গত শুক্রবার মার্কিন ইক্যুইটি সূচকগুলোতে মিশ্র প্রবণতার সাথে লেনদেন শেষ হয়েছে। S&P 500 সূচক 0.11% বৃদ্ধি পেয়েছিল, কিন্তু নাসডাক 100 সূচক 0.35% দরপতনের শিকার হয়েছে। ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ 0.56% হ্রাস পেয়েছে।

আজ ইমার্জিং মার্কেট সূচকগুলো তীব্রভাবে নিম্নমুখী হয়েছে, কারণ ইসলামাবাদে মার্কিন-ইরান আলোচনার ব্যর্থতার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা হ্রাস পেয়েছে। গতকাল পর্যন্ত যে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটে বিনিয়োগ করার কথা ভাবছিলেন, তারা দ্রুত মূলধন সরিয়ে নিতে শুরু করেছে। বিপরীতে, জ্বালানি তেলের দর স্থিরভাবে বাড়ছে, তবে তা ইক্যুইটি মার্কেটের ব্যাপক লোকসান পোষাতে পারছে না।
MSCI ইমার্জিং মার্কেট সূচকটি এশিয়ান ট্রেডিং সেশন প্রযুক্তি খাতভিত্তিক শেয়ারগুলোর দরপতনের মধ্যে 1.2% হ্রাস পেয়েছে; দরপতনের শিকার স্টকের তালিকায় স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স কোং ও টেনসেন্ট হোল্ডিংস লিমিটেডের নাম উল্লেখযোগ্য। মার্কিন ডলারের বিপরীতে আঞ্চলিক কারেন্সিগুলো বেশিরভাগই দরপতনের শিকার হয়েছে: ভারতীয় রুপি ও দক্ষিণ আফ্রিকার র্যান্ডের 0.7%-এর বেশি দরপতন হয়েছে। তবে ইউরোপীয় কারেন্সিগুলোর মধ্যে হাঙ্গেরিয়ান ফরিন্ট ভালো করেছে। মার্কিন-ইরান আলোচনার ব্যর্থতার কারণে বিশ্বব্যাপী সরকারি বন্ডগুলোর ওপরও চাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা মুদ্রাস্ফীতির হার বৃদ্ধির উদ্বেগকে বাড়িয়েছে
জ্বালানি তেলের দর বৃদ্ধি পেয়েছে — মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী অবরোধের নির্দেশ দেওয়ার পর তেলের দর ব্যারেল প্রতি $100 অতিক্রম করেছে — ফলে তেল আমদানিকারী দেশগুলোর, বিশেষ করে এশিয়াতে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা বাড়ছে। গত সপ্তাহে যুদ্ধবিরতির ফলে সৃষ্ট আশাবাদের বিপরীতে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে ইমার্জিং মার্কেটের অ্যাসেটগুলোর পুনরুদ্ধার থেমে গেছে।
মুদ্রাস্ফীতি সম্পর্কে বলতে গেলে, যুক্তরাষ্ট্রে মার্চের সর্বশেষ প্রতিবেদনে মুদ্রাস্ফীতির হার অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসের তুলনায় সামান্য কম এসেছে, মাসিক ভিত্তিতে 0.9% বেড়েযছে। মূল মুদ্রাস্ফীতির হার প্রত্যাশার চেয়েও কম ছিল এবং এই হার ফেডের কাছে অপেক্ষাকৃত গ্রহণযোগ্য স্তর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বার্ষিক ভিত্তিতে দেশটির মুদ্রাস্ফীতির হার 2.5% থেকে 2.6%-এ পৌঁছেছে, যা 2.7%-এ পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। এই ফলাফল ফেডের জন্য উদ্বেগজনক; একদিকে এটি মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পূর্বের প্রচেষ্টা ধীরে ধীরে কাজ করছে তা নিশ্চিত করে, অন্যদিকে মুদ্রাস্ফীতির হার এখনও ফেডের 2%-এর লক্ষ্যমাত্রার উপরে আছে—মুদ্রাস্ফীতির পূর্ণ স্থিতিশীলতার সম্ভাবনা এখনো দেখা যাচ্ছে না। মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থা কবে থেকে আর্থিক নীতিমালা নমনীয় করতে পারে সেই ইঙ্গিত জানার জন্য অর্থনীতিবিদরা প্রতিটি নতুন প্রতিবেদন ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।

S&P 500-এর টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, আজ ক্রেতাদের প্রধান কাজ হবে সূচকটির নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স $6,784 অতিক্রম করানো। এটি করতে পারলেই সূচকটির মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সৃষ্টি হবে এবং $6,801-এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত হতে পারে। ক্রেতাদের জন্য সূচকটির দর $6,819-এর উপরে ধরে রাখা সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হবে, যা ক্রেতাদের অবস্থানকে দৃড় করবে। ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা হ্রাস পেয়ে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেলে সূচকটির দর $6,769 এরিয়ায় থাকা অবস্থায় ক্রেতাদের সক্রিয় হতে হবে; ওই লেভেলের নিচে দরপতন ঘটলে দ্রুত ইনস্ট্রুমেন্টটির মূল্য $6,756 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে এবং $6,743-এ পৌঁছানোর সম্ভাবনা উন্মুক্ত হতে পারে।