অবশেষে স্বর্ণ ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং এটির মূল্য 1 শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স $4,427.09-এ পৌঁছেছে। এটি স্বর্ণের দর বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি স্বাভাবিক দিন ছিল। রৌপ্যের দর 1 শতাংশ বেড়ে $65.94-এ দাঁড়িয়েছে; এছাড়া প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এক বক্তব্যের জেরে পরিস্থিতি মোড় ঘুরে যায়; তিনি বলেছিলেন যে ইরানের ওপর সাম্প্রতিক হামলার প্রভাব সম্ভবত স্বল্পস্থায়ী হবে। এর ফলে জ্বালানি তেলের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সেখানেই থমকে দাঁড়ায়। উল্লেখ্য, নতুন করে সংঘাত শুরুর ঘটনায় মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল—যা সাধারণত কোনো সুদ বা লভ্যাংশ প্রদান করে না এমন অ্যাসেট হিসেবে স্বর্ণের জন্য একটি নেতিবাচক বা প্রতিকূল বিষয়। এছাড়া কারেন্সি মার্কেটের পরিস্থিতি থেকেও স্বর্ণ বাড়তি সহায়তা পায়; জাপানি ইয়েনের আকস্মিক মূল্য বৃদ্ধির পর মার্কিন ডলারের দর স্থিতিশীল হয়ে আসায় জাপানি কর্তৃপক্ষের পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে ট্রেডাররা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মুদ্রানীতি-সংক্রান্ত পরিস্থিতিও অনুকূল দিকে মোড় নিয়েছে। নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের প্রেসিডেন্ট জন উইলিয়ামস বুধবার জানিয়েছেন যে, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির গতি কমে আসার (ডিসইনফ্লেশন) সম্ভাবনা স্পষ্ট হচ্ছে; কারণ শুল্কের প্রভাব ক্রমশ কমে আসছে এবং জ্বালানির উচ্চমূল্যের প্রভাব অন্যান্য পরিষেবার ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়ছে না। এই বিষয়টি সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশাকে কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে। এছাড়া এডিপি থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদনেও এই ধারণার সমর্থন পাওয়া গেছে—সেখানে দেখা যায়, আগস্ট মাসে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির হার কমে 38,000-এ নেমে এসেছে, যা জানুয়ারি মাসের পর থেকে সর্বনিম্ন।
উল্লেখ্য যে, টেকনিক্যাল চার্ট অনুযায়ী স্বর্ণ ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং এটির মূল্য পুনরায় 100-ডে মুভিং এভারেজের উপরে উঠে এসেছে। স্মরণ করা যেতে পারে যে, মাত্র তিন দিন আগেই টানা তিনটি সেশনে স্বর্ণের মূল্য প্রায় 6 শতাংশ কমে 200-ডে মুভিং এভারেজের নিচে নেমে গিয়েছিল; তাই বর্তমান এই পুনরুদ্ধারের ফলে আগের সেই দরপতনের কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
ব্যাপক ওঠানামা সত্ত্বেও, বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত স্বর্ণের সামগ্রিক পরিস্থিতি মিশ্রই রয়েছে। অত্যন্ত অস্থিতিশীল লেনদেনের পর স্বর্ণের মূল্য বছরের শুরুর তুলনায় সামান্য বেশি পর্যায়ে রয়েছে—জানুয়ারিতে রেকর্ড উচ্চতায় পৌছানো, জুন পর্যন্ত টানা চার মাস দরপতন এবং এরপর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও ফেডারেল রিজার্ভের নীতিমালা কঠোর করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে পর্যালোচনার প্রেক্ষাপটে ঘুরে দাঁড়ানো—এসবই এর মূল কারণ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর অব্যাহত স্বর্ণ ক্রয় কার্যক্রম এটির মূল্য কিছুটা স্থিতিশীল থাকতে সহায়তা জোগাচ্ছে। পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদন শুক্রবার প্রকাশিত হবে; সেদিন যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রতিবেদনটির ফলাফল হয় এডিপির প্রতিবেদনে উঠে আসা নিয়োগের মন্থরতাকে নিশ্চিত করবে, অথবা প্রত্যাশা বদলে দিয়ে সেপ্টেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা বেড়ে যাবে।

স্বর্ণের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের মূল্যকে নিকটতম রেজিস্ট্যান্স $4,425-এ পুনরুদ্ধার করতে হবে। এতে করে স্বর্ণের মূল্যের $4,481-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে; যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া তুলনামূলকভাবে কঠিন হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $4,540 এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। দরপতনের ক্ষেত্রে স্বর্ণের মূল্য $4,372 লেভেলে থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। যদি তারা সফল হয়, এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনগুলোর উপর উল্লেখযোগ্য আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং স্বর্ণের মূল্য $4,304-এ নেমে যেতে পারে, ও পরবর্তীতে সম্ভবত $4,249 পর্যন্ত দরপতন হতে পারে।