গতকাল মার্কিন ইকুইটি সূচকগুলোতে মিশ্র প্রবণতার সাথে লেনদেন শেষ হয়েছে। S&P 500 সূচক 0.37% হ্রাস পেয়েছে, নাসডাক 100 সূচক 1.32% হ্রাস পেয়েছে, যেখানে ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ সূচক 0.28% বৃদ্ধি পেয়েছে।

টানা দ্বিতীয় সেশনে প্রযুক্তি খাতভিত্তিক স্টকগুলো সবচেয়ে বেশি দরপতনের শিকার হয়েছে। এমএসসিআই অল কান্ট্রি ওয়ার্ল্ড ইনডেক্স 0.5% হ্রাস পেয়েছে এবং রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর লেনদেন শেষ হওয়ার পর এশীয় স্টক মার্কেটগুলো 2%-এর বেশি হ্রাস পেয়েছে। আবারও এই দরপতনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি সূচক, যা 6%-এর বেশি দরপতনের শিকার হয়েছে। চিপ প্রস্তুতকারকদের উত্থান মাত্রাতিরিক্ত হয়ে পড়েছে এমন নতুন উদ্বেগের মধ্যে এই দরপতন ঘটে। আজ সকালে, S&P 500 সূচকের ফিউচার প্রায় 0.8% এবং নাসডাক 100 সূচকের ফিউচার প্রায় 1.3% কমেছে।
এই কারেকশনকে প্রবণতা পরিবর্তনের চেয়ে বরং মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা বলে মনে হচ্ছে। দুটি প্রধান অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা এ বছরের সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি প্রদর্শন করা স্টক থেকে তাদের পজিশন ছোট করে আনছেন: যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার গতিপথ এবং আসন্ন প্রান্তিকভিত্তিক কর্পোরেট আয়ের প্রতিবেদন। এআই-অবকাঠামোতে বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত অভূতপূর্ব আয় নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে — যখন কোনো খাতের বিনিয়োগ অনেক বেশি থাকে, তখন সামান্যতম নেতিবাচক ইঙ্গিতও তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
আজকের দিনের বিভ্রান্তি হলো, জ্বালানি তেলের মূল্য কমছে, কিন্তু ট্রেডাররা এতে আনন্দিত নয়। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার প্রথম পর্বে অগ্রগতির পর সোমবার ৩ শতাংশের বেশি দরপতনের ফলে ব্রেন্ট গ্রেডের তেলের মূল্য $78-এর নিচে নেমে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল বিক্রির জন্য ৬০ দিনের লাইসেন্স দিয়েছে, যা তেহরানের জন্য একটি অর্থনৈতিক লাইফলাইন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবুও, জ্বালানি তেলের দাম কমার কারণে ট্রেডাররা স্বস্তি পাওয়ার চেয়ে তাঁরা বরং মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর রাতারাতি দরপতন নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। ঝুঁকি গ্রহণ না করার প্রবণতাই প্রাধান্য পাচ্ছে, এবং এমনকি ইতিবাচক খবরগুলোও নেতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হচ্ছে।
মূল্যবান ধাতু এবং ক্রিপ্টোকারেন্সিরও দরপতন হয়েছে: স্বর্ণের মূল্য ১ শতাংশের বেশি, রুপার মূল্য ৩ শতাংশের বেশি এবং বিটকয়েনের মূল্য ১ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছে। এর পেছনের যুক্তিটি সুপরিচিত — মুদ্রাস্ফীতির উদ্বেগ এবং ফেডের হকিশ বা কঠোর অবস্থান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের স্বস্তিকে ছাপিয়ে গেছে। সোমবারের দরপতনের পর ট্রেজারি বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশ স্থিতিশীল হয়েছে। মার্কিন ডলার বেশিরভাগ কারেন্সির বিপরীতে শক্তিশালী হয়েছে, অন্যদিকে ইয়েনের দর ১৯৮৬ সালের পর থেকে সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি অবস্থান করছে।

টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপট অনুযায়ী S&P 500 সূচকের ক্রেতাদের প্রধান কাজ হবে সূচকটির মূল্যের $7,404-এর নিকটতম রেজিস্ট্যান্স অতিক্রম করানো। এটি আরও উর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিশ্চিত করবে এবং $7,427-এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত করবে। সূচকটির দর $7,451-এর উপর ধরে রাখাও ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর ফলে তাদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী হবে। যদি ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা কমে গিয়ে দরপতন হয়, তাহলে সূচকটির দর $7,380-এ থাকা অবস্থায় ক্রেতাদের সক্রিয় হতে হবে। এই লেভেল ব্রেক করে নিম্নমুখী হলে সূচকটির মূল্য দ্রুত $7,355-এ নেমে যেতে পারে এবং $7,339-এর দিকে দরপতনের সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে।