গতকাল বিটকয়েন এবং ইথেরিয়ামের মূল্য সামান্য বেড়েছে, কিন্তু এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম। বিটকয়েনের মূল্য এখনও $63,000-এর নিচে অবস্থান করছে, অন্যদিকে ইথেরিয়ামের মূল্য $1,650-এর উপরে স্থিতিশীল হতে পারছে না।

গতকাল ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন একটি বিবৃতি দিয়েছেন যা ফিন্যান্সিয়াল মার্কেটের পরিস্থিতিকে তাৎক্ষণিকভাবে বদলে দিয়েছে: যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে সম্মত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, কার্যত চুক্তি হয়েছে যে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং আগামী দিনগুলোতে উভয়পক্ষ বাকি সমস্যার সমাধান করবে।
ট্রেডারদের জন্য এটি মূলত ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের উত্তেজনা হ্রাসের ইঙ্গিত দেয়, যা মে মাসের শেষভাগ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেটের ওপর চাপ সৃষ্টির একটি প্রধান উৎস ছিল। ইরানের ওপর সাম্প্রতিক মার্কিন হামলা এবং হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞাই জুনে ক্রিপ্টোকারেন্সি মার্কেটে দরপতনের প্রধান কারণ ছিল।
গতকাল, ট্রাম্পের বিবৃতির প্রতিক্রিয়ায় বিটকয়েন এবং ইথেরিয়ামের মূল্য দ্রুত বেড়ে যায়, কারণ ট্রেডাররা দ্রুতই গত কয়েক সপ্তাহ থেকে প্রভাব বিস্তারকারী ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির বিষয়টি নতুন করে মূল্যায়ন করতে শুরু করে। এর যৌক্তিকতা বেশ সহজবোধ্য: ইরানের সঙ্গে সংঘাতের সমাধান হলে হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে তেল সরবরাহে বিঘ্নতার হুমকি কমে যাবে, যেখান দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০% জ্বালানি তেল পরিবহন করা হয়। এর অর্থ হলো জ্বালানি তেলের মূল্য কমার সম্ভাবনা রয়েছে—মূলত জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে মে মাসে মার্কিন ভোক্তা মূল্য সূচককে (সিপিআই) ৪.২%-এ পৌঁছেছে এবং ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে বাধ্য হচ্ছে। মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস পেলে মুদ্রানীতির ক্ষেত্রে নমনীয় অবস্থান দেখা যাবে, যার ফলে সাধারণভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেট এবং বিশেষভাবে ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলোর জন্য পরিস্থিতি ইতিবাচক হবে।
আগামী দিনগুলোতে যদি কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তবে ট্রেডাররা একই সাথে দুটি ইতিবাচক প্রেরণা পাবে: ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা প্রশমন এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপ হ্রাস। বিটকয়েন এবং ইথেরিয়ামভিত্তিক ইটিএফগুলো থেকে টানা সতেরো দিনের মতো বিনিয়োগ হ্রাস পাচ্ছে এবং বিটকয়েনের মূল্য $60,000-এর নিচে নেমে গেছে, ফলে এটিই ক্রিপ্টো মার্কেটের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় অনুঘটক হতে পারে।
স্বল্পমেয়াদী ট্রেডিংয়ের কৌশল এবং শর্তাবলী নিচে বর্ণনা করা হলো।
বিটকয়েন

বাই সিগন্যাল
পরিকল্পনা #1: বিটকয়েনের মূল্য $64,300-এর লেভেলে বৃদ্ধির লক্ষ্যে $63,400-এর এন্ট্রি পয়েন্টে পৌঁছালে আমি লং পজিশন ওপেন করব। মূল্য $64,300-এর লেভেলে কাছাকাছি পৌঁছালে আমি লং পজিশন ক্লোজ করব এবং পুলব্যাকের ক্ষেত্রে অবিলম্বে শর্ট পজিশন ওপেন করব। গুরুত্বপূর্ণ! ব্রেকআউটের ক্ষেত্রে ক্রয় করার আগে, নিশ্চিত করুন যে 50-দিনের মুভিং এভারেজ বর্তমানে মূল্যের নিচে রয়েছে এবং অওসাম অসিলেটর পজিটিভ জোনে রয়েছে।
পরিকল্পনা #2: যদি $62,700 লেভেলের ব্রেকআউট হয়ে মূল্য নিম্নমুখী হওয়ার ক্ষেত্রে মার্কেটে কোন বিয়ারিশ প্রবণতা সৃষ্টি না হয়, তাহলে সেই লেভেলে থেকে বিটকয়েনের লং পজিশন ওপেন করার আরেকটি সুযোগ পাওয়া যেতে পারে এবং মূল্যের $63,400 ও $64,300-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
সেল সিগন্যাল
পরিকল্পনা #1: বিটকয়েনের মূল্য $61,700-এর লেভেলে দরপতনের লক্ষ্যে $62,700-এর লেভেলে পৌঁছালে আমি শর্ট পজিশন ওপেন করব। মূল্য $61,700-এর লেভেলের কাছাকাছি পৌঁছালে আমি বিটকয়েনের শর্ট পজিশন ক্লোজ করব এবং পুলব্যাকের ক্ষেত্রে অবিলম্বে লং পজিশন ওপেন করব। গুরুত্বপূর্ণ! ব্রেকআউটের ক্ষেত্রে বিক্রির আগে নিশ্চিত করুন যে 50-দিনের মুভিং এভারেজ বর্তমানে মূল্যের উপরে রয়েছে এবং অওসাম অসিলেটর নেগেটিভ জোনে রয়েছে।
পরিকল্পনা #2: যদি $63,400 লেভেলের ব্রেকআউট হয়ে মূল্য ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার ক্ষেত্রে মার্কেটে কোন বুলিশ প্রবণতা সৃষ্টি না হয়, তাহলে সেই লেভেলে থেকে বিটকয়েনের শর্ট পজিশন ওপেন করার আরেকটি সুযোগ পাওয়া যেতে পারে এবং মূল্যের $62,700 ও $61,700-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
ইথেরিয়াম

বাই সিগন্যাল
পরিকল্পনা #1: ইথেরিয়ামের মূল্য $1,688-এর লেভেলে বৃদ্ধির লক্ষ্যে $1,662-এর লেভেলে পৌঁছালে আমি লং পজিশন ওপেন করব। মূল্য $1,688-এর লেভেলের কাছাকাছি পৌঁছালে আমি ইথেরিয়ামের লং পজিশন ক্লোজ করব এবং পুলব্যাকের ক্ষেত্রে শর্ট পজিশন ওপেন করব। গুরুত্বপূর্ণ! ব্রেকআউটের ক্ষেত্রে ক্রয় করার আগে, আমি নিশ্চিত করব যে 50-দিনের মুভিং এভারেজ বর্তমানে মূল্যের নিচে রয়েছে এবং অওসাম অসিলেটর পজিটিভ জোনে রয়েছে।
পরিকল্পনা #2: যদি $1,647 লেভেলের ব্রেকআউট হয়ে মূল্য নিম্নমুখী হওয়ার ক্ষেত্রে মার্কেটে কোনো বিয়ারিশ প্রবণতা সৃষ্টি না হয়, তাহলে সেই লেভেল থেকে ইথেরিয়ামের লং পজিশন ওপেন করার আরেকটি সুযোগ পাওয়া যেতে পারে এবং মূল্যের $1,662 ও $1,688-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।
সেল সিগন্যাল
পরিকল্পনা #1: ইথেরিয়ামের মূল্য $1,615-এর লেভেলে দরপতনের লক্ষ্যে $1,647-এর এন্ট্রি পয়েন্টে পৌঁছালে আমি ইথেরিয়ামের শর্ট পজিশন ওপেন করব। মূল্য $1,615 লেভেলের কাছাকাছি পৌঁছালে আমি শর্ট পজিশন ক্লোজ করব এবং পুলব্যাকের ক্ষেত্রে অবিলম্বে লং পজিশন ওপেন করব। গুরুত্বপূর্ণ! ব্রেকআউটের ক্ষেত্রে বিক্রির আগে নিশ্চিত করুন যে 50-দিনের মুভিং এভারেজ বর্তমানে মূল্যের উপরে রয়েছে এবং অওসাম অসিলেটর নেগেটিভ জোনে রয়েছে।
পরিকল্পনা #2: যদি মূল্য $1,662-এর লেভেল ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার ফলে মার্কেটে কোনো বুলিশ প্রবণতা সৃষ্টি না হয়, তাহলে সেই লেভেল থেকে ইথেরিয়ামের শর্ট পজিশন ওপেন করার আরেকটি সুযোগ পাওয়া যেতে পারে এবং $1,647 ও $1,615-এর দিকে দরপতনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে।