যদিও গতকাল বিটকয়েনের মূল্য বার্ষিক সর্বনিম্ন লেভেল থেকে প্রায় $79,000-এ উঠে এসেছে, তবুও ট্রেডাররা আক্রমণাত্নকভাবে বিটকয়েন ক্রয় করতে রাজি নয় বলে মনে হচ্ছে। এই রিবাউন্ডটি অধিকাংশে স্পেকুলেটিভ মুভমেন্টের কারণে ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে, এবং মার্কেটের বিয়ারিশ প্রবণতার সমাপ্তি ঘটেছে বলে ঘোষণা করার সময় এখনও আসেনি।

অনেক বিশ্লেষক এখন ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বিয়ারিশ প্রবণতা সমাপ্তির প্রত্যাশা করছেন। বিটকয়েনের মূল্য সর্বোচ্চ $60,000‑এর কাছাকাছি পর্যন্ত পতনের শিকার হতে পারে। এই সম্ভাবনা বেশ কয়েকটি মৌলিক কারণের উপর নির্ভর করে, যেগুলো বিশেষজ্ঞদের মতে ক্রিপ্টো মার্কেটে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং পরবর্তী পুনরুদ্ধারকে সমর্থন করতে সহায়ক হবে।
প্রথমত, ক্রিপ্টো মার্কেটে দরপতনের পরও দৃঢ় প্রতিষ্ঠানিক চাহিদা বজায় রয়েছে। বিটকয়েন ইটিএফের ইস্যুকারীরা প্রায় $165 বিলিয়নের অ্যাসেট ম্যানেজ করে এবং কারেকশনের পরও কর্পোরেশনগুলো বিটকয়েন ক্রয় করা চালিয়ে যাচ্ছে। এটি বড় ট্রেডারদের দীর্ঘমেয়াদী আস্থার ইঙ্গিত দেয়, যারা মার্কেটের স্বল্পমেয়াদী ওঠানামার বিষয়টি উপেক্ষা করে মূল্য ধরে রাখার মাধ্যম হিসেবে ডিজিটাল স্বর্ণের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বিটকয়েনে বিনিয়োগ করছে। প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ নতুন বিনিয়োগকারীদেরও আর্কষণ করতে চলেছে।
বিটকয়েনের মূল্য বৃদ্ধির প্রধান অনুঘটকগুলোর মধ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কৌশলগত বিটকয়েন রিজার্ভের গঠন, ফেডের নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ, এবং ক্রিপ্টো ইন্ডাস্ট্রির প্রতি ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক সমর্থন। ক্রিপ্টো সংক্রান্ত আইন কাঠামো প্রণয়নের অগ্রগতিও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কৌশলগত বিটকয়েন রিজার্ভ এই অ্যাসেটটির জাতীয় অর্থনীতি ও আর্থিক নিরাপত্তায় ভূমিকার সরকারিভাবে স্বীকৃতি জানানোর শক্তিশালী সংকেত দেবে। ক্রিপ্টো খাতের প্রতি সহানুভূতিশীল ফেড চেয়ারম্যান মুদ্রানীতি নমনীয় করতে পারে এবং ডিজিটাল অ্যাসেটগুলোতে বিনিয়োগ প্রবাহ উস্কে দিতে পারে। শক্তিশালী রাজনৈতিক সহায়তা উদ্ভাবন ও বিনিয়োগের জন্য অনুকূল নিয়ন্ত্রণ কাঠামো সৃষ্টি করবে।
এছাড়া লক্ষ্যণীয় যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অধীনে বর্তমান মার্কিন প্রশাসন ক্রিপ্টো মার্কেটে দরপতনের সময় নিঃশব্দে বসে থাকবে এমনটা সম্ভাব্য নয়। পরবর্তী সাইকেলটি বিটকয়েনের জন্য সিদ্ধান্তমূলক হতে পারে। এই মূল্যায়ন কর্তৃপক্ষদের অংশগ্রহণকে সমর্থন করার এবং ক্রিপ্টো খাটের উন্নয়নে সহায়তা করে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্য ইঙ্গিত করে। ট্রেডারদের উচিত এই মূল কার্যক্রমগুলো ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা যাতে বিটকয়েনের নতুন বুল সাইকেল শুরু হলে সুযোগ নেয়া যায়।
ট্রেডিংয়ের পরামর্শ:


ইথেরিয়ামের ক্ষেত্রে, $2,466‑এর উপরে স্পষ্টভাবে কনসোলিডেশন হলে সরাসরি $2,585‑এর দিকে যাওয়ার সুযোগ উন্মুক্ত হয়ে যাবে। দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে প্রায় $2,684‑এর লেভেল নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই লেভেল অতিক্রম করলে মার্কেটে বুলিশ প্রবণতা শক্তিশালী হবে এবং ক্রেতাদের আগ্রহ পুনরুজ্জীবিত হবে। ইথেরিয়ামের দরপতনের ক্ষেত্রে, মূল্য $2,301‑এ থাকা অবস্থায় ক্রেতাদের সক্রিয় হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ওই জোনের নিচে নেমে গেলে ইথারের মূল্য দ্রুত প্রায় $2,159‑এ নেমে যেতে পারে, এবং পরবর্তীতে প্রায় $2,017 পর্যন্ত দরপতন হতে পারে।
চার্টে যা যা দেখা যাচ্ছে:
- লাল লাইন সাপোর্ট এবং রেজিস্ট্যান্স লেভেল নির্দেশ করে, যেখানে মূল্যের মুভমেন্ট থেমে যেতে পারে অথবা সক্রিয় মুভমেন্ট শুরু হতে পারে;
- সবুজ লাইন ৫০-দিনের মুভিং অ্যাভারেজ নির্দেশ করে;
- নীল লাইন ১০০-দিনের মুভিং অ্যাভারেজ নির্দেশ করে;
- হালকা সবুজ লাইন ২০০-দিনের মুভিং অ্যাভারেজ নির্দেশ করে।
সাধারণত, অ্যাসেটের মূল্য এই মুভিং অ্যাভারেজগুলো অতিক্রম করলে বা পৌঁছালে মার্কেটের বর্তমান মোমেন্টাম থেমে যেতে পারে অথবা নতুন প্রবণতার সূচনা হতে পারে।