জ্বালানি তেলের মূল্য আবারও বাড়তে শুরু করেছে এবং এর পেছনে বস্তুনিষ্ঠ কারণও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান মধ্যকার সম্পর্কের বর্তমান উত্তেজনাকে আর উপেক্ষা করা যায় না। যদিও আমরা এখনও পুরোদস্তুর সংঘাত থেকে বেশ দূরে রয়েছি, তবে জ্বালানি তেলের দাম আবারও ধীরে ধীরে বাড়তে পারে বলে মনে হচ্ছে।

সপ্তাহান্তে ইরান কুয়েতের একটি তেল ডিপোতে হামলা চালিয়েছে, যা বেশ কয়েক সপ্তাহের মধ্যে জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর প্রথম সরাসরি আঘাত ছিল। যদি এই সংঘাত মূলত জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর হামলায় রূপ নেয়, তবে তেলের দর ব্যারেল প্রতি $100-এ পৌঁছাতে পারে। অফশোর প্ল্যাটফর্মে এই হামলাটি সংঘাতের এক নতুন গুণগত পরিবর্তন এনেছে, যা মার্কেটে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। কুয়েত জানিয়েছে যে, জর্ডান ও কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে মার্কিন মিত্রদের ওপর ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্টা হামলার মধ্যে প্ল্যাটফর্মটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরান রবিবার ঘোষণা করেছে যে "পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত" হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের এই বিবৃতি অস্বীকার করেছে: মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড আজ জানিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালীতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের ওপর হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করার জন্যই তারা রবিবার কয়েক ডজন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
তেলের মূল্যের উপর এই পরিস্থিতির প্রভাব প্রত্যাশিতভাবেই তীব্র ছিল। ব্রেন্ট গ্রেডের জ্বালানি তেলের মূল্য ব্যারেলপ্রতি $79 ছাড়িয়ে যায়, যা গত সপ্তাহ থেকে ৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখেছে, অন্যদিকে ডব্লিউটিআই গ্রেডের তেলের মূল্য প্রায় $74-এর কাছাকাছি রয়েছে। তেলের সরবরাহ বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতিশীল একটি অস্থায়ী শান্তি চুক্তির পর মে ও জুন মাসে যে দরপতন হয়েছিল, অনিশ্চয়তার কারণে ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি ফিরে আসায় জ্বালানি তেলের মূল্য সর্বনিম্ন লেভেল থেকে ঘুরে দাঁড়ায়।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা শুক্রবার সতর্ক করেছে যে, নতুন করে সৃষ্ট এই উত্তেজনা মজুত পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করার ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে এবং সেইসাথে এটিও মনে করিয়ে দিয়েছে যে, এই সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি কতটা গুরুতর হতে পারে। উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে তেল সরবরাহে বাধা সৃষ্টি হবে এমন উদ্বেগের মধ্যে ইউরোপীয় প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্য বেড়েছে: গত সপ্তাহে প্রায় ৮ শতাংশ বৃদ্ধির পর প্রাকৃতিক গ্যাসের ফিউচারের মূল্য ২.৭ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলের প্রকৃত তথ্য পরিস্থিতির ভয়াবহতাকেই নিশ্চিত করছে। সোমবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় শূন্য ছিল, যা দিয়ে সাধারণত বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। গত সপ্তাহে উত্তেজনা বৃদ্ধির সাথে সাথে জাহাজ চলাচলের এই পতন অব্যাহত রয়েছে। তবে, ইউনাইটেড মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টার জানিয়েছে যে, ওমানের সমন্বয়ে পরিচালিত দক্ষিণের নৌপথটি এখনও ব্যবহারযোগ্য রয়েছে, যা তাত্ত্বিকভাবে অন্তত কিছুটা সরবরাহের জন্য পথ খোলা রেখেছে।

জ্বালানি তেলের মূল্যের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের জ্বালানি তেলের মূল্যকে নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স $76.30-এ নিয়ে যেতে হবে। এতে করে জ্বালানি তেলের মূল্যের $78.70-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $80.20 এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। যদি তেলের দরপতন হয়, তাহলে মূল্য $73.70-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। তারা সফল হলে এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের উপর উল্লেখযোগ্য আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তেলের মূল্য $71.70 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, যেখানে পরবর্তীতে $69.58 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনাও রয়েছে।