সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা তীব্র হওয়ার পর ট্রেডাররা সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করায় জ্বালানি তেলের মূল্য উর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে, যা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার আশাবাদের মধ্যে দরপতনের শিকার হয়েছিল।

ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দর 5.5% বেড়ে ব্যারেল প্রতি $95.33-এ পৌঁছেছে। এর মূল কারণ হচ্ছে সপ্তাহান্ত জুড়ে বিশৃঙ্খলতার পর মার্কিন নৌবাহিনী একটি ইরানী জাহাজ জব্দ করেছে—পাল্টা জবাবে তেহরান অন্যান্য জাহাজগুলো লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর পুনরায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কথা জানায়। লক্ষণীয় যে মাত্র শুক্রবারই ইরান ঘোষণা দিয়েছিল যে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণভাবে খোলা রয়েছে।
তেলের মূল্যের উত্থান জ্বালানি খাতজুড়ে নতুন করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নির্দেশ করে। মার্কিন নৌবাহিনী কর্তৃক ইরানী জাহাজ জব্দকরণ, অন্যদিকে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরান কর্তৃক অন্যান্য জাহাজে আক্রমণ এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ পুন:প্রতিষ্ঠার খবর ট্রেডারদের মনোভাব তীব্রভাবে নেতিবাচক হয়ে যায়। এর ফলে কয়েক দিন আগে ইরানের কর্মকর্তাদের বক্তব্য থেকে পরিলক্ষিত প্রাথমিক আশাবাদকে দুর্বল হয়ে গিয়েছে।
সপ্তাহান্তের ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের ব্যাপারে পূর্বের প্রত্যাশার সাথে স্পষ্টভাবে বিপরীত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার তীব্র উত্তেজনা তেল সরবরাহের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, যা সরাসরি জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক মূল্যে প্রভাব ফেলছে। ভবিষ্যতে আরও বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় ট্রেডাররা তাদের পজিশন হেজ করতে ফিউচার ক্রয় করছে, ফলে জ্বালানি তেলের মূল্য বেড়ে যাচ্ছে।
হরমুজ প্রণালী বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডোর, যার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপথে তেলের বড় একটি অংশ পরিবহন করা হয়। ইরান পুনরায় হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করায় এবং মার্কিন নৌবাহিনী কর্তৃক ইরানি জাহাজ জব্দের মতো ঘটনাগুলোর কারণে ট্রেডাররা ব্যাপকভাবে সতর্ক রয়েছে।
তবে কূটনৈতিক সমাধানের প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের মনোবলকে ইতিবাচক রাখছে। দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি এই মঙ্গলবার শেষ হতে যাচ্ছে এবং সব নজর এখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা পুনরায় শুরু করবে কিনা এবং এই প্রধান সমুদ্রপথ পুনরায় খোলা হবে কি না সেদিকেই রয়েছে, বিশেষত ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক আলোচনার ব্যর্থতার পর।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে সংঘাতের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে মতবিরোধ সৃষ্টি হওয়ায় শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইরান কর্তৃপক্ষ ইঙ্গিত দিয়েছে যে মার্কিন নৌবাহিনী কর্তৃক হরমুজ প্রণালী অবরোধ চলাকালীন সময়ে তারা এ সপ্তাহে দ্বিতীয় দফার আলোচনায় যোগ নাও দিতে পারে, যা উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ট্রাম্প শুক্রবার জানিয়েছিলেন যে ইরানের সাথে চুক্তি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে, কিন্তু রবিবার সকালে তিনি বলেন আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরানের সকল বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংস করা হবে।
জ্বালানি তেলের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের তেলের মূল্যকে পুনরায় নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স $92.54-এ নিয়ে যেতে হবে। এতে তাঁরা তেলের মূল্যকে $100.40-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে নিয়ে যেতে পারবে, যা ব্রেকআউট করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $106.83 এরিয়া নির্ধারণ করা যায়। তেলের দরপতনের ক্ষেত্রে মূল্য $86.67-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করবে। যদি তাঁরা সফল হয়, তাহলে এই রেঞ্জ ব্রেক করে নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের জন্য উল্লেখযোগ্য আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তেলের মূল্য $81.38 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে এবং $74.85 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনাও উন্মুক্ত হতে পারে।