
এই পদক্ষেপটি বাণিজ্য সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন পর্যায় নির্দেশ করে, যেখানে মার্কিন প্রশাসন বিচারিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও গৃহীত লক্ষ্য পূরণ করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আমেরিকান কোম্পানিগুলোকে বৈদেশিক প্রতিযোগিতার হাত থেকে সুরক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যে এই বাড়তি শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে বলা হয়েছে, ফলে হোয়াইট হাউস বাণিজ্য কৌশল বাস্তবায়নের জন্য বিকল্প ও আইনগতভাবে জটিল পথ অনুসরণ করতে বাধ্য হচ্ছে। নতুন 10% শুল্ক, যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রবর্তিত হয়েছে সেটি আগের বাতিলকৃত ক্ষমতার আওতায় পড়ে না, এই বিষয়টি একইসাথে মার্কিন প্রশাসনের নমনীয়তা ও দৃঢ়তা প্রদর্শন করে।
গত শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘোষণার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট 10% আমদানী শুল্ক অনুমোদনকারী একটি ডিক্রি স্বাক্ষর করেছিলেন। পরে তিনি এটিকে 15% পর্যন্ত বাড়াবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে শুল্ক হার বাড়ানোর আদেশ জারি করেননি। ট্রাম্প প্রশাসনের এক প্রতিনিধি জানান হোয়াইট হাউস 15% পর্যন্ত শুল্ক বাড়াতে একটি আনুষ্ঠানিক ডিক্রি নিয়ে কাজ করছে, তবে ওই উচ্চ শুল্ক কবে থেকে কার্যকর হবে তা এখনও নির্ধারিত নয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল বাণিজ্য অংশীদাররা, যাদের মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারত রয়েছে, ইতোমধ্যেই জানিয়েছে যে অনিশ্চয়তার কারণে তারা চলমান বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করেছে।
আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী, আজ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গড় কার্যকর শুল্ক হার প্রায় 10.2% হবে, যা কোর্টের রায়ের পূর্বে বহাল 13.6% থেকে কম। বৈশ্বিক পর্যায়ে 15% শুল্ক কার্যকর করা হলে এই হার প্রায় 12% হবে বলে এক গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে যে শুল্ক ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতির একটি কেন্দ্রীয় স্তম্ভ হিসেবে বজায় থাকবে এবং তারা এ নিয়ে দ্রুতই আরও কাজ পরিকল্পনা নিশ্চিত করেছে, যা ট্রাম্পকে একপক্ষীয়ভাবেই শুল্ক আরোপের সুযোগ দেবে।
উপরোক্ত তথ্য অনুযায়ী, এই পরিস্থিতি ফরেক্স মার্কেটে মার্কিন ডলারের জন্য অনুকূল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
EUR/USD-এর টেকনিক্যাল চিত্র
ক্রেতাদের এখন মূলত এই পেয়ারের মূল্যকে 1.1785-এর লেভেলে নিয়ে যেতে হবে। শুধুমাত্র এর ফলেই এই পেয়ারের মূল্যের 1.1810 লেভেলে পৌঁছানোর সুযোগ উন্মুক্ত হবে। সেখান থেকে EUR/USD পেয়ারের মূল্য 1.1835-এ পৌঁছাতে পারে, তবে বড় ট্রেডারদের সমর্থন ব্যতীত তা করা কঠিন হবে। উর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে 1.1860 লেভেলের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মক্ত হতে পারে। দরপতনের ক্ষেত্রে, আমি কেবল মূল্য 1.1765-এ থাকা অবস্থায় ক্রেতাদের সক্রিয় হওয়ার প্রত্যাশা করছি। সেখানে যথেষ্ট ক্রয় কার্যক্রম না দেখা গেলে এই পেয়ারের মূল্যের 1.1745-এ নেমে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করাই যুক্তিযুক্ত হবে বা 1.1715 থেকে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে।
GBP/USD-এর টেকনিক্যাল চিত্র
পাউন্ডের ক্রেতাদের মূল্যের নিকটতম রেজিস্ট্যান্স 1.3500 অতিক্রম করাতে হবে। কেবল এর ফলে পাউন্ডের মূল্যের 1.3530-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যাবে, যা ব্রেকআউট করে আরও ঊর্ধ্বমুখী হওয়া কঠিন হবে। উর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে 1.3555 লেভেলের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মক্ত হতে পারে। এই পেয়ারের দরপতনের ক্ষেত্রে, মূল্য 1.3460-এ থাকা অবস্থায় ক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণের চেষ্টা করবে। তারা সফল হলে ওই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের লিকুইডেশনের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে এবং GBP/USD পেয়ারের মূল্য 1.3432-এ নেমে যেতে পারে, যেখান থেকে সম্ভাব্যভাবে 1.3405 পর্যন্ত দরপতন প্রসারিত হতে পারে।