গতকাল তেলের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত ছিল। এটি স্পষ্ট যে তেলের মূল্য বৃদ্ধি শুধুমাত্র মার্চে প্রায় 50% উত্থানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না এবং পরবর্তী দুই মাসেও বজায় থাকতে পারে। পারস্য উপসাগরকে ঘিরে সৃষ্ট উত্তেজনা তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি $200-এ পৌঁছাতে পারে। এমনকি OPEC+ যদি ৫ এপ্রিল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্তও নেয়, তাও মার্কেটে তেমন প্রভাব ফেলবে বলে মনে হচ্ছে—হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় এবং তেল ও গ্যাস অবকাঠামোর ওপর আক্রমণের ফলে মার্চে বিভিন্ন দেশের তেল উৎপাদনের হার ইতোমধ্যেই প্রায় 20% কমে গিয়েছে।

পারস্য উপসাগরের পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক রয়ে গেছে। সরাসরি সামরিক সংঘাত আর প্রধান তেল আহরণ ও পরিবহন স্থাপনার ওপর আঘাত বৈশ্বিক তেল সরবরাহের ওপর নজিরবিহীন ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে। সরবরাহ-সংকট সম্পর্কিত উদ্বেগের কারণে মার্কেটে সৃষ্ট আতঙ্ক পরিস্থিতিকে আরও নেতিবাচক করে তুলেছে, ফলে তেলের দাম আরও বাড়ছে। ট্রাম্পের মন্তব্য ও যুদ্ধ সমাপ্তির প্রতিশ্রুতি যদিও মার্কেটকে কিছুটা প্রভাবিত করছে এবং তেলের মূল্যের বুলিশ প্রবণতাকে সামান্য দুর্বল করেছে, তবুও চীন, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বড় বড় তেল-ভোক্তা দেশগুলো ইতোমধ্যেই বাড়তি জ্বালানি মূল্যের প্রভাব অনুভব করছে।
উৎপাদন খরচ বাড়ায় তেলের দাম আরও বাড়বে, যা মুদ্রাস্ফীতি বাড়াতে পারে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ধীর করে দিতে পারে। ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে বিকল্প জ্বালানি উৎস খোঁজার ও তাদের জ্বালানি কৌশল পুনর্বিবেচনার পথে হাটতে বাধ্য হচ্ছে; তবে জ্বালানি নির্ভরতা দ্রুত বৈচিত্র্যকরণ করা চ্যালেঞ্জিং। একই সময়ে, উৎপাদন কম থাকলেও দাম বাড়ার ফলে তেল-রপ্তানিকারক দেশগুলো ব্যারেল প্রতি তেলের উচ্চ মূল্যের কারণে লোকসান পুষিয়ে লাভ পেতে পারে।
এদিকে জ্বালানি সংকট তীব্র হওয়ার মধ্যে ইরান বিশ্বের অন্যতম প্রধান জলসীমা হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাসেম ঘারিবাবাদি প্রতিবেশী ওমানের সঙ্গে একটি প্রোটোকল স্থাপনের প্রস্তুতির কথা ঘোষণা দিয়েছেন, যার মাধ্যমে মূলত এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল কার্যক্রম ইরানের নজরদারির আওতায় আসবে। বর্তমান সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে কার্যত বন্ধ হয়ে পড়া এই প্ৰণালী এখন ইরানী প্রজাতন্ত্রের জন্য রাজস্বের উৎস হয়ে উঠতে পারে, কারণ এই প্রোটোকলে জাহাজ-মালিকদের কাছ থেকে টোল আদায়ের বিধান রাখা হয়েছে।
তেহরানের এই কৌশল কেবল পরিস্থিতির কার্যকর ব্যবহার করার প্রচেষ্টা নয়; এটি মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে দেশটির প্রভাব প্রদর্শনের উদ্দেশ্যপূর্ণ কৌশলও বটে। ওমানের সঙ্গে করা নতুন চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে জাহাজ-মালিকদের ইরানকে টোল প্রদান করার বা অধিক ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হওয়ার মতো বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ওপর চাপ আরও বাড়াতে পারে।

তেলের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র সম্পর্কে বলতে গেলে, ক্রেতাদের তেলের মূল্যকে নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স $113.36 অতিক্রম করাতে হবে। এর ফলে তেলের মূল্যের $118.88-এর লক্ষ্যমাত্রা দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে, যার ওপরে যাওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে। ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকার ক্ষেত্রে পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে প্রায় $124.86-এর লেভেল নির্ধারণ করা যায়। অপরদিকে, দরপতন হলে, তেলের মূল্য $106.83-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে; তাঁরা সফল হলে এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনগুলোর ওপর বড় আঘাত হবে এবং তেলের মূল্য $100.40-এ নেমে গিয়ে পরবর্তীতে $92.54 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনাও তৈরি হবে।