গত শুক্রবার মার্কিন ইক্যুইটি সূচকগুলোতে ব্যাপক দরপতন পরিলক্ষিত হয়েছে। S&P 500 সূচক 2.64% হ্রাস পেয়েছে এবং নাসডাক 100 সূচক 4.81% হ্রাস পেয়েছে। ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ সূচক 1.35% হ্রাস পেয়েছে।
শুক্রবার একসাথে তিনটি নেতিবাচক বিষয় স্টক মার্কেটে আঘাত হানে। ওয়াল স্ট্রিটের দরপতনের প্রবণতা আজ এশিয়ার স্টক মার্কেটেও ছড়িয়ে পড়েছে: MSCI এশিয়া প্যাসিফিক সূচক 2.8% হ্রাস পেয়েছে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক প্রায় 5% হ্রাস পেয়েছে। স্যামসাংয়ের স্টকের দর 11% হ্রাস পেয়েছে, এসকে হাইনিক্সের স্টকের মূল্য 10% কমেছে এবং টিএসএমসি-এর স্টকের 5.7% দরপতন হয়েছে।

স্টক মার্কেটে একই সাথে তিনটি বিষয় প্রভাব ফেলেছে। প্রথমত — ব্রডকমের হতাশাজনক পূর্বাভাস: এআই চিপের ব্যাপারে দুর্বল পূর্বাভাস এই খাত থেকে ব্যাপকভাবে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা সৃষ্টি করেছে, যা দুই মাসে ৭০% বৃদ্ধি পেয়েছিল। দ্বিতীয়ত — মে মাসের কর্মসংস্থান সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ফলাফল শক্তিশালী ছিল: বেতনভুক্ত কর্মীর সংখ্যা ৮৫,০০০-এর পূর্বাভাসের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল, যেখানে বেকারত্বের হার ৪.৩%-এ অপরিবর্তিত ছিল। এই আশাব্যঞ্জক ফলাফল স্টক মার্কেটের জন্য দুঃসংবাদে পরিণত হয়, কারণ এতে ফেডের কঠোর অবস্থান গ্রহণের সম্ভাবনা আরও শক্তিশালী হয়েছে।
ট্রেডাররা এখন অক্টোবরের শুরুতেই ফেডের সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধির প্রায় ৬০% সম্ভাবনা রয়েছে ধরে নিচ্ছেন এবং ডিসেম্বরে এই বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। তৃতীয়ত — প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে উত্তেজনা বৃদ্ধি করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো সত্ত্বেও, রকেট হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইসরায়েল ইরানের একাধিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। ফলে ব্রেন্ট ক্রুডের দর ৩.৫% বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ ডলারের উপরে ওঠে — যা এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকে সবচেয়ে বড় সংঘাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
১০-বছর মেয়াদী মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশ চার বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ৪.৫৭%-এ দাঁড়িয়েছে — ট্রেডাররা ফেড কর্তৃক আরও কঠোর আর্থিক নীতিমালা প্রণয়নের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। জাপানেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, সেখানেও সরকারি বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশব বাড়ছে। ইন্দোনেশিয়ার বন্ডের দরপতন চলছে — এই সপ্তাহে ১০-বছর মেয়াদী বন্ডের ইয়েল্ড ৩০ বেসিস পয়েন্টের বেশি বেড়েছে, যা স্থানীয় অ্যাসেট বিক্রির চাপকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। জি১০-ভুক্ত বেশিরভাগ কারেন্সির বিপরীতে মার্কিন ডলার শক্তিশালী হয়েছে।
উল্লেখ্য যে এশিয়ান সেশনের শুরুতে নাসডাক 100 ফিউচার্স দরপতন পুষিয়ে প্রায় 0.6% ঊর্ধ্বমুখী হয়ে, এবং S&P 500 ফিউচার্স প্রায় 0.2% পুনরুদ্ধার করে। শুক্রবার বিটকয়েনের মূল্য $60,000-এর নিচে নেমে যাওয়ার পর দরপতন পুষিয়ে প্রায় $63,000-এর উপরে স্থিতিশীল অবস্থান গ্রহণ করে—যা 2024 সালে ট্রাম্পের পুনঃনির্বাচনের পঅর প্রথম এমন ঘটনা। ট্রেডাররা স্পষ্টতই একটি বটম লেভেল খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছে, তবে ভ্যারিয়েবলগুলো অনেক বেশি। এখন সবাই 16–17 জুন অনুষ্ঠেয় ফেডের বৈঠকের জন্য অপেক্ষা করছে—এটি চেয়ারম্যান হিসেবে কেভিন ওয়ার্শের প্রথম বৈঠক, যেখানে ট্রেডাররা আর্থিক নীতিমালার ব্যাপারে নতুন চেয়ারম্যানের স্পষ্ট সংকেতের প্রত্যাশা করছে।

টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, আজ S&P 500 সূচকের ক্রেতাদের জন্য তাৎক্ষণিক কাজ হলো সূচকটির মূল্যের $7,404 রেজিস্ট্যান্স অতিক্রম করানো। এতে উর্ধ্বমুখী প্রবণতা সৃষ্টি হবে এবং $7,427-এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে। সূচকটির দর $7,451-এর ওপরে বজায় থাকলে ক্রেতাদের অবস্থান আরও দৃঢ় হবে। নিম্নমুখী প্রবণতার ক্ষেত্রে সূচকটির দর $7,381 এরিয়ায় থাকা অবস্থায় ক্রেতাদের সক্রিয় হতে হবে—ঐ লেভেল ব্রেক করে নিম্নমুখী হলে সূচকটির মূল্য সম্ভবত $7,355 পর্যন্ত নেমে যাবে এবং $7,339-এর দিকে দরপতনের সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে।