্ন এঁকে দেন। ক্রিপ্টোকারেন্সি মার্কেটেও যেকোনো ফলাফল দেখা গেলেই পরবর্তীতে কারণ ও পারস্পারিক সম্পর্ক জুড়ে দেয়া হয়। বাস্তবে, বিটকয়েন সবসময়ই নিজস্ব নিয়মে ট্রেড করা হচ্ছে।
BTC/USD‑এর ট্রেডিংয়ের পরামর্শ:
বিটকয়েনের মূল্যের পূর্ণাঙ্গ নিম্নমুখী প্রবণতা গঠিত হচ্ছে। আমরা এখনও বিটকয়েনের মূল্যের $70,800‑এ দরপতনের প্রত্যাশা করছি (তিন বছরের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার 50.0% ফিবোনাচ্চি লেভেল), এবং প্রবণতা পালটে যাওয়ার বা ঊর্ধ্বমুখী কারেকশন শুরু হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। দৈনিক টাইমফ্রেমে বিটকয়েনের সেল পজিশন ওপেন করার জন্য পয়েন্ট অব ইন্টারেস্ট (POI) এরিয়াগুলোর মধ্যে আমরা "বিয়ারিশ" IFVG এবং "বিয়ারিশ" FVG-এর কথা তুলে ধরতে পারি। 4‑ঘন্টার টাইমফ্রেমে দুটি "বিয়ারিশ" FVGও গঠিত হয়েছে, যা নতুন শর্ট পজিশন ওপেন করার সুযোগ দিতে পারে। তবে নিকট ভবিষ্যতে একটি ঊর্ধ্বমুখী করেকশনের সম্ভাবনাও বিবেচনা করা উচিত।
ETH/USD‑এর জন্য ট্রেডিং সুপারিশ:
দৈনিক টাইমফ্রেমে ইথেরিয়ারের মূল্যেরও নিম্নমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে করছে। সেল পজিশন ওপেন করার জন্য সাপ্তাহিক টাইমফ্রেমের "বিয়ারিশ" অর্ডার ব্লক (OB) মূল প্যাটার্ন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই সিগন্যাল দ্বারা সৃষ্ট মুভমেন্টটি শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কথা। দৈনিক টাইমফ্রেমে ইথেরিয়ামের মূল্যের দুটি "বিয়ারিশ" FVG রয়েছে, এবং 4‑ঘণ্টার টাইমফ্রেমেও দুটি "বিয়ারিশ" FVG আছে। ট্রেডাররা এই দুটি প্যাটার্নের ভিত্তিতে নতুন শর্ট পজিশন ওপেন করার কথা বিবেচনা করতে পারেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্যাটার্নগুলো কাছাকাছি অবস্থান করছে। আমরা যে সব টার্গেট তুলে ধরেছি সেগুলোতে মূল্য ইতোমধ্যেই পৌঁছেছে। এখন ইথেরিয়ামের দরপতনের ক্ষেত্রে টার্গেট লেভেল $1,370 পর্যন্ত নেমে এসেছে—এটি সেই লেভেল যেখান থেকে সর্বশেষ উর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হয়েছিল।
চিত্রের ব্যাখ্যা:
- CHOCH – ট্রেন্ড স্ট্রাকচারের ব্রেক।
- লিকুইডিটি – স্টপ লসের লিকুইডিটি, যা ট্রেডাররা তাদের পজিশন বিল্ড করার জন্য ব্যবহার করে।
- FVG – প্রাইস ইনএফিসিয়েন্সি এরিয়া; এই এরিয়াগুলোতে মূল্য দ্রুত এগিয়ে যায়, যা মার্কেটে ক্রেতা/বিক্রেতা যেকোনো একপক্ষের সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি নির্দেশ করে। পরে মূল্য ওই এরিয়ায় দিকে ফিরে এসে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।
- IFVG – প্রাইস ইনএফিসিয়েন্সির ইনভার্টেড এরিয়া; এমন একটি এরিয়া যেখানে ফিরে এসে সেখানে কোনো প্রতিক্রিয়া না করে ইম্পালসিভভাবে ব্রেক করে যায় এবং পরে বিপরীত দিক থেকে টেস্ট করে।
- OB – অর্ডার ব্লক; সেই ক্যান্ডেল যেখানে মার্কেট মেকার তাদের পজিশন ওপেন করে লিকুইডিটি নিয়ে অপোজিট পজিশন বিল্ড করে।

