ক্রিপ্টো মার্কেটের বর্তমান পরিস্থিতি অনেক বিনিয়োগকারীর মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করলেও, বিটকয়েনের দরপতনটি প্রযুক্তিগত বা এর দীর্ঘমেয়াদী সম্ভাবনার মৌলিক সমস্যার কারণে ঘটেনি—এটি মূলত আস্থার সংকটের ইঙ্গিত। তিনটি মূল বিষয় — ক্রিপ্টোভিত্তিক ইটিএফ ফান্ড থেকে বিনিয়োগ বহির্গমন, লিকুইডিটি বা তারল্য হ্রাস এবং নিয়ন্ত্রণ কাঠামো সংক্রান্ত অগ্রগতির মন্থরতা — ক্রিপ্টো মার্কেটে নেতিবাচক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে, তবে এগুলো এমন কোনো মৌলিক ধাক্কা নয় যা ডিজিটাল অ্যাসেটভিত্তিক সম্পূর্ণ কাঠামো ধ্বংস করে দেবে।

ঝুঁকি গ্রহণ না করার প্রবণতার মধ্যে স্বর্ণ ও স্টকের মতো অ্যাসেটের সাথে পারস্পারিক সম্পর্কের বিচ্ছিন্নতা ইঙ্গিত দেয় যে বিটকয়েন একটি স্বতন্ত্র ভূমিকা গড়ে তুলছে। আগে বিটকয়েনকে "ডিজিটাল স্বর্ণ" বা স্টকের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত অ্যাসেট হিসেবে দেখা হতো; এখন এটি অনিশ্চয়তার মাঝে আলাদা প্রবণতা দেখাচ্ছে। এটি অস্থায়ী ঘটনা হতে পারে বা নতুন, স্বতন্ত্র বিনিয়োগ নির্দেশকের সূচনা নির্দেশ করতে পারে।
২০২৫ সালের অক্টোবরে সর্বোচ্চ মূল্যের পৌঁছানোর পরে 50%-এরও বেশি দরপতন ও সাম্প্রতিক দীর্ঘতম দরপতন সত্ত্বেও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখা জরুরি। কারেকশনের পরও বিটকয়েনের মূল্য ২০২৩ সালের শুরুর দিককার তুলনায় প্রায় 370% উপরে রয়েছে — যা মার্কেটে গতিশীলতা ও দ্রুত পরিবর্তিত বিনিয়োগ মনোভাবকে প্রতিফলিত করে এবং একই সঙ্গে অ্যাসেটটির দীর্ঘমেয়াদি সহনশীলতাকেও তুলে ধরে।
সুতরাং, বর্তমান অবস্থাকে ধ্বংসাত্নক না বলে বরঞ্চ একটি রিসেট হিসেবে দেখা উচিত। এটি বিটকয়েনের পরিপক্বতার পরীক্ষা; সফলভাবে উত্তীর্ণ হলে এটি নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে পারে এবং এর ফলে বিটকয়েন কেবল একটি স্পেকুলেটিভ ইনস্ট্রুমেন্টের বাইরে গিয়ে আরও গভীরভাবে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় একীভূত হবে। সেই সংযোগের পুনঃস্থাপনই ক্রিপ্টো মার্কেটের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।
ট্রেডিংয়ের পরামর্শ

বিটকয়েন
ক্রেতারা বর্তমানে বিটকয়েনের মূল্যকে $68,900‑এ ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করছেন, যা সরাসরি $72,100‑এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত করে দেবে এবং সেখান থেকে বিটকয়েনের মূল্য $74,600‑এ পৌঁছতে পারে। আরও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার ক্ষেত্রে বিটকয়েনের মূল্যের প্রায় $77,300-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যায়; ওই লেভেল ব্রেক করে মূল্য ঊর্ধ্বমুখী হলে সেটি মার্কেটে বুলিশ প্রবণতা পুনঃস্থাপনের প্রচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হবে। দরপতনের ক্ষেত্রে বিটকয়েনের মূল্য $64,300‑এ থাকা অবস্থায় ক্রেতাদের সক্রিয় হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বিটকয়েনের মূল্য ওই এরিয়ার নিচে নেমে গেলে দ্রুত $60,100‑এর দিকে ধাবিত হতে পারে। নিম্নমুখী প্রবণতার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $56,100 লেভেলে দরপতনের সম্ভাবনা উন্মুক্ত হতে পারে।
ইথেরিয়াম
$2,017‑এর উপরে স্পষ্টভাবে কনসোলিডেশন হলে ইথেরিয়ামের মূল্যের সরাসরি $2,159‑এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে। আরও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার ক্ষেত্রে ইথেরিয়ামের মূল্যের প্রায় $2,316-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যায়; ওই লেভেল অতিক্রম করে মূল্য ঊর্ধ্বমুখী হলে মার্কেটে বুলিশ প্রবণতা শক্তিশালী হবে এবং ক্রেতাদের আগ্রহ পুনর্জাগরিত হবে। দরপতনের ক্ষেত্রে ইথেরিয়ামের মূল্য $1,891‑এর আশেপাশে থাকা অবস্থায় ক্রেতারা সক্রিয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। মূল্য ওই এরিয়ার নিচে নেমে গেলে ইথারের মূল্য দ্রুত প্রায় $1,768‑এ নেমে যেতে পারে। নিম্নমুখী প্রবণতার ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $1,644 লেভেলে দরপতনের সম্ভাবনা উন্মুক্ত হতে পারে।
চার্টে যা যা দেখা যাচ্ছে:
- লাল লাইন সাপোর্ট এবং রেজিস্ট্যান্স লেভেল নির্দেশ করে, যেখানে মূল্যের মুভমেন্ট থেমে যেতে পারে অথবা সক্রিয় মুভমেন্ট শুরু হতে পারে;
- সবুজ লাইন ৫০-দিনের মুভিং অ্যাভারেজ নির্দেশ করে;
- নীল লাইন ১০০-দিনের মুভিং অ্যাভারেজ নির্দেশ করে;
- হালকা সবুজ লাইন ২০০-দিনের মুভিং অ্যাভারেজ নির্দেশ করে।
সাধারণত, অ্যাসেটের মূল্য এই মুভিং অ্যাভারেজগুলো অতিক্রম করলে বা পৌঁছালে মার্কেটের বর্তমান মোমেন্টাম থেমে যেতে পারে অথবা নতুন প্রবণতার সূচনা হতে পারে।