প্রধান Quotes Calendar ফোরাম
flag

FX.co ★ USD/JPY. সাবধান, কারেন্সি মার্কেটে হস্তক্ষেপ চলছে!

next parent
ফরেক্স বিশ্লেষণ:::2026-07-17T07:01:07

USD/JPY. সাবধান, কারেন্সি মার্কেটে হস্তক্ষেপ চলছে!

USD/JPY পেয়ারের মূল্য টানা তিন সপ্তাহ ধরে 162.70-এর রেজিস্ট্যান্স লেভেল (D1-এ আপার বলিঙ্গার ব্যান্ডস লাইন, যা W1-এর আপার BB লাইনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ) টেস্ট করছে, যা জাপানি ইয়েনের চলমান দরপতন প্রতিফলিত করে। টানা তিন সপ্তাহ ধরে এই পেয়ারের মূল্য 163-এর লেভেলের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করে আসছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি। লক্ষণীয়ভাবে, মার্কিন ডলার সূচকের দরপতনের সময়েও USD/JPY পেয়ারের ক্রেতারা বেশ আত্মবিশ্বাসী রয়েছে এবং প্রায় যেকোনো বড় দরপতনকে লং পজিশন ওপেন করার সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছে।

USD/JPY. সাবধান, কারেন্সি মার্কেটে হস্তক্ষেপ চলছে!

আমার মতে, এই পেয়ারের মূল্যের স্থিতিশীলতার মূল কারণ হলো, ট্রেডাররা এটিকে শুধুমাত্র মার্কিন ডলারের মূল্যের মুভমেন্টের ফলাফল হিসেবে দেখা বন্ধ করে দিয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে, এই পেয়ারের মূল্য বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে মার্কিন ডলারের মূল্য বৃদ্ধির চেয়ে কাঠামোগতভাবে ইয়েনেরই দরপতনই বেশি অবদান রেখেছে। তাই, যেদিন DXY-এর দরপতন হয়, সেদিনও USD/JPY পেয়ারের মূল্য হয় আগের অবস্থানে ফিরে আসে অথবা খুব সামান্য দরপতন হয়।

যদি আমরা এই পেয়ারের মূল্যের প্রবণতার নির্দিষ্ট কারণগুলো বিবেচনা করি, তাহলে আমরা বেশ কয়েকটি বিষয় তুলে ধরতে পারি।

প্রথমত, আমার মতে, ট্রেডাররা ব্যাংক অফ জাপানের আর্থিক নীতিমালা আরও কঠোর হওয়ার প্রত্যাশা প্রায় ত্যাগই করেছে। মাত্র কয়েক মাস আগেও বিনিয়োগকারীরা বছরের শেষ নাগাদ অন্তত এক বা দুইবার সুদের হার বৃদ্ধির আশা করেছিলেন, কিন্তু এখন সেই প্রত্যাশা উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। জাপানের অর্থনীতিতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা ক্রমাগত দুর্বল হচ্ছে, প্রকৃত আয়ের পরিমাণ নিয়েও চাপ রয়েছে এবং সাম্প্রতিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনগুলোতে দেশটির ব্যবসায়িক কার্যক্রমে মন্দার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, ব্যাংক অফ জাপানের পক্ষে সুদের হার আরও বাড়ানোর সুযোগ খুব কম—অন্তত নিকট ভবিষ্যতে।

USD/JPY পেয়ারের ক্রেতাদের "চাপের প্রতি সহনশীলতার" দ্বিতীয় কারণ হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জাপানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বন্ডের লভ্যাংশের পার্থক্য। মার্কিন ডলার কিছুটা দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও (বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সিপিআই এবং পিপিআই প্রতিবেদনের দুর্বল ফলাফল প্রকাশের পর), জাপানি সরকারি বন্ডের মুনাফা আমেরিকান বন্ডের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে থাকে। যদিও ১০-বছর মেয়াদী মার্কিন ট্রেজারির বন্ডের লভ্যাংশ সামান্য হ্রাস পায়, এবং অন্যদিকে জেজিবি-র লভ্যাংশ কার্যত অপরিবর্তিত থাকে, তারপরও ইয়েনভিত্তিক অ্যাসেটের তুলনায় ডলারভিত্তিক অ্যাসেটের আকর্ষণ মূলত প্রভাবিত হয়নি।

তৃতীয় কারণটি, যা মূলত পূর্ববর্তী কারণগুলো থেকেই উদ্ভূত, তা হলো ক্যারি ট্রেড কৌশলের অব্যাহত আকর্ষণ। এমনকি যদি ট্রেডাররা ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক আর্থিক নীতিমালা নমনীয় করার সম্ভাবনা বিবেচনা করতে শুরু করে, তবুও জাপানে 'ফান্ডিং কস্ট' এতটাই কম যে বিনিয়োগকারীরা এখনও সক্রিয়ভাবে ইয়েনকে ফান্ডিং কারেন্সি হিসেবে ব্যবহার করছেন। অন্য কথায়, তারা JPY বিক্রি করে সংগৃহীত তহবিল উচ্চ লভ্যাংশ প্রদানকারী অ্যাসেটে বিনিয়োগ করে চলেছেন, যা স্বয়ংক্রিয়ভাবে USD/JPY-এর চাহিদাকে সমর্থন করে চলেছে।

এই পেয়ারের দর বৃদ্ধিতে অবদান রাখার মতো আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। ট্রেডাররা ব্যাংক অব জাপানের কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কারেন্সি মার্কেটে হস্তক্ষেপের হুমকিকে কার্যত গুরুত্ব দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। যখন এই পেয়ারের মূল্য নির্ধারিত প্রাইস রেঞ্জের ঊর্ধ্বসীমার (অর্থাৎ, 162.60 – 162.70 এরিয়া) কাছাকাছি পৌঁছায়, জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা মৌখিকভাবে কারেন্সি মার্কেটে হস্তক্ষেপের ঘোষণা দেন, কিন্তু ট্রেডাররা এই ধরনের মৌখিক সংকেতের প্রতি "প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলেছে"। উদাহরণস্বরূপ, আজ জাপানের অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাতায়ামা পুনরায় বলেছেন যে প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষ "কার্যকর ব্যবস্থা" গ্রহণ করতে প্রস্তুত রয়েছে। তবে, ট্রেডারদের প্রতিক্রিয়া ছিল কার্যত শূন্য। এই পেয়ার অব্যাহতভাবে 162.30 – 162.50 এর আশেপাশে ট্রেডিং করা হচ্ছে, যা বহু বছরের মধ্যে পরিলক্ষিত সর্বোচ্চ লেভেলের কাছাকাছি। এটি আবারও ইঙ্গিত দেয় যে ট্রেডাররা এই ধরনের বিবৃতিগুলোকে আর তাৎক্ষণিকভাবে হস্তক্ষেপের সংকেত হিসেবে বিবেচনা করে না। অধিকন্তু, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কাতায়ামা বারবার প্রায় একই ধরনের বাক্যাংশ ব্যবহার করেছেন ("পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত," "উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে," "কার্যকর পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত," ইত্যাদি)। এই ধরনের বিবৃতির নিয়মিত পুনরাবৃত্তি ঘটার ফলে এগুলোর কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে—ট্রেডাররা মূলত এগুলোকে তাৎক্ষণিক সরকারি পদক্ষেপের সংকেত হিসেবে দেখা বন্ধ করে দিয়েছে। সুতরাং, আমরা মৌখিক হস্তক্ষেপের কার্যকারিতা হ্রাসের একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ প্রত্যক্ষ করছি। কারেন্সি মার্কেটে বড় আকারের হস্তক্ষেপের প্রস্তুতির সুস্পষ্ট সংকেত দেখা না যাওয়া পর্যন্ত ট্রেডাররা প্রতিটি উল্লেখযোগ্য দরপতনের পর USD/JPY পেয়ারের ক্রয় চালিয়ে যেতে পারে।

তাছাড়া, ব্যাংক অব জাপানের কর্তৃপক্ষ কারেন্সি মার্কেটে হস্তক্ষেপ করলেও লং পজিশন অগ্রাধিকার পাবে। কারেন্সি মার্কেটে বড় আকারের হস্তক্ষেপ ঘটলেও তা কেবল সাময়িকভাবেই ইয়েনকে শক্তিশালী করতে পারে, কারণ এর মৌলিক 'দুর্বলতাগুলো' (যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের মধ্যে সুদের হারের ব্যবধান, ক্যারি ট্রেডের আকর্ষণ বজায় থাকা এবং জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অপেক্ষা করার নীতি) অব্যাহত থাকবে।

সুতরাং, বর্তমান মৌলিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী USD/JPY-এর আরও দর বৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিস্থিতি বজায় রয়েছে। তবে, এই পেয়ারের মূল্য এমন একটা লেভেলের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে যেখানে জাপানি কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কারেন্সি মার্কেটে হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা অনেক বেশি, যা এই পেয়ারের তীব্র দরপতনের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। কারেকশনের অংশ হিসেবে ঘটা দরপতনগুলোকে লং পজিশন ওপেন করার সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত, কিন্তু 162.60 – 162.70 রেঞ্জে টেক প্রফিট সেট করাই যুক্তিযুক্ত হবে, কারণ মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইয়েনের দর 163 লেভেলের কাছাকাছি চলে আসায় কারেন্সি মার্কেটে সত্যিকার অর্থেই জাপানি কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে।

Analyst InstaForex
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন:
next parent
loader...
all-was_read__icon
You have watched all the best publications
presently.
আমরা ইতোমধ্যে আপনার জন্য আকর্ষণীয় কিছু সন্ধান করছি।..
all-was_read__star
Recently published:
loader...
More recent publications...