প্রায় তিন মাস ধরে বিটকয়েন ও ইথেরিয়ামের মূল্যের উর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা একটি কারেকশন হিসেবে বিবেচনা করা যায়। এটি দৈনিক টাইমফ্রেমে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। বিটকয়েনের মূল্য এখনও লোয়ার লিকুইডিটি পুলগুলোতে পৌঁছায়নি, এবং প্রায় 90% সম্ভাবনা রয়েছে যে বিটকয়েনের মূল্য পুনরায় সেখানে পৌঁছাবে। তবু ট্রেডাররা উদাসীন ও দিশাহীনভাবে ট্রেডিং করে চলেছেন। বুলিশ প্রবণতার জন্য নতুন কোনো প্রয়োজনীয় মৌলিক ভিত্তি বা চাহিদা উভয়ই অনুপস্থিত; তবুও ট্রেডাররা বিয়ারিশ প্রবণতার জন্যও প্রস্তুত বলে মনে হচ্ছে না।
এদিকে বিনিয়োগ বিশ্লেষক লিন অ্যাল্ডেন বলেছেন যে ক্রমবর্ধমান মার্কিন জাতীয় ঋণের ফলে বিটকয়েনের মূল্য $150,000 পর্যন্ত উঠতে পারে—দেশটির জাতীয় ঋণের পরিমাণ সম্প্রতি $39 ট্রিলিয়ন অতিক্রম করেছে। লক্ষণীয়ভাবে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার আগে জাতীয় ঋণ কমানো, বাজেট ঘাটতি দূর করা এবং বাণিজ্য ঘাটতির ভারসাম্য ঠিক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। দ্বিতীয় মেয়াদের একবছর পরেও জাতীয় ঋণ বাড়ছে, বাণিজ্য ঘাটতি নেতিবাচকই রয়েছে এবং বাজেট ঘাটতিও বজায় রয়েছে। অ্যাল্ডেন বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের দিকে এগোচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো অর্থ মুদ্রণ অব্যাহত রাখছে, যা স্থায়ী মুদ্রাস্ফীতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, বহু দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাই এভাবে কাজ করে: সরকারকে ঋণের অর্থায়নের জন্য ধারাবাহিকভাবে মুদ্রা ছাপানো হচ্ছে, ফলশ্রুতিতে অর্থের ক্রয়ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অ্যাল্ডেনের মতে এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো বিটকয়েন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো যত বেশি নগদ অর্থ ছাপাবে, বিটকয়েনের মূল্য তত বেশি বাড়বে, যাতে অতিরিক্ত লিকুইডিটি শোষিত হয়। সংক্ষেপে, বাস্তব চাহিদার কারণে নয় বরং বিটকয়েনের মূল্য বাড়বে কারণ পৃথিবীতে টাকার পরিমাণ বেড়ে যাবে আছে। বিনিয়োগকারারা এখনও অন্যান্য ইনভেস্টমেন্ট ইন্সট্রুমেন্ট থেকে মূলধন সরিয়ে বিটকয়েনে বিনিয়োগ করতে অনিচ্ছুক রয়েছে, কিন্তু "নতুন টাকা" বা "অতিরিক্ত টাকা" ক্রিপ্টো মার্কেটে ঢুকতে পারে। উল্লেখ্য, ইসিবি, ব্যাংক অব ইংল্যান্ড বা ফেডারেল রিজার্ভের মধ্যে কেউই বর্তমানে কোয়ান্টিটেটিড ইজিং কার্যক্রম চালাচ্ছে না।
BTC/USD-এর ট্রেডিংয়ের পরামর্শ
বিটকয়েনের মূল্যের একটি পূর্ণাঙ্গ নিম্নমুখী প্রবণতা গঠিত হচ্ছে—এর বিপরীতে শুধুমাত্র কারেকশনভিত্তিক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আমরা এখনও $57,500-এর দিকে (তিন বছরের উর্ধ্বমুখী প্রবণতার 61.8% ফিবোনাচ্চি লেভেল) দরপতনের প্রত্যাশা করছি এবং এই প্রবণতা পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা আপাতত দেখা যাচ্ছে না। এমনকি $57,500 লেভেলও আর দরপতনের চূড়ান্ত মাত্রা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না। বর্তমানে একমাত্র পয়েন্ট অব ইন্টারেস্ট এরিয়া হলো দৈনিক টাইমফ্রেমে নিকটতম বিয়ারিশ FVG, যা $79,300–$81,200 এরিয়ায় অবস্থিত। এটি এখনও সম্পূর্ণভাবে বাতিল হয়নি, কিন্তু শীঘ্রই হতে পারে। যদি ঐ FVG বাতিল হয়, সেল পজিশনের পরবর্তী পয়েন্ট অব ইন্টারেস্ট এরিয়া হবে $84,900–$88,800 (পরবর্তী বিয়ারিশ FVG)। নিম্নমুখী প্রবণতার ক্ষেত্রে বিটকয়েনের মূল্যের $60,000-এর নিচের দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যায়। লং পজিশনের জন্য দৈনিক টাইমফ্রেমে বুলিশ FVG ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে মনে রাখবেন যে বর্তমানে ক্রিপ্টো মার্কেটে পরিলক্ষিত যেকোনো উত্থানকে মৌলিকভাবে একটি কারেকশন হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
ETH/USD-এর ট্রেডিংয়ের পরামর্শ
দৈনিক টাইমফ্রেমে ইথেরিয়ামের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা এখনও চলমান রয়েছে, এর বিপরীতে কারেকশনভিত্তিক ঊর্ধ্বমুখী মুভমেন্ট দেখা যাচ্ছে। মূল সেল প্যাটার্ন হিসেবে সাপ্তাহিক টাইমফ্রেমের বিয়ারিশ অর্ডার ব্লক (OB) অব্যাহত ছিল এবং আছে। যেমনটি আমরা সতর্ক করেছিলাম, সেই সিগন্যালের ফলে সৃষ্ট মুভমেন্ট শক্তিশালী এবং দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে এবং এটি এখনও অব্যাহত আছে, বিটকয়েন বা ইথেরিয়ামের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতা সম্পন্ন হওয়ার কোনো লক্ষণ এখনও দেখা যাচ্ছে না। নিকট ভবিষ্যতে ইথারের মূল্যের একটি দুর্বল ঊর্ধ্বমুখী কারেকশন অব্যাহত থাকতে পারে, কিন্তু প্রতিটি কারেকশনই এক সময় শেষ হয়। দৈনিক টাইমফ্রেমে পরবর্তী FVG-তে একটি সেল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে, এবং বিটকয়েনেরও সেল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে। সেজন্য লোয়ার টাইমফ্রেমে স্ট্রাকচার ব্রেক এবং হায়ার টাইমফ্রেমে বিয়ারিশ প্যাটার্নের গঠন (অথবা তাতে প্রতিক্রিয়া) পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দিচ্ছি। ইথেরিয়ামের মূল্যের 2026 সালের সর্বনিম্ন লেভেল $1,744-এ পৌঁছানোর যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে।
চার্টের ব্যাখা
- CHOCH — চেঞ্জ অব ক্যারেকটার / ট্রেন্ড স্ট্রাকচারের ব্রেক।
- লিকুইডিটি — লিকুইডিটি, ট্রেডারদের স্টপ‑লস যা মার্কেট‑মেকাররা তাদের পজিশন ওপেন করতে ব্যবহার করে।
- FVG — ফেয়ার ভ্যালু গ্যাপ। মূল্য প্রায়ই এমন এরিয়াগুলো দ্রুত অতিক্রম করে, যা মার্কেটে ক্রেতা বা বিক্রেতা যেকোনো একপক্ষের অনুপস্থিতি নির্দেশ করে; পরে এই জোনগুলোতে ফিরে এসে মূল্যের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
- IFVG — ইনভার্টেড ফেয়ার ভ্যালু গ্যাপ। এমন জোনে ফেরার পর মূল্যের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি না হয়ে ব্রেকআউট হয় এবং পরে উল্টো দিক থেকে টেস্ট করে।
- OB — অর্ডার ব্লক। এমন একটি ক্যান্ডেল যা কাজে লাগিয়ে মার্কেট‑মেকাররা লিকুইডিটি ঘটাতে পজিশন ওপেন করেন এবং পরে বিপরীত দিকে নিজের পজিশন ওপেন করেন।

