এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করায় বিটকয়েনের মূল্য আবারও কমছে, ফলে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকদের বিনিয়োগের ভারসাম্য একটি মিশ্র চিত্রের দিকেই ঝুঁকেছে: বিটকয়েনভিত্তিক ইটিএফগুলোতে পর্যায়ক্রমে বিনিয়োগ অন্তঃপ্রবাহ এবং বহিঃপ্রবাহ পরিলক্ষিত হচ্ছে, এবং ক্রিপ্টোকোয়ান্টের বিশ্লেষকরা মূল্যের পুনরুদ্ধারের বিষয়টিকে সতর্কতার সাথে দেখছেন, যারা বিনিয়োগের এই প্রত্যাবর্তনকে একটি সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী পরিবর্তন হিসেবে বিবেচনা না করে, বরং সাময়িক দরপতন থেকে পুনরুদ্ধার বলে অভিহিত করেছেন।

বিটওয়াইজের সর্বশেষ প্রতিবেদনে গ্রাহকদের মধ্যে দুটি শিবিরে স্পষ্ট বিভাজনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। প্রথম শিবিরে রয়েছে সেইসকল গ্রাহক যারা বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই বিটকয়েন সংগ্রহ করা শুরু করেছিল, তাঁরা মূলত বর্তমান দরপতনকে লং পজিশন বাড়ানোর একটি সুযোগ হিসেবে দেখছে। তাদের যুক্তিটি দীর্ঘমেয়াদী হোল্ডারদের মতোই, যারা রেকর্ড সংখ্যক ১৬ মিলিয়ন কয়েন নিজেদের কাছেই রেখেছেন এবং খুব কমই সেগুলো এক্সচেঞ্জে ট্রান্সফার করেছেন। দ্বিতীয় শিবির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের অবস্থান গ্রহণ করেছে এবং মার্কেটে এন্ট্রি করা স্থগিত রেখেছে, যতক্ষণ না পর্যন্ত নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো আরও স্পষ্ট ধারণা দেয়। বিশেষ করে তাঁরা ক্ল্যারিটি অ্যাক্ট পাস হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করছে—এই বিলটির ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত, কারণ ডেভেলপারদের সুরক্ষা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে এবং সম্প্রতি ট্রাম্প একটি আবাসন বিলও আটকে দিয়েছিলেন।
গ্রাহকদের মধ্যে বিভাজনের মতো সর্বশেষ পরিসংখ্যানের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নগুলোর গুণগত পরিবর্তন, যা বিটওয়াইজ তুলে ধরেছে। ক্রিপ্টো মার্কেটগুলোর পূর্ববর্তী বিয়ারিশ প্রবণতার ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা জিজ্ঞাসা করতেন যে ক্রিপ্টোকারেন্সি আদৌ কোনো অ্যাসেট ক্লাস হিসেবে টিকে থাকবে কিনা — এটি ছিল একটি অস্তিত্বমূলক প্রশ্ন যা বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে বিটকয়েনের বৈধতাকে সন্দেহের মধ্যে ফেলেছিল। প্রতিষ্ঠানটির মতে, সব ধরনের গ্রাহকদের কাছ থেকেই সেই প্রশ্নটি প্রায় অদৃশ্য হয়ে গেছে এবং এর পরিবর্তে নিছক কৌশলগত প্রশ্ন "কখন এবং কী পরিমাণে কিনতে হবে" এই ধরনের প্রশ্ন আসছে। বর্তমান বিয়ারিশ সাইকেল এবং পূর্ববর্তী দরপতনগুলোর মধ্যে এটি একটি মৌলিক পার্থক্য, যার মধ্যে ২০১৮ এবং ২০২২ সালের দরপতনের অন্তর্ভুক্ত — ক্রিপ্টোকোয়ান্টের মতে, ঐতিহাসিকভাবে এই বছরগুলোতে ক্রিপ্টো মার্কেটের বিয়ারিশ প্রবণতার সময় জুলাই মাসে মৌসুমীভিত্তিকভাবে বিটকয়েনের মূল্যের ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।
বিটওয়াইজের পর্যবেক্ষণকে ক্রিপ্টো খাত জুড়ে একটি সামগ্রিক প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের প্রবণতার নিশ্চিতকরণ হিসাবে দেখা উচিত, যা বিভিন্ন প্রথাগত আর্থিক বিনিয়োগকারীদের সাম্প্রতিক ক্রিয়াকলাপে প্রতিফলিত হয়েছে: চার্লস শোয়াব বিটকয়েন এবং ইথেরিয়াম ট্রেডিং শুরু করছেন; রাসেল 3000-এ আটটি ক্রিপ্টো ফার্ম যুক্ত করা হচ্ছে; ফিডেলিটি, স্টেট স্ট্রিট এবং ইনভেসকো থেকে স্টেবলকয়েন রিজার্ভ সমর্থনকারী অর্থবাজার তহবিল দেয়া হচ্ছে; এবং সুইফট ক্রস-বর্ডার পেমেন্টের জন্য ব্লকচেইন অবকাঠামো তৈরি করছে। অস্তিত্বের প্রশ্নটি অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে, বর্তমান বিয়ারিশ সাইকেল শেষ হয়ে গেছে বা প্রাইভেট ব্যাংকিং ব্লকচেইনের উত্থানের বিষয়ে জেপিমরগ্যান দ্বারা চিহ্নিত কাঠামোগত ঝুঁকিসমূহ অদৃশ্য হয়ে গেছে।
ট্রেডিংয়ের পরামর্শ

বিটকয়েন
ক্রেতারা বর্তমানে বিটকয়েনের মূল্যকে $64,100-এর লেভেলে ফেরানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যার ফলে এটির মূল্য সরাসরি $65,600 পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে দেবে এবং $67,700-এ পৌঁছানোর সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে; এই লেভেল ব্রেক করে মূল্য ঊর্ধ্বমুখী হলে মার্কেটে পুনরায় বুলিশ প্রবণতা শুরু হয়েছে বলে সংকেত পাওয়া যাবে। দরপতনের ক্ষেত্রে বিটকয়েনের মূল্য $62,000-এ থাকা অবস্থায় ক্রেতারা সক্রিয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে রয়েছে। বিটকয়েনের মূল্য ঐ এরিয়ার নিচে নেমে গেলে এটির মূল্য দ্রুত $60,600-এর দিকে নেমে যেতে পারে এবং পরবর্তীতে $58,700 পর্যন্ত দরপতন হতে পারে।

ইথেরিয়াম
ইথেরিয়ামের মূল্য $1,819-এর উপরে স্থিতিশীল হলে সরাসরি $1,901 পর্যন্ত যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত হবে। পরবর্তীতে ইথেরিয়ামের মূল্য $1,963-এর দিকে যেতে পারে; যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হলে সেটি বুলিশ প্রবণতা শক্তিশালী হওয়ার এবং ক্রেতাদের আগ্রহ ফিরে আসার সংকেত হিসেবে বিবেচিত হবে। দরপতনের ক্ষেত্রে মূল্য $1,740-এ থাকা অবস্থায় ক্রেতারা সক্রিয় হবে বলে প্রত্যাশা করা যায়। ঐ এরিয়ার নিচে নেমে গেলে ETH-এর মূল্য দ্রুত $1,650-এর দিকে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরবর্তীতে $1,573 পর্যন্ত দরপতনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যায়।
চার্টে কী কী রয়েছে
- লাল লাইনগুলো সাপোর্ট এবং রেজিস্ট্যান্স লেভেলগুলো নির্দেশ করে, যেখানে মূল্যের মুভমেন্ট থেমে যেতে পারে বা তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হতে পারে।
- সবুজ লাইনটি 50‑দিনের মুভিং এভারেজ নির্দেশ করে।
- নীল লাইনটি 100‑দিনের মুভিং এভারেজ নির্দেশ করে।
- লাইম লাইনটি 200‑দিনের মুভিং এভারেজ নির্দেশ করে।
- মূল্য এই মুভিং এভারেজগুলোর যেকোনোটি টেস্ট বা ক্রস করলে প্রায়শই মুভমেন্ট থেমে যায় বা মার্কেটে নতুন মুভমেন্ট শুরু হয়।