বিটকয়েন এবং ইথেরিয়াম এখনও কারেকশনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা বেশ দীর্ঘ সময় ধরে চলমান থাকতে পারে। গত দেড় মাসে ইথেরিয়াম এবং বিটকয়েন কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হলেও, গত বছর থেকে শুরু হওয়া নিম্নমুখী প্রবণতা শেষ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা এখনও দেখা যাচ্ছে না। ক্রিপ্টো খাতের মৌলিক প্রেক্ষাপট দুর্বলই রয়ে গেছে, যা মূলত স্পট মার্কেটে স্বল্প চাহিদা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে মূলধন প্রবাহ এবং মুদ্রাস্ফীতি ২%-এ নামিয়ে আনার জন্য ফেডের প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে প্রতিফলিত হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে কঠোর মুদ্রানীতি বজায় থাকার ইঙ্গিত দেয়। অতএব, আমরা এখনও বিটকয়েন বা ইথেরিয়ামের মূল্য বৃদ্ধির জন্য দৃঢ় কোনো ভিত্তি দেখতে পাচ্ছি না।
ইতোমধ্যে, বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় বিটকয়েনের নতুন অবস্থান নিয়ে ক্রমশ আলোচনা শুরু হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, দীর্ঘ সময় ধরেই বিটকয়েনকে মার্কিন স্টক সূচক (উভয় অ্যাসেটই ঝুঁকিপূর্ণ) অথবা স্বর্ণের (নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত) সাথে পারস্পারিকভাবে সম্পর্কযুক্ত হিসেবে দেখা হতো। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অধিকাংশ "বিশেষজ্ঞদের" মতে, বিটকয়েনের মূল্য যেকোনো মুহূর্তে বেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। স্বর্ণের মূল্য বাড়লে বিটকয়েনের মূল্যও বাড়ার কথা—কারণ বিটকয়েন হলো "ডিজিটাল স্বর্ণ", "মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষিত থাকার মাধ্যম" এবং একটি "নিরাপদ বিনিয়োগ"। আবার মার্কিন স্টক মার্কেটে উত্থান ঘটলেও বিটকয়েনের মূল্য বাড়ার কথা, কারণ এটি একটি ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেট। এই "বিশেষজ্ঞ"দের অধিকাংশই এখনো এই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি যে বিটকয়েন আসলে কী—এটি কি ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাসেট না কি "নিরাপদ বিনিয়োগ"? আর এই বিষয়টিই ট্রেডারদেরকে সবচেয়ে ভালোভাবে বুঝিয়ে দেয় যে, মাইকেল সেইলর, ক্যাথি উড বা রবার্ট কিওসাকির বক্তব্যের ওপর আদৌ গুরুত্ব দেওয়া উচিত কি না। আর্থিক জগতে তাঁরা সবাই অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তিত্ব, কিন্তু বিটকয়েনের মূল্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব স্বার্থ জড়িত রয়েছে। কারণ তারা নিজেরাও "ডিজিটাল স্বর্ণে" বিনিয়োগ করেছেন অথবা বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে রয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই, তারা প্রথম ক্রিপ্টোকারেন্সিটির ক্রমাগত মূল্য বৃদ্ধির পূর্বাভাস দেবেন; কারণ মূল্য বৃদ্ধির জন্য মূলধন প্রবাহ এবং নতুন বিনিয়োগকারী প্রয়োজন। যদি মূলধন বা নতুন বিনিয়োগকারী—কোনোটিরই দেখা না মেলে, তবে এই ক্রিপ্টো অ্যাসেটের মূল্য কীভাবে বৃদ্ধি পাবে?
প্রসঙ্গত, মার্কিন স্টক মার্কেটে বিনিয়োগের জন্য কোনো বিজ্ঞাপন বা ক্রমাগত প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসের প্রয়োজন পড়ে না। তা সত্ত্বেও মার্কিন স্টক সূচকগুলো ক্রমাগত প্রবৃদ্ধি প্রদর্শন করে চলেছে। হ্যাঁ, অনেক বিশেষজ্ঞই আরেকটি "বাবলের" কথা উল্লেখ করছেন, যার ফলে যেকোনো মুহূর্তে ব্যাপক ধস নামতে পারে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তা ঘটেনি। অন্যদিকে বিটকয়েনের ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন; গত তিনটি প্রান্তিক ধরেই এটির দরপতন ঘটছে।
BTC/USD-এর ট্রেডিংয়ের পরামর্শ:
বিটকয়েনের মূল্যের পূর্ণাঙ্গ নিম্নমুখী প্রবণতা গঠিত হচ্ছে। আমরা এখনও $57,500-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে দরপতনের প্রত্যাশা করছি (তিন বছরের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার 61.8% ফিবোনাচ্চি লেভেল), যদিও এই লেভেলে মূল্য ইতোমধ্যেই পৌঁছেছে। তবে আমাদের ধারণা, নিম্নমুখী প্রবণতা এখানেই শেষ হবে না। দৈনিক টাইমফ্রেমে $68,000 থেকে $70,700 রেঞ্জে সর্বশেষ বিয়ারিশ FVG প্যাটার্ন গঠিত হয়েছে, যা এই রেঞ্জটিকে আসন্ন কয়েক সপ্তাহে শর্ট পজিশনের পয়েন্ট অব ইন্টারেস্টে (POI) পরিণত করেছে। 4-ঘণ্টার টাইমফ্রেমে বিটকয়েনের দরপতনের সম্ভাবনাই দেখা যাচ্ছে এবং এটির মূল্যের ব্যাপক অস্থিরতা ও ওঠানামা বজায় থাকবে। ট্রেডাররা লোকাল প্যাটার্নের ওপর ভিত্তি করে ট্রেডিংয়ের সুযোগ বিবেচনা করতে পারেন, তবে এই মুহূর্তে আমরা ক্রিপ্টো মার্কেটে কোনো উল্লেখযোগ্য মুভমেন্টের আশা করছি না।
ETH/USD-এর ট্রেডিংয়ের পরামর্শ:
দৈনিক টাইমফ্রেমে ইথেরিয়ামের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতার গঠন অব্যাহত রয়েছে, যা গত বছরের আগস্টে শুরু হয়েছিল। মূল সেল প্যাটার্ন হিসেবে সাপ্তাহিক টাইমফ্রেমের বিয়ারিশ অর্ডার ব্লক অপরিবর্তিত রয়েছে। আমরা মনে করি না যে চলমান নিম্নমুখী প্রবণতার সমাপ্তি ঘটেছে, কারণ বিটকয়েন বা ইথেরিয়ামের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতার সমাপ্তির কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। বর্তমানে ক্রিপ্টো মার্কেটে দ্বিতীয় ধাপে কারেকশন চলছে, যা শেষ পর্যন্ত ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্টে পরিণত হয়েছে। ফ্ল্যাট রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্টের সময় আপনি শুধুমাত্র এই রেঞ্জের বাউন্ডারি থেকেই ট্রেড করতে পারবেন, এবং এই মুভমেন্ট শেষ হওয়ার পর পরবর্তী মুভমেন্ট নির্ধারিত হবে। সাইডওয়েজ চ্যানেলের আপার বাউন্ডারির কাছাকাছি, $1,800–$1,942-এ, কোনো ডেভিয়েশন বা প্যাটার্ন গঠিত হয়নি, তাই কোনো ট্রেডিং সিগন্যালও দেখা যায়নি। বর্তমানে, ইথারের মূল্য এই চ্যানেলের ঠিক মাঝখানে অবস্থান করছে।
চার্টের ব্যাখা
- CHOCH — চেঞ্জ অব ক্যারেকটার / ট্রেন্ড স্ট্রাকচারের ব্রেক।
- লিকুইডিটি — লিকুইডিটি, ট্রেডারদের স্টপ‑লস যা মার্কেট‑মেকাররা তাদের পজিশন ওপেন করতে ব্যবহার করে।
- FVG — ফেয়ার ভ্যালু গ্যাপ। মূল্য প্রায়ই এমন এরিয়াগুলো দ্রুত অতিক্রম করে, যা মার্কেটে ক্রেতা বা বিক্রেতা যেকোনো একপক্ষের অনুপস্থিতি নির্দেশ করে; পরে এই জোনগুলোতে ফিরে এসে মূল্যের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
- IFVG — ইনভার্টেড ফেয়ার ভ্যালু গ্যাপ। এমন জোনে ফেরার পর মূল্যের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি না হয়ে ব্রেকআউট হয় এবং পরে উল্টো দিক থেকে টেস্ট করে।
- OB — অর্ডার ব্লক। এমন একটি ক্যান্ডেল যা কাজে লাগিয়ে মার্কেট‑মেকাররা লিকুইডিটি ঘটাতে পজিশন ওপেন করেন এবং পরে বিপরীত দিকে নিজের পজিশন ওপেন করেন।

