আজ জ্বালানি তেলের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রধান কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান কর্তৃক মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ সমাপ্তির লক্ষ্যে দেয়া প্রস্তাবে উল্লিখিত পাল্টা শর্তগুলো প্রত্যাখ্যান করার সিদ্ধান্ত নেন। এই সিদ্ধান্তে কার্যত হরমুজ প্রণালীর অচলাবস্থা আরও দীর্ঘায়িত হয়েছে, যা জ্বালানি তেল পরিবহনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ।

ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দর 4.6% উত্থান পরিলক্ষিত হয় এবং ব্যারেল প্রতি $105.99-এ পৌঁছায়। অপরদিকে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুডের দর ব্যারেল প্রতি প্রায় $100-এ অবস্থান করছে।প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন যে ইরানের পাল্টা ব্যবস্থাগুলো "একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।" ইরানের প্রস্তাবিত সমাধান প্রত্যাখ্যান করলে এ অঞ্চলের ইতোমধ্যেই উত্তেজনাপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হবে, যা সম্ভাব্য সরবরাহ বিঘ্নতা আশঙ্কায় ঐতিহ্যগতভাবে জ্বালানি তেলের মূল্যের দ্রুত বৃদ্ধিতে ঘটায়।হরমুজ প্রণালী দিয়ে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ পরিবহন করা হয় এবং এই প্রণালীকে ঘিরে বিদ্যমান অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হওয়ার ফলে সরাসরি জ্বালানি তেলের সরবরাহে প্রভাব পড়েছে এবং ফলস্বরূপ অপরিশোধিত তেলের দামের উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। সংঘাত আরও বৃদ্ধি পেতে থাকলে জ্বালানি তেলের মূল্যের আরও বড় উত্থান ঘটতে পারে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা ইতোমধ্যে সতর্কতা জারি করেছে এবং বলেছে যে এই সংঘাত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সরবরাহ বিভ্রাট সৃষ্টি করছে।
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত পুনরায় তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা জ্বালানি তেলের মূল্যের উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী তেহরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদের কিছু অংশ একটি তৃতীয় দেশে স্থানান্তরের প্রস্তাব দিয়েছে, তবে নিজস্ব পারমাণবিক অবকাঠামোগুলো ধ্বংস করার ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছে।
এদিকে রোববার পারস্য উপসাগরে কাতার উপকূলে একটি কার্গো জাহাজে ড্রোন হামলায় আগুন ধরে যাওয়ার ঘটনা ঘটে, যা ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর থেকে এই অঞ্চলের জাহাজগুলোর ওপর আরেকটি আঘাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতও তাদের আকাশসীমায় একাধিক শত্রু ড্রোন আটক করার তথ্য জানিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের আশা বেশ কম।

তেলের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের তেলের মূল্যকে নিকটতম রেজিস্ট্যান্স $100.40-এ পুনরুদ্ধার করতে হবে। এতে সফল হলে স্বর্ণের মূল্যের $106.80-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যায়, যা ব্রেক করা বেশ কঠিন হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে প্রায় $113.80 লেভেল নির্ধারণ করা যায়। অন্যদিকে তেলের দরপতনের ক্ষেত্রে মূল্য $92.50-এ থাকা অবস্থায় ক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করবে; তারা সফল হলে এই রেঞ্জ ব্রেকআউট করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনগুলোর ওপর গুরুতর আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তেলের মূল্য $86.67 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, এমনকি $81.38 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।