বুধবারের ট্রেডিংয়ের পর্যালোচনা:
EUR/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

বুধবার আবারও EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা পরিলক্ষিত হয়েছে, এবং এই পেয়ারের দরপতনের পেছনে একাধিক কারণ ভূমিকা রেখেছে। গতকাল ইউরোজোনে কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি, ফলস্বরূপ দিনের প্রথমার্ধে এই পেয়ারের মূল্য প্রায় স্থবির ছিল। মার্কিন ট্রেডিং সেশনে তিনটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল, যেগুলোর প্রত্যেকটির ফলাফল মার্কিন ডলারের জন্য সহায়ক ছিল। যদিও ওই প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল অত্যন্ত চমকপ্রদ ছিল না এবং সেগুলোকে "গুরুত্বপূর্ণ" হিসেবেও গণ্য করা হয়না, তবুও এইরূপ ফলাফলের প্রতি প্রতিক্রিয়া দেখানোর জন্য আনুষ্ঠানিক কারণ ছিল। সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের ডিউরেবল গুডস অর্ডার সম্পর্কিত প্রতিবেদনটি — ডিসেম্বরে অর্ডার 1.4% হ্রাস পেলেও ট্রেডাররা এটি ইতিবাচকভাবে নিয়েছে, কারণ পূর্বাভাসে 2% পতনের প্রত্যাশা করা হচ্ছিল। এভাবেই মূলত ডলারের দর বৃদ্ধি পায়: প্রতিটি প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে একটি ন্যূনতম প্রত্যাশা নির্ধারিত থাকে, আর বাস্তবে ফলাফল যদি সেই প্রত্যাশা ছাড়িয়ে যায় তাহলে তা ডলারের পক্ষে সহায়ক কারণ হিসেবে কাজ করে।
EUR/USD 5M পেয়ারের চার্ট

বুধবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে দুটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত প্রথম সিগন্যালটি ভুল প্রমাণিত হয় এবং এই পেয়ারের মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকে 15 পিপসও এগোয়নি। তবুও 1.1830-1.1837 এরিয়ায় গঠিত দ্বিতীয় সেল সিগন্যালটি নতুন ট্রেডারদের প্রথম ট্রেডের ক্ষতিপূরণ করতে ও মুনাফার সাথে ট্রেড ক্লোজ করতে সাহায্য করেছে। দিনের শেষে এই পেয়ারের মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকে প্রায় 40 পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করেছে।
বৃহস্পতিবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী কারেকশন অব্যাহত আছে, যা শীঘ্রই পুনরায় উর্ধ্বমুখী প্রবণতায় রূপ নিতে পারে। ২০২৬ সালের শুরু থেকে দীর্ঘমেয়াদি উর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরায় শুরু হয়েছে, ফলে আমরা নতুন করে ইউরোর মূল্য বৃদ্ধির প্রত্যাশা করছি। সামগ্রিক মৌলিক প্রেক্ষাপট মার্কিন ডলারের জন্য খুবই চ্যালেঞ্জিং রয়ে গেছে, ফলে আমরা এই পেয়ারের মূল্যের আরও উর্ধ্বমুখী মুভমেন্টের প্রত্যাশা করছি।
বৃহস্পতিবার, এই পেয়ারের মূল্য 1.1830-1.1837 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করলে নতুন ট্রেডাররা নতুন করে শর্ট পজিশন বিবেচনা করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1745-1.1754-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। এই পেয়ারের মূল্য 1.1745-1.1754 এরিয়া থেকে রিবাউন্ড করলে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1830-1.1837-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1455-1.1474, 1.1527-1.1531, 1.1550, 1.1584-1.1591, 1.1655-1.1666, 1.1745-1.1754, 1.1830-1.1837, 1.1899-1.1908, 1.1970-1.1988, 1.2044-1.2056, 1.2092-1.2104। আজ ইউরোজোনে কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে না বা কোনো ইভেন্টও নির্ধারিত নেই, এবং যুক্তরাষ্ট্রে কেবলমাত্র আনএমপ্লয়মেন্ট ক্লেইমস সংক্রান্ত একটি স্বল্প গুরুত্বসম্পন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। অবশ্য, যদি এই প্রতিবেদনের ফলাফল পূর্বাভাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন হয় তবে তা মার্কেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে — যেমনটি গতকাল ঘটেছিল; তবে মোটকথা এই প্রতিবেদনটিকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:
- সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
- ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
- ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
- MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
- নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
- স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।
চার্টে কী কী রয়েছে:
- সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
- লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
- MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।