গতকাল মার্কিন ইকুইটি সূচকগুলোতে তীব্র নিম্নমুখী প্রবণতার সাথে লেনদেন শেষ হয়েছে। S&P 500 সূচক 1.87% হ্রাস পেয়েছে এবং নাসডাক 100 সূচক 1.62% হ্রাস পেয়েছে। ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ সূচক 1.98% হ্রাস পেয়েছে।

সর্বশেষ দু'টি সেশনে ব্যাপক দরপতনের পর আজ স্টক সূচকগুলো ইতোমধ্যেই ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। S&P 500 সূচকের ফিউচার্সের দর প্রায় 0.7% বেড়েছে, যা পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন লেভেল থেকে পুনরুদ্ধার করছে, আর নাসডাক 100 সূচকের ফিউচার +1.1% বৃদ্ধি পেয়েছে। সেশন শুরুর পঅর ইউরোপীয় স্টক সূচকসমূহ প্রায় 0.5% ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, যেখানে জ্বালানি কোম্পানিগুলোর স্টকের দর সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মূল অনুঘটক হিসেবে ইরানের উপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলার অবসানের বিষয়টি কাজ করেছে: মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে মার্কিন হামলা শুরু হওয়ার প্রায় চার ঘন্টার মধ্যে তা বন্ধ করা হয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দর প্রায় 2.6% হ্রাস পেয়ে ব্যারেল প্রতি $93-এর নিচে নেমে এসেছে।
তবে, এটিকে এখনও অবস্থানের চূড়ান্ত পরিবর্তন বলে বিবেচনা করা যায় না। এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সতর্ক করে দিয়েছেন যে, তেহরান যদি অস্থায়ী শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের ওপর হামলা চালাবে। দুই দিনের মধ্যে এটি দ্বিতীয় দফা হামলা — প্রথম হামলা মার্কিন হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার পর চালানো হয়েছিল; দ্বিতীয় হামলা ট্রাম্পের সেই সতর্কবার্তাকেই আরও জোরদার করেছে।
এটা স্পষ্ট যে, এর আগে ট্রাম্পের বাগাড়ম্বর ইরানের ক্ষেত্রে কোনো ফল দেয়নি, তাই শুধু কথায় স্থায়ী ফল আসবে কিনা, সে বিষয়ে ট্রেডাররা সঙ্গত কারণেই সতর্ক। ফিউচার্স ক্রয়ের প্রবণতা ইঙ্গিত দেয় যে, ট্রেডাররা আশা করছেন হামলা দ্রুত বন্ধ হলে উভয় পক্ষই আলোচনার টেবিলে ফিরে আসবে — কিন্তু এটি কেবল আশার পর্যায়েই রয়েছে, বাস্তবে রূপ নেয়নি।
আজকের বাজারের আরেকটি ভিন্ন খবর হলো স্পেসএক্সের আইপিও। সহজলভ্য ফ্লোটের চেয়ে চার গুণেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে। ট্রেডারদের জন্য এটি একটি মিশ্র সংকেত: একদিকে, এটি প্রমাণ করে যে এআই/প্রযুক্তি খাতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ অত্যন্ত প্রবল; অন্যদিকে, একটি রেকর্ড-আকারের আইপিও — যার মূল্যায়ন বেশ চড়া — বিনিয়োগকারীদের মূলধন পুনর্বণ্টন করতে বাধ্য করছে: তা হতে পারে অন্যান্য পজিশন বিক্রি করে, লিভারেজ কমিয়ে এবং লিকুইডিটি মুক্ত করে। মূলধনের এই কেন্দ্রীভূত স্থানান্তর ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটগুলোর ওপর স্বল্পমেয়াদে চাপ সৃষ্টি করছে।
আজ ইসিবির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে — এবারের বৈঠকে ২০২৩ সালের পর প্রথমবারের মতো সুদের হার বৃদ্ধি করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ইসিবির আর্থিক নীতিমালার ব্যাপারে ক্রিস্টিন লাগার্ডের মন্তব্য এবং চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইসিবি মুদ্রাস্ফীতির পূর্বাভাসকে কীভাবে দেখছে, তা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

টেকনিক্যাল বিশ্লেষণ অনুযায়ী, S&P 500 সূচকের ক্রেতাদের তাৎক্ষণিক কাজ হচ্ছে $7,339-এর রেজিস্ট্যান্স লেভেল অতিক্রম করানো। তাহলে আরও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিশ্চিত হবে এবং সূচকটির মূল্যের $7,355-এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে। সূচকটির দর $7,381 উপরে বজায় রাখা গেলে ক্রেতাদের অবস্থান আরও দৃঢ় হবে। নিম্নমুখী প্রবণতার ক্ষেত্রে সূচকটির দর $7,300-এ থাকা অবস্থায় ক্রেতাদের সক্রিয় হতে হবে। ঐ লেভেল ব্রেক করে নিম্নমুখী হলে সূচকটির দর সম্ভবত $7,319-এ নেমে যাবে এবং পরবর্তীতে $7,279-এ নেমে যাবে এবং পরবর্তীতে $7,256-এর দিকে দরপতনের সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে।