মঙ্গলবারের ট্রেডিংয়ের পর্যালোচনা:
EUR/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

অবশেষে মঙ্গলবার EUR/USD কারেন্সি পেয়ারের মূল্যের লক্ষণীয় উত্থান পরিলক্ষিত হয়েছে, যা বেশ কয়েকটি কারণে উদ্দীপিত হয়েছে। প্রথমত, গতকাল জেরোম পাওয়েল ট্রেডারদের আশ্বস্ত করেছেন যে ফেড শীঘ্রই মুদ্রানীতি কঠোর করার পরিকল্পনা করছে না। দ্বিতীয়ত, জার্মানি ও ইউরোজোনের প্রতিবেদনগুলোতে মার্চে মুদ্রাস্ফীতি সূচকের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে, যা দীর্ঘদিন পর প্রথমবারের মতো ইসিবির সুদের বৃদ্ধির সম্ভাবনা বেশ বাড়িয়েছে। তৃতীয়ত, ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় উল্লেখ করেছেন যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ খুব শীঘ্রই শেষ হতে পারে। চতুর্থত, যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির শূন্যপদ সম্পর্কিত JOLTs প্রতিবেদনের ফলাফল প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল এসেছে। সুতরাং কয়েক সপ্তাহ পর প্রথমবার এই সব উপাদান একসঙ্গে এসে ইউরো সামান্য মূল্য বাড়িয়েছে। সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে যে মার্কেটের ট্রেডাররা সামষ্টিক-অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের ফলাফলের প্রতি সাড়া দিয়েছে, যা উৎসাহব্যঞ্জক এবং আসন্ন প্রতিবেদনগুলোও গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করা হতে পারে বলেই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। সামনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে: ISM ম্যানুফ্যাকচারিং ইনডেক্স, নন-ফার্ম পে-রোলস এবং বেকারত্ব হার। যদি এগুলোর ফলাফল হতাশাজনক হয়, তাহলে মার্কিন ডলারের দরপতন অব্যাহত থাকবে, অন্তত কারেকশনের অংশ হিসেবে।
EUR/USD 5M পেয়ারের চার্ট

মঙ্গলবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে দুটি ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়। ইউরোপীয় ট্রেডিং সেশনে এই পেয়ারের মূল্য 1.1455-1.1474 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, এবং মার্কিন সেশনে এই পেয়ারের মূল্য 1.1527-1.1531 এরিয়া ব্রেক করে। ফলে নতুন ট্রেডাররা একটি লং পজিশন ওপেন করতে পেরেছিল, যা থেকে দিনের শেষে প্রায় 60-70 পিপস লাভ হয়েছে।
বুধবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এই পেয়ারের মূল্য অ্যাসেন্ডিং ট্রেন্ডলাইন ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে এবং আবারও আমরা কোনো উল্লেখযোগ্য উর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখিনি। ২০২৬ সালের শুরুতে এই পেয়ারের মূল্যের দীর্ঘমেয়াদি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরায় শুরু হওয়ায় আমরা মধ্যমেয়াদে নতুন করে ইউরোর দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করছি। মার্কিন ডলারের জন্য সামগ্রিক মৌলিক পটভূমি এখনও বেশ চ্যালেঞ্জিং রয়ে গেছে; যাইহোক বর্তমানে মার্কেটের ট্রেডাররা মূলত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির দিকে দৃষ্টিপাত করছে। এটিই এই পেয়ারের মূল্যের বৈশ্বিক উর্ধ্বমুখী প্রবণতা পুনরায় শুরু করতে বাধা সৃষ্টি করছে। এবং দেড় মাস ধরে নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় রেখেছে।
বুধবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1584-1.1591 এরিয়ার কাছ থেকে বাউন্স করে, তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন বিবেচনা করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.1527-1.1531 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.1584-1.1591 এরিয়ার উপরে কনসোলিডেশন করে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.1655-1.1666-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে, ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা উচিত: 1.1267-1.1292, 1.1354-1.1363, 1.1413, 1.1455-1.1474, 1.1527-1.1531, 1.1584-1.1591, 1.1655-1.1666, 1.1745-1.1754, 1.1830-1.1837, 1.1899-1.1908। বুধবার ইউরোজোনে বেকারত্বের হ্রার সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, আর যুক্তরাষ্ট্রে ADP শ্রমবাজার, খুচরা বিক্রয় এবং ISM ম্যানুফ্যাকচারিং ইনডেক্স সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। যদি মার্কেটের ট্রেডাররা অবশেষে ভূ-রাজনীতি থেকে দৃষ্টি সরিয়ে অর্থনীতির দিকে মনোযোগ দেয়, তাহলে মার্কিন প্রতিবেদনের ফলাফল মার্কেটে কার্যকর প্রভাব ফেলতে পারে।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:
- সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
- ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
- ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
- MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
- নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
- স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।
চার্টে কী কী রয়েছে:
- সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
- লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
- MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।