বৃহস্পতিবারের ট্রেডিংয়ের বিশ্লেষণ:
GBP/USD পেয়ারের 1-ঘন্টার চার্ট

বৃহস্পতিবার GBP/USD পেয়ারের মূল্যেরও উল্লেখযোগ্য মুভমেন্ট পরিলক্ষিত হয়েছে। প্রথমত, ব্রিটিশ পাউন্ডের মূল্য প্রায় এক মাস ধরেই 1.3331-1.3476-এর সাইডওয়েজ চ্যানেলে অবস্থান করছে। দ্বিতীয়ত, ডোনাল্ড ট্রাম্প একদিনের মধ্যে ইরানের ব্যাপারে দুই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন (এটিই সম্ভবত সর্বোচ্চ নয়)। সকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তেহরানের বিরুদ্ধে আলোচনা ব্যাহত করার অভিযোগ এনে নতুন করে শক্তিশালী হামলার ঘোষণা করেন, আর রাতে তিনি জানান যে ইরানের সঙ্গে দুর্দান্ত একটি চুক্তি আসন্ন এবং নতুন করে হামলার সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে। এটি উল্লেখযোগ্য যে ট্রাম্পের বক্তব্যের ব্যাপারে তেহরান বিস্ময় প্রকাশ করেছে, কারণ এই ধরনের চুক্তির ব্যাপারে তাঁরা কোনো কিছু জানে না। তবুও মার্কেটের ট্রেডাররা ট্রাম্পের সাম্প্রতিক প্রতিশ্রুতির উপর ভিত্তি করে মার্কিন ডলার বিক্রি করেছে—অবশেষে, যদি যুদ্ধ শেষ হয় এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হয়, তাহলে ট্রেডাররা আর কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে? ট্রেডাররা বারবার একই ফাঁদে পড়ছে। আজ সম্ভবত ট্রাম্প পুনরায় ঘোষণা দেবেন যে তিনি মত পাল্টিয়েছেন, তেহরান আবার আলোচনাকে দীর্ঘায়িত করছে, আগ্রাসন দেখাচ্ছে, তাই নতুন করে হামলার নির্দেশ জারি করা হবে। এবং মার্কিন ডলারের দর আবার বাড়বে।
GBP/USD পেয়ারের 5M চার্ট

বৃহস্পতিবার ৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে তিনটি বেশ কার্যকর ট্রেডিং সিগন্যাল গঠিত হয়। ইউরোপীয় সেশন চলাকালীন সময়ে এই পেয়ারের মূল্য 1.3380-1.3386 এরিয়া থেকে বাউন্স করে। মার্কিন সেশনে এই পেয়ারের মূল্য 1.3319-1.3331 এরিয়া থেকে বাউন্স করে, এবং তারপর দশ মিনিট পর মূল্য 1.3380-1.3386 এরিয়া ব্রেক করে। ফলে নতুন ট্রেডাররা দুটো ট্রেড (একটি শর্ট এবং একটি লং) ওপেন করতে পারতেন, দুটি ট্রেডই লাভজনক হতো।
শুক্রবার কীভাবে ট্রেডিং করতে হবে:
ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে এক মাস ধরে GBP/USD পেয়ারের ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক ট্রেডিং পরিলক্ষিত হচ্ছে, কারণ ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি ধারাবাহিকভাবে নেতিবাচক রয়েছে, যার উন্নতি বা অবনতি কোনোটাই ঘটছে না। তবে মধ্যপ্রাচ্যে পুনরায় পূর্ণমাত্রার সংঘাত শুরু না হলে মার্কিন ডলারের দর ফেব্রুয়ারি ও মার্চের মতো বৃদ্ধি পাওয়ার প্রত্যাশা করা কঠিন। পৃথক ঘটনার ভিত্তিতে এখনও মার্কিন ডলারের দর কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে (যেমনটি শুক্রবার দেখা গিয়েছিল), তবে আমরা মনে করি না যে মার্কেটে নতুন করে ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা সৃষ্টি হবে। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকা অবস্থায় মার্কিন ডলারই একটি ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শুক্রবার, যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3380-1.3386 এরিয়ার নিচে কনসলিডেট করে তাহলে নতুন ট্রেডাররা শর্ট পজিশন ওপেন করতে পারেন, যেখানে মূল্যের 1.3319-1.3331 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে। আর যদি এই পেয়ারের মূল্য 1.3380-1.3386 এরিয়া থেকে বাউন্স করে তাহলে লং পজিশন বিবেচনা করা যেতে পারে, যেখানে মূল্যের 1.3456-1.3476 এরিয়ার দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
৫-মিনিটের টাইমফ্রেমে ট্রেডিংয়ের জন্য নিম্নলিখিত লেভেলগুলো বিবেচনা করা যেতে পারে: 1.3175-1.3180, 1.3259-1.3267, 1.3319-1.3331, 1.3380-1.3386, 1.3456-1.3476, 1.3587-1.3598, 1.3631-1.3641, 1.3695, 1.3741-1.3751। শুক্রবার যুক্তরাজ্যে জিডিপি ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোডাকশন বা শিল্প উৎপাদন সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে, কিন্তু এটি স্পষ্ট যে বর্তমান প্রেক্ষাপট অনুযায়ী এই প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল খুব বেশি তাৎপর্য বহন করে না। যুক্তরাষ্ট্রে ইউনিভার্সিটি অব মিশিগান থেকে কনজিউমার সেন্টিমেন্ট ইনডেক্স বা ভোক্তা মনোভাব সূচক প্রকাশিত হবে।
ট্রেডিং সিস্টেমের মূল নিয়মাবলী:
- সিগনালের শক্তি: যত দ্রুত একটি সিগন্যাল (রিবাউন্ড বা ব্রেকআউট) গঠিত হয়, সিগন্যালটিকে ততই শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
- ভুল সিগন্যাল: যদি কোনো লেভেলের কাছে দুই বা ততোধিক ভুল ট্রেডিং সিগনাল গঠিত হয়, তাহলে ঐ লেভেল থেকে প্রাপ্ত পরবর্তী সিগন্যালগুলোকে উপেক্ষা করা উচিত।
- ফ্ল্যাট মার্কেট: যখন মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্ট দেখা যায়, তখন পেয়ারগুলোতে একাধিক ভুল সিগন্যাল গঠিত হতে পারে অথবা কোনো সিগন্যাল না-ও গঠিত হতে পারে। মার্কেটে ফ্ল্যাট মুভমেন্টের ইঙ্গিত পাওয়ামাত্র ট্রেডিং বন্ধ করে দেওয়াই ভালো।
- ট্রেডিংয়ের সময়সূচী: ইউরোপীয় সেশন শুরু থেকে মার্কিন সেশনের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ট্রেড ওপেন করুন এবং এরপর সকল ট্রেড ম্যানুয়ালি ক্লোজ করে ফেলুন।
- MACD সিগন্যাল: ঘণ্টাভিত্তিক টাইমফ্রেমে কেবল সেই MACD সিগন্যালগুলোর ওপর ভিত্তি করে ট্রেড করুন, যেগুলো উচ্চ মাত্রার অস্থিরতা এবং ট্রেন্ডলাইন বা ট্রেন্ড চ্যানেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রবণতা হিসেবে বিবেচিত।
- নিকটতম লেভেল: যদি দুটি লেভেল খুব কাছাকাছি (৫–২০ পিপসের মধ্যে) অবস্থিত হয়, তাহলে সেগুলোকে সাপোর্ট বা রেজিস্ট্যান্স জোন হিসেবে বিবেচনা করুন।
- স্টপ লস: মূল্য কাঙ্ক্ষিত দিকের দিকে ১৫ পিপস মুভমেন্ট প্রদর্শন করলে, ব্রেকইভেনে স্টপ লস সেট করুন। এতে করে ভুল সিগন্যালের কারণে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে।
চার্টে কী কী রয়েছে:
- সাপোর্ট ও রেজিস্ট্যান্স লেভেল: এই লেভেলগুলো পজিশন ওপেন বা ক্লোজ করার ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে এবং টেক প্রফিট সেট করার ক্ষেত্রেও উপযোগী।
- লাল লাইনসমূহ: চ্যানেল বা ট্রেন্ডলাইন, যা বর্তমান প্রবণতা এবং ট্রেডের সম্ভাব্য দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
- MACD ইনডিকেটর (14,22,3): হিস্টোগ্রাম এবং সিগন্যাল লাইন বিশ্লেষণের জন্য একটি অতিরিক্ত ট্রেডিং সিগন্যালের উৎস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট ও প্রতিবেদন: এই তথ্যগুলো অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডারে পাওয়া যায় এবং মূল্যের মুভমেন্টে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সতর্কতা অবলম্বন করুন বা মার্কেট থেকে বেরিয়ে আসুন, যাতে হঠাৎ করে মূল্যের রিভার্সাল বা বিপরীতমুখী হওয়ার প্রবণতা এড়ানো যায়।
ফরেক্স ট্রেডিংয়ে নতুন ট্রেডারদের মনে রাখতে হবে প্রতিটি ট্রেড লাভজনক হবে না। দীর্ঘমেয়াদে ট্রেডিংয়ে সফলতা অর্জনের জন্য একটি সুস্পষ্ট কৌশল গ্রহণ এবং সঠিক মানি ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।