চলতি সপ্তাহের শেষভাগে জ্বালানি তেলের মূল্য প্রায় ৯% কমেছে—ব্রেন্ট গ্রেডের জ্বালানি তেলের মূল্য প্রতি ব্যারেল $79-এ এবং ডব্লিউটিআই গ্রেডের তেলের মূল্য প্রায় $77-এ অবস্থান করছে। ইরানের সাথে যুদ্ধের সময় জ্বালানি তেলের দর যতটুকু বৃদ্ধি পেয়েছিল ফিউচার মার্কেটে তা হ্রাস পেয়েছে। জ্বালানি তেল খাতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সরবরাহ সংকট শেষ হওয়ার পর এই ঐতিহাসিক দরপতন ঘটেছে এবং এখন সার্বিক প্রবণতা বদলাতে শুরু করেছে।

দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সত্যিকারের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে, যা সম্ভবত অনেক বিশ্লেষকই আশা করেননি। তারা পূর্বাভাস দিইয়েছিলেন যে, উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে অসুবিধার কারণে জ্বালানি তেলের মূল্য উচ্চস্তরে বজায় থাকবে এবং এক্ষেত্রে ইরান একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বৃহস্পতিবার, প্রায় ১ কোটি ব্যারেল তেল বহনকারী জাহাজগুলো হয় হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে অথবা ট্রানজিটে ছিল—যার মধ্যে তিন মাসেরও বেশি সময় আগে সংঘাত শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো সৌদি তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোও অন্তর্ভুক্ত ছিল। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স গতকাল জানিয়েছেন যে, মাত্র এক রাতেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে ১ কোটি ২৫ লক্ষ ব্যারেল তেল পার হয়েছে। ADNOC পারস্য উপসাগরের বন্দরগুলো থেকে অপরিশোধিত তেল পাঠানো পুনরায় শুরু করার বিষয়ে গ্রাহকদের অবহিত করেছে। কুয়েত উৎপাদন বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে। শান্তিকালীন সময়ে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন করা হত—যদিও সেই স্তরে পৌঁছানো এখনও সময়সাপেক্ষ, তবে অগ্রগতির বিষয়টি স্পষ্ট।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প এই অগ্রগতিকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং তেহরানের প্রতি চুক্তিটিকে অতিমাত্রায় নমনীয় বলে মনে করা কট্টরপন্থীদের সমালোচনা খারিজ করে দিয়েছেন: "মার্কেটে উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে—তেলের মূল্য কমেছে, এবং স্টকের মূল্য বেড়েছে।" এটি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ একটি মুহূর্ত: জ্বালানি তেলের দরপতন সরাসরি গ্যাসোলিনের দামকে প্রভাবিত করে, যার ফলে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। এ কারণেই তিনি হরমুজ প্রণালী দ্রুত খুলে দেওয়ার ব্যাপারে এতটা আগ্রহী ছিলেন।
তবে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের সম্পূর্ণ স্বাভাবিকীকরণ নিয়ে তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্তে না আসাই উচিত। ভঙ্গুর আস্থা বজায় আছে, এবং তা পুনর্নির্মাণের জন্য এখনও অনেক কিছু করার আছে। গোল্ডম্যান শ্যাক্সের অনুমান অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে উৎপাদন যুদ্ধ-পূর্ববর্তী দৈনিক ২ কোটি ব্যারেলের স্তরে সম্পূর্ণ পুনরুদ্ধার কার্যক্রম সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৫০% এবং ডিসেম্বরের মধ্যে ৮০%-এ পৌঁছাবে—এমনকি সবচেয়ে আশাবাদী পরিস্থিতিতেও এতে কয়েক মাস সময় লাগবে।
ফিন্যান্সিয়াল মার্কেটের ট্রেডারদের জন্য মূল প্রশ্নটি এখন তেলের মূল্য থেকে সুদের হারের গতিপথের দিকে সরে গেছে। ব্রেন্ট গ্রেডের তেলের মূল্য ব্যারেল প্রতি $108-এরও বেশি সর্বোচ্চ লেভেলে থেকে $79-এ নেমে আসার বিষয়টি একটি শক্তিশালী মুদ্রাস্ফীতি-বিরোধী প্রভাব হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা আসন্ন জুলাই ও আগস্ট মাসের ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) সংক্রান্ত প্রতিবেদনে দৃশ্যমান হবে। যদি জ্বালানি তেলের মূল্য বর্তমান স্তরে থাকে বা আরও কমে যায়, তাহলে এই বছর সুদের হার না বাড়ানোর পক্ষে ফেডারেল রিজার্ভের কাছে একটি জোরালো যুক্তি তৈরি ধরে—এবং ট্রেডাররা অক্টোবরের মধ্যে প্রায় ৬০% সম্ভাবনার সাথে সুদের হার বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনা করলেও তা পুনর্মূল্যায়ন করা শুরু করবে। এই পরিবর্তনই আগামী সপ্তাহগুলোতে মার্কিন ডলার, বন্ড এবং স্বর্ণের মূল্যের মুভমেন্ট নির্ধারণ করবে।

জ্বালানি তেলের মূল্যের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের জ্বালানি তেলের মূল্যকে নিকটস্থ রেসিস্ট্যান্স $81.40-এ নিয়ে যেতে হবে। এতে করে জ্বালানি তেলের মূল্যের $86.67-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $92.54 এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। যদি তেলের দরপতন হয়, তাহলে মূল্য $74.85-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। তারা সফল হলে এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের উপর উল্লেখযোগ্য আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তেলের মূল্য $67.77 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, যেখানে পরবর্তীতে $59.90 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনাও রয়েছে।