প্রধান Quotes Calendar ফোরাম
flag

FX.co ★ বিশ্ব অর্থনীতি কি হরমুজ প্রণালীর উপর নির্ভরশীল?

next parent
ফরেক্স বিশ্লেষণ:::2026-05-18T08:14:37

বিশ্ব অর্থনীতি কি হরমুজ প্রণালীর উপর নির্ভরশীল?

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের এগারোতম সপ্তাহ একটি সামরিক সংঘাতের পর্যায় পেরিয়ে এখন পুরোদস্তুর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটে রূপ নিয়েছে। হরমুজ প্রণালী—যার মধ্য দিয়ে সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হত—তা এখন কার্যত উভয় দিক থেকেই অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে: ইরান বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আটকে দিচ্ছে, আর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে। ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি $111 ছাড়িয়ে গেছে; গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৩.৮ শতাংশে পৌঁছেছে—যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ; ইউরোজোনে এই হার ৩.০ শতাংশে রয়েছে—যা ২০২৩ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সুদের হারে কোনো পরিবর্তন আসছে না। আর শান্তি আলোচনা প্রক্রিয়াও বর্তমানে স্থবির হয়ে পড়েছে।

 বিশ্ব অর্থনীতি কি হরমুজ প্রণালীর উপর নির্ভরশীল?

গত রবিবার উভয় পক্ষের বাগাড়ম্বর ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় তীব্র আকার ধারণ করে। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন: "ইরানের সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে; তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত—অত্যন্ত দ্রুত—নতুবা তাদের অস্তিত্বের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে!" এরপর তিনি বেশ কিছু আক্রমণাত্মক গ্রাফিকচিত্র পোস্ট করেন—যার মধ্যে ছিল মধ্যপ্রাচ্যের একটি মানচিত্র, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা এবং ইরানের দিকে নির্দেশিত বেশ কিছু তীরচিহ্ন আঁকা ছিল। এক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামরিক অভিযানের উপায় নিয়ে আলোচনার উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার ট্রাম্প 'সিচুয়েশন রুমে' একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছেন।

উভয় পক্ষের মধ্যকার মতপার্থক্যগুলো এখনো মৌলিক পর্যায়েই রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র জোর দিয়ে বলছে যে, ইরানের ইউরেনিয়াম তাদের নিজস্ব ভূখণ্ড থেকে সরিয়ে নিতে হবে; তারা ইরানকে যেকোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে এবং ইরানের জব্দকৃত সম্পদের মাত্র এক-চতুর্থাংশ অর্থ অবমুক্ত করার প্রস্তাব দিচ্ছে। অন্যদিকে, ইরান দাবি জানাচ্ছে—নিষেধাজ্ঞাগুলো সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নিতে হবে, তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং—সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি হিসেবে—হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার যে সার্বভৌম অধিকার তাদের রয়েছে, অবশ্যই সেটির স্বীকৃতি দিতে হবে।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে এই কারণে যে—যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে—ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির সম্পূর্ণ বিপরীতে গিয়ে তেহরান তাদের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোর ওপর পুনরায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। এই বিষয়টি চলমান আলোচনা প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলতে পারে; যদিও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এই আলোচনা এখনও অব্যাহত রয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত তা থেকে কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।

হরমুজ প্রণালীর বর্তমান পরিস্থিতি: ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে যে, গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তারা একটি বাণিজ্যিক জাহাজকেও হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতের অনুমতি দেয়নি। একই সাথে তারা পারস্য উপসাগরে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোকে অচিরেই "অকার্যকর" বা নিষ্ক্রিয় করে দেওয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। ঠিক সেই সময়েই, সংযুক্ত আরব আমিরাতের 'বারাকাহ' পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অদূরে একটি বৈদ্যুতিক জেনারেটরে ইরানের একটি ড্রোন হামলায় বিস্ফোরণ ঘটেছে। তবে একমাত্র ইতিবাচক সংকেতটি হলো—রিয়াদ তেহরানের কাছে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে 'অনাক্রমণ চুক্তি' স্বাক্ষরের প্রস্তাব দিয়েছে। যেমনটি আমি উপরে উল্লেখ করেছি, সার্বিক পরিস্থিতি অনুযায়ী মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ছে এবং মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধি পাচ্ছে। এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রাস্ফীতির হার বার্ষিক ভিত্তিতে ৩.৮% ছিল, এবং উৎপাদক মূল্য সূচক বেড়ে বার্ষিক ভিত্তিতে ৬%-এ পৌঁছেছে—যা ২০২২ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকগণ ২০২৬ সালে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনাকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছে, যার ফলে গত সপ্তাহে মার্কিন ডলারের দর বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা আনুমানিক ২৮% বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সময়ে, ট্রাম্প প্রকাশ্যে আশা প্রকাশ করেছেন যে, ফেডের নতুন চেয়ারম্যান ওয়ার্শ সুদের হার কমিয়ে দেবেন।

আজ প্যারিসে জি-৭ সম্মেলন শুরু হচ্ছে, যা ১৮ থেকে ১৯ মে পর্যন্ত চলবে। 'গ্রুপ অফ সেভেন' জোটভুক্ত দেশগুলোর অর্থমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নররা এই সম্মেলনে যোগ দিতে প্যারিসে সমবেত হয়েছেন; ১৯৭৫ সালের পর এই প্রথমবার কোনো সম্মেলনে অর্থ ও জ্বালানি মন্ত্রীরা আইইএ প্রতিনিধিদের সাথে একই কক্ষে মিলিত হচ্ছেন। সম্মেলনের আলোচ্যসূচির মূল বিষয় হলো মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব। অতিথি হিসেবে ব্রাজিল, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া এবং কেনিয়াকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

কারেন্সি ট্রেডাররা সম্মেলনের যেকোনো ফলাফলের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করবেন, কারণ আজ মার্কেটে আর কোনো মৌলিক সূচক বা প্রতিবেদন প্রকাশের পরিকল্পনা নেই।

EUR/USD-এর বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের এখন এই পেয়ারের মূল্যকে 1.1640 লেভেলে নিয়ে যাওয়ার কৌশল নিয়ে ভাবতে হবে। কেবল এটি করতে পারলেই এই পেয়ারের মূল্যের 1.1675-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। সেখান থেকে এই পেয়ারের মূল্য 1.1700-এ পৌঁছাতে পারে, তবে বড় ট্রেডারদের সহায়তা ছাড়া এটি করা বেশ কঠিন হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে 1.1725 লেভেল নির্ধারণ করা যায়। দরপতনের ক্ষেত্রে আমি কেবল এই পেয়ারের মূল্য 1.1610-এর আশেপাশে থাকা অবস্থায় বড় ক্রেতাদের সক্রিয় হওয়ার প্রত্যাশা করছি; যদি সেখানে ক্রেতারা সক্রিয় না হয়ে, তাহলে 1.1600 পর্যন্ত দরপতন অপেক্ষা করা বা 1.1580 থেকে লং পজিশন ওপেন করা যেতে পারে।

GBP/USD-এর বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের এখন এই পেয়ারের মূল্যকে 1.3340-এর রেজিস্ট্যান্সে নিয়ে যেতে হবে। কেবল এটি করতে পারলেই এই পেয়ারের মূল্যের 1.3380-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে, যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বেশ কঠিন হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে 1.3410 লেভেল নির্ধারণ করা যায়। এই পেয়ারের দরপতনের ক্ষেত্রে, মূল্য 1.3310-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে; তারা সফল হলে এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনগুলোর উপর গুরুতর আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং GBP/USD পেয়ারের মূল্য 1.3280-এ নেমে যাবে এবং 1.3250-এর দিকে দরপতনের সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে।

Analyst InstaForex
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন:
next parent
loader...
all-was_read__icon
You have watched all the best publications
presently.
আমরা ইতোমধ্যে আপনার জন্য আকর্ষণীয় কিছু সন্ধান করছি।..
all-was_read__star
Recently published:
loader...
More recent publications...