ব্রিটিশ পাউন্ডের জন্য সম্ভবত এটিই জুলাই মাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সপ্তাহ। আগামী চার দিনের মধ্যে পাউন্ডের জন্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে এবং এগুলোর ফলাফল ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের জুলাই মাসের বৈঠকের আগে ট্রেডারদের প্রত্যাশা নির্ধারণ করবে। আগামীকাল যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজার সংক্রান্ত প্রতিবেদনের পর বুধবার দেশটিতে জুন মাসের মুদ্রাস্ফীতি এবং শুক্রবার খুচরা বিক্রয় সূচক প্রকাশিত হবে। যদি প্রকাশিতব্য প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল পূর্বাভাসের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে ভিন্ন হয়, তবে ব্রিটিশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্ভাব্য পদক্ষেপের ব্যাপারে ট্রেডারদের প্রত্যাশা তীব্রভাবে পরিবর্তিত হতে পারে, যা GBP/USD পেয়ারের মূল্যের তীব্র অস্থিরতা সৃষ্টি করবে।

ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের বৈঠকের আগে প্রকাশিতব্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনের মধ্যে শ্রমবাজার সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি প্রথম। প্রত্যাশার চেয়ে শক্তিশালী ফলাফল প্রকাশের ক্ষেত্রে আর্থিক নীতিমালা নমনীয় করার ক্ষেত্রে তা আরও সতর্ক পন্থা অবলম্বনের যৌক্তিকতাকে জোরদার করতে পারে, অন্যদিকে পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্রিটিশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর ডোভিশ বা নমনীয় আর্থিক নীতিমালা প্রণয়নের চাপ বাড়বে।
ট্রেডাররা বেশ কয়েকটি উপাদানের উপর নজর রাখবেন। মজুরি বৃদ্ধির হারই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে: ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড মজুরি হারকে দেশটির অভ্যন্তরে ক্রমাগত মুদ্রাস্ফীতির চাপের একটি মূল সূচক হিসেবে বিবেচনা করে। দেশটির অর্থনীতি ধীরে ধীরে মন্দার দিকে যাওয়া সত্ত্বেও, মজুরি বৃদ্ধির হার উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে এবং এই হার মুদ্রাস্ফীতিকে ২%-এর লক্ষ্যমাত্রায় নিয়ে আসার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হারের চেয়ে অনেক বেশি। যদি বোনাসসহ গড় আয় আবারও পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে যায় (অথবা সামান্য পতন দেখা যায়), তবে তা আসন্ন বৈঠকগুলোতে আর্থিক নীতিমালা নমনীয় করণ বিলম্বিত করার ব্যাপারে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের যৌক্তিকতাকে আরও শক্তিশালী করবে।
প্রাথমিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, বোনাসসহ গড় সাপ্তাহিক আয় গত বছরের ৪.৪% থেকে বেড়ে ৪.৫% হবে, যা গত নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ। বোনাস বাদ দিলে, মজুরি পূর্ববর্তী মাসের কাছাকাছি ৩.৪% হারে অপরিবর্তিত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বেকারত্বের হার ৪.৯%-এ অপরিবর্তিত থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যেখানে বেকারভাতা আবেদনকারীর সংখ্যা ২৮,০০০ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে—যা একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি এবং এটি মে মাসের ৩১২০০-এর চেয়ে সামান্য কম হলেও এখনও অনেক বেশি। যদি, সাধারণ ধারণার বিপরীতে, বেকারভাতা আবেদনকারীর সংখ্যার বৃদ্ধির হার কমে ১০-৭ হাজারে নেমে আসে, তবে পাউন্ড উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হবে, বিশেষ করে যদি মজুরি সংক্রান্ত প্রতিবেদনের ফলাফল ইতিবাচক থাকে।
বুধবার জুন মাসের ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, সামগ্রিক ভোক্তা মূল্য সূচক বা সিপিআই বার্ষিক ভিত্তিতে কমে ২.৭%-এ পৌঁছাবে, যা গত বছরের মার্চের পর সর্বনিম্ন। এর আগে টানা দুই মাস দেশটির ভোক্তা মূল্য সূচক ২.৮%-এ ছিল। ট্রেডাররা মূলত সামগ্রিক সূচকের চেয়ে মূল মুদ্রাস্ফীতি এবং বিশেষ করে পরিষেবা খাতের মুদ্রাস্ফীতির ওপর বেশি মনোযোগ দেবে—এই সূচকগুলোকেই ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড অভ্যন্তরীণ মূল্যস্ফীতির দীর্ঘস্থায়ী চাপের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করে।
মূল ভোক্তা মূল্য সূচক (কোর সিপিআই) ২.৬% থেকে সামান্য কমে ২.৫%-এ পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। মে মাসে পরিষেবা খাতের মূল্যস্ফীতি ৩.৪% থেকে বেড়ে ৩.৬% হয়েছে; জুন মাসে এটি কমে ৩.৫% হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। যদি পরিষেবা খাতের মূল্যস্ফীতি আবার বাড়ে, তবে মূল ভোক্তা মূল্য সূচক নেতিবাচক হলেও তা পাউন্ডকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করবে।
অবশেষে, আগামী শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, যুক্তরাজ্যে জুন মাসের খুচরা বিক্রয় সূচক প্রকাশিত হবে। যদিও এই প্রতিবেদনটির প্রভাব সাধারণত কর্মসংস্থান বা মুদ্রাস্ফীতির তুলনায় কম থাকে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি ভোক্তা চাহিদার স্থিতিস্থাপকতা মূল্যায়নে সহায়তা করবে—যা যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির অন্যতম মূল চালিকাশক্তি।
মে মাসের খুচরা বিক্রয় সংক্রান্ত প্রতিবেদনটির ফলাফল পূর্বাভাসের তুলনায় শক্তিশালী ছিল, যেখানে উষ্ণ আবহাওয়া, মৌসুমী প্রচারণামূলক কার্যক্রম এবং শক্তিশালী অনলাইন কার্যক্রমের সহায়তায় এপ্রিলের পতনের পর মাসিক ভিত্তিতে বিক্রির হার ১.২% বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন সর্বসম্মত ধারণা অনুযায়ী মাসিক ভিত্তিতে সূচকটির বৃদ্ধির হার আরও অনেক কম, মাত্র ০.২% হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তা সত্ত্বেও, প্রধান সূচকগুলো জুন মাসেও ভোক্তাদের শক্তিশালী কার্যকলাপ অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দিচ্ছে—যা উষ্ণ আবহাওয়া এবং বিশ্বকাপের কারণে আরও গতি পেয়েছে, কারণ এগুলো অনলাইন, আতিথেয়তা এবং অবসরকালীন ব্যয় বাড়িয়েছে—তাই শুক্রবারের প্রতিবেদনটি অপ্রত্যাশিতভাবে ভালো ফলাফল প্রদর্শন করতে পারে এবং এই ধারণাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে যে অভ্যন্তরীণ চাহিদা স্থিতিশীল রয়েছে, যা দ্রুতই আর্থিক নীতিমালা নমনীয় করার প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দেবে।
তথাপি, শুক্রবারের প্রতিবেদনের প্রভাবে পাউন্ডের মূল্যের ব্যাপক মুভমেন্ট সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা কম। যদি শ্রমবাজার ও মুদ্রাস্ফীতি সংক্রান্ত প্রতিবেদনের একই দিকে ইঙ্গিত করে—অর্থাৎ, অপ্রত্যাশিত কিছু ঘটে—তবে এটি অর্থনীতির সামগ্রিক মৌলিক চিত্রকে আরও শক্তিশালী করবে। যদি তিনটি প্রতিবেদনেই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়টি নিশ্চিত হয়, তবে তা আর্থিক নীতিমালা নমনীয় করার ক্ষেত্রে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের আরও সতর্ক অবস্থান গ্রহণের সম্ভাবনা বাড়বে। যদি প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল সার্বিকভাবে দুর্বল হয়, তবে ব্রিটিশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক নীতিমালার ক্ষেত্রে ডোভিশ বা নমনীয় গ্রহণের সম্ভাবনা বাড়বে।
টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, দৈনিক চার্টে GBP/USD পেয়ারের মূল্য মিডল এবং আপার বলিঙ্গার ব্যান্ডের মধ্যে এবং সবগুলো ইচিমোকু লাইনের উপরে অবস্থান করছে, যা একটি বুলিশ "প্যারেড অফ লাইনস" সিগন্যাল দিচ্ছে। চার-ঘণ্টার চার্টে, এই পেয়ারের মূল্য টানা দ্বিতীয় সেশনে 1.3470 (H4 মিডল বলিঙ্গার লাইন)-এর রেজিস্ট্যান্স অতিক্রম করতে ব্যর্থ হয়েছে। শুধুমাত্র তখনই লং পজিশন নেওয়ার কথা বিবেচনা করুন যখন ক্রেতারা এই পেয়ারের মূল্যকে ঐ রেজিস্ট্যান্সের উপরে নিয়ে যেতে পারবে, যা পরবর্তী এই পেয়ারের মূল্যের 1.3550 (H4 এবং D1 আপার বলিঙ্গার লাইন)-এর রেজিস্ট্যান্সের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত করবে।