গতকাল, মার্কিন ইক্যুইটি সূচকগুলোতে আবারও নিম্নমুখী প্রবণতার সাথে লেনদেন শেষ হয়েছে। S&P 500 সূচক 0.69% হ্রাস পেয়েছে, যখন নাসডাক 100 সূচক 1.33%হ্রাস পেয়েছে, ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল এভারেজ সূচক 0.22% হ্রাস পেয়েছে।

বন্ডের উচ্চ ইয়েল্ড বা লভ্যাংশ এবং ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দরপতনের প্রবণতা আরও তীব্র হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টকের দরপতনের জেরে ফিলাডেলফিয়া সেমিকন্ডাক্টর সূচক প্রায় 5% কমে যাওয়ার (যা জুলাইয়ের শেষভাগের পর সূচকটির সবচেয়ে খারাপ দিন ছিল) প্রভাব সিউলের মার্কেটেও পড়েছে; সেখানে স্যামসাং ইলেকট্রনিক্স ও এসকে হাইনিক্সের শেয়ার 7%-এর বেশি দরপতনের শিকার হয়েছে। সামগ্রিক এমএসসিআই এশিয়া-প্যাসিফিক ইকুইটি সূচক 2.2% হ্রাস পেয়েছে। আঞ্চলিক দরপতনের তালিকায় শীর্ষে ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক, যা প্রায় 5.6% হ্রাস পেয়েছে।
জ্বালানি তেলের দর বৃদ্ধির ফলে বিনিয়োগকারীদের মনোভাবের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। লেবাননে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় এবং ইরানের সাথে মেয়াদোত্তীর্ণ হতে চলা চুক্তি নবায়নে আগ্রহ নেই বলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্তব্যের জেরে ব্রেন্ট ক্রুড গ্রেডের জ্বালানি তেলের দর টানা চতুর্থ দিনের মতো বেড়েছে; আগের তিনটি সেশনে 4.5% বৃদ্ধির পর এটির দর এখন ব্যারেলপ্রতি $91.60-এর উপরে অবস্থান করছে।
আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রযুক্তি খাতভিত্তিক শেয়ারের ব্যাপক দরপতনের মূল কারণটি নিহিত রয়েছে ডেবট মার্কেটের পরিস্থিতির মধ্যে। সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশায় প্রযুক্তি খাতের শেয়ারে বিনিয়োগ করা হয়ে থাকে; কিন্তু অব্যাহত মুদ্রাস্ফীতি ও সরকারের বিপুল ব্যয়ের ফলে বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশ যখন গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান করছে, তখন এই খাতের শেয়ারগুলো নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে, যার ফলে মুদ্রাস্ফীতি ও ঋণ গ্রহণের ব্যয় দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ পর্যায়ে থেকে যেতে পারে।
এর আগের বড় ধরনের দরপতনের পর বন্ড মার্কেটে স্থিতিশীলতার লক্ষণ দেখা গেছে: ১০-বছর মেয়াদী বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশ যখন ২০২৫ সালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে এবং ৩০-বছর মেয়াদী বন্ডের ইয়েল্ড ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল, ঠিক তার পরপরই ট্রেজারি বন্ডের দরে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি ক্রমাগত বাড়ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে যে, ইরান থেকে দেশটির দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সমুদ্রে গিয়ে পড়েছে, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, উল্লেখ্য যে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের মধ্যে মে মাসের পর উপসাগরীয় এই দেশটির ওপর ইরানের এটিই প্রথম কোনো হামলার ঘটনা। অন্যান্য মার্কেটে ক্ষেত্রে, ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত উত্তেজনাকর আলোচনার পর ট্রাম্প প্রশাসন কানাডা থেকে আমদানিকৃত বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত তিন দিন পিছিয়ে দিতে সম্মত হওয়ায় কানাডিয়ান ডলারের দর বৃদ্ধি পেয়েছে।
আজকের প্রধান ইভেন্ট হিসেবে ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সর্বশেষ বৈঠকের কার্যবিবরণী প্রকাশিত হবে; এতে ফেডের নীতিনির্ধারকদের পরিকল্পনা সম্পর্কে ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে—বিশেষ করে এমন এক সময়ে যখন ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ মার্কেটের বিনিয়োগকারীদের সাথে যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছেন।

টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপট অনুযায়ী S&P 500 সূচকের ক্রেতাদের প্রধান কাজ হবে সূচকটির মূল্যের $7,698-এর নিকটতম রেজিস্ট্যান্স অতিক্রম করানো। এটি আরও উর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিশ্চিত করবে এবং $7,718-এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত করবে। সূচকটির দর $7,737-এর উপর ধরে রাখাও ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর ফলে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। যদি ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা কমে গিয়ে দরপতন হয়, তাহলে সূচকটির দর $7,679-এ থাকা অবস্থায় ক্রেতাদের সক্রিয় হতে হবে। এই লেভেল ব্রেক করে নিম্নমুখী হলে সূচকটির মূল্য দ্রুত $7,656-এ নেমে যেতে পারে এবং $7,633 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনা রয়েছে।