এখনও বিটকয়েনের মূল্যের পুনরুদ্ধারের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। উপরন্তু, "ডিজিটাল স্বর্ণের" নতুন দরপতনের সম্ভাবনাও পরিলক্ষিত হচ্ছে। প্রথমত, 4-ঘন্টার টাইমফ্রেমে ট্রেন্ড লাইনের কাছ থেকে লিকুইডিটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত, ক্রেতারা বর্তমানে এতটাই দুর্বল যে দুইবার ডেভিয়েশন্সের পরও তারা একবারও বিটকয়েনের মূল্যকে সাইডওয়েজ চ্যানেলের উপরের সীমানায় নিয়ে যেতে পারেনি। তিন সপ্তাহ ধরে ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট অব্যাহত রয়েছে, কিন্তু বিটকয়েনের মূল্য ধীরে ধীরে আরও নিম্নমুখী হচ্ছে। ফলে "ডিজিটাল স্বর্ণের" দর বৃদ্ধির চেয়ে নতুন করে দরপতনের সম্ভাবনাই উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি বলে মনে হচ্ছে। প্রথম ক্রিপ্টোকারেন্সির যেকোনো তাৎপর্যপূর্ণ মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি তখনই বিবেচনা করা যাবে যখন এটির মূল্য সাইডওয়েজ চ্যানেলের উপরের সীমা ব্রেকআউট করে ঊর্ধ্বমুখী হবে।
একই সময়ে, বেশিরভাগ বিশ্লেষক মনে করছেন যে ইরান যুদ্ধ বিটকয়েনের জন্য। কেউ কেউ জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধির ফলে বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতির উত্থান এবং যুদ্ধে অর্থায়নের জন্য ফেড কর্তৃক অতিরিক্ত ডলার ইস্যু করার সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। মুদ্রাস্ফীতি নতুন করে বৃদ্ধি পেতে থাকলে পুনরায় বিনিয়োগকারীরা মূলধন সংরক্ষণের পথ খুঁজতে শুরু করতে পারে। বিটকয়েন আবারও স্বর্ণের পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে কাজ শুরু করতে পারে।
লন্ডন ক্রিপ্টো ক্লাবের বিশেষজ্ঞরাও জানান যে বিনিয়োগকারীরা বিটকয়েন ক্রয় করে কেবল ফিয়াট বা নগদ মুদ্রার মূল্যহ্রাস থেকে নয়—সম্ভাব্য রাজনৈতিক কাঠামো এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তন থেকেও আশ্রয় খুঁজছেন। কেউই জানে না মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ কতদিন পর্যন্ত স্থায়ী হবে। বিশ্লেষকরাও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে সংঘর্ষ দ্রুত থামলে সাময়িক উচ্ছ্বাস সৃষ্টি হতে পারে, যা ক্রিপ্টোকারেন্সি মার্কেটসহ সকল মার্কেটকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে।
আরেকটি ইতিবাচক দিক হল ইরান যুদ্ধের কারণে ফেড মুদ্রানীতি নমনীয় করতে বাধ্য হতে পারে এমন সম্ভাবনা রয়েছে। ইতিহাস অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক অভিযানের ফলে অবধারিতভাবে ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ফেডের মূল সুদের হার আরও কমানো হয়েছে।
BTC/USD‑এর ট্রেডিংয়ের পরামর্শ:
বিটকয়েনের মূল্যের পূর্ণাঙ্গ নিম্নমুখী প্রবণতা গঠিত হচ্ছে। আমরা এখনও $57,500-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে দরপতনের প্রত্যাশা করছি (যা তিন বছরের উর্ধ্বমুখী প্রবণতার 61.8% ফিবোনাচ্চি লেভেল), এবং এই মুহূর্তে প্রবণতা পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। এমনকি $57,500-ও আর দরপতনের চূড়ান্ত মাত্রা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না। পয়েন্ট অব ইন্টারেস্ট (POI) এরিয়াগুলোর মধ্যে, দৈনিক টাইমফ্রেমে নিকটতম "বিয়ারিশ" FVG মূল্য থেকে বেশ দূরে অবস্থিত। এখনও বিয়ারিশ প্রবণতা বজায় থাকায় 4-ঘণ্টার টাইমফ্রেমে সাইডওয়েজ চ্যানেলের উপরের সীমানায় গঠিত ডেভিয়েশনগুলোর দিকে মনোযোগ দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
ETH/USD‑এর ট্রেডিংয়ের পরামর্শ:
দৈনিক টাইমফ্রেমে অব্যাহতভাবে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। মূল সেল প্যাটার্ন হিসেবে সাপ্তাহিক টাইমফ্রেমের বিয়ারিশ অর্ডার ব্লকই বিবেচিত হচ্ছিল এবং এখনও তা বজায় আছে। যেমনটি আমরা সতর্ক করেছিলাম, সেই সিগন্যাল দ্বারা প্ররোচিত মুভমেন্টটি শক্তিশালী এবং দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। সেই প্যাটার্ন গঠনের পর ইথেরিয়ামের মূল্য ইতোমধ্যেই প্রায় 55% বা $2,500 হ্রাস পেয়েছে। নিকট ভবিষ্যতে একটি ঊর্ধ্বমুখী কারেকশনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে; তবে ইথেরিয়ামের মূল্য এখনও যথেষ্ট সংকীর্ণ সাইডওয়েজ চ্যানেলে রয়েছে। ইথেরিয়ামের মূল্য ফ্ল্যাট রেঞ্জের ভিতরে থাকাকালীন সময় কেবল সেই চ্যানেলের বর্ডার থেকে ট্রেডিং করা উচিত। এছাড়া পুরো ক্রিপ্টোকারেন্সি মার্কেটে বিটকয়েনের শক্তিশালী প্রভাবের বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি। ইথেরিয়ামের হয়তো কোনো বিয়ারিশ প্যাটার্ন বা সিগন্যাল দেখা যাচ্ছে না, কিন্তু বিটকয়েনের ক্ষেত্রে তা বজায় থাকতে পারে।
চিত্রের ব্যাখ্যা:
- CHOCH – ট্রেন্ড স্ট্রাকচারের ব্রেক বা চেঞ্জ অব ক্যারেকটার।
- লিকুইডিটি – স্টপ লসের লিকুইডিটি, যা ট্রেডাররা তাদের পজিশন বিল্ড করার জন্য ব্যবহার করে।
- FVG – প্রাইস ইনএফিসিয়েন্সি এরিয়া; এই এরিয়াগুলোতে মূল্য দ্রুত এগিয়ে যায়, যা মার্কেটে ক্রেতা/বিক্রেতা যেকোনো একপক্ষের সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি নির্দেশ করে। পরে মূল্য ওই এরিয়ায় দিকে ফিরে এসে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।
- IFVG – প্রাইস ইনএফিসিয়েন্সির ইনভার্টেড এরিয়া; এমন একটি এরিয়া যেখানে ফিরে এসে সেখানে কোনো প্রতিক্রিয়া না করে ইম্পালসিভভাবে ব্রেক করে যায় এবং পরে বিপরীত দিক থেকে টেস্ট করে।
- OB – অর্ডার ব্লক; সেই ক্যান্ডেল যেখানে মার্কেট মেকার তাদের পজিশন ওপেন করে লিকুইডিটি নিয়ে অপোজিট পজিশন বিল্ড করে।

