ব্রেন্ট গ্রেডের অপরিশোধিত তেলের দর ইতোমধ্যেই ব্যারেলপ্রতি $110 ছাড়িয়ে গেছে এবং অক্টোবর মাসে ডেলিভারির জন্য নির্ধারিত ডব্লিউটিআই গ্রেডের তেলের মূল্য বেড়ে $104-এ পৌঁছেছে। বছরের শুরু থেকে এই বেঞ্চমার্ক গ্রেডের তেলের দর ৭৫ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে, যদিও তা এপ্রিল মাসে যুদ্ধকালীন সর্বোচ্চ দর প্রায় $126-এর নিচেই অবস্থান করছে।
তবে দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যাটি কিন্তু ফিউচার্স টেপে দেখা যাচ্ছে না। প্রাপ্ত তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার 'ফিজিক্যাল' বা ভৌত ব্রেন্ট ক্রুডের দর ব্যারেলপ্রতি প্রায় $120 হাঁকা হচ্ছিল—যা ফিউচার্স কন্ট্র্যাক্টের সেটেলমেন্ট প্রাইসের চেয়ে ১২ ডলারেরও বেশি। এই ব্যবধান ইঙ্গিত দেয় যে, 'পেপার মার্কেট' বা ফিউচার্স মার্কেটের হিসাবের তুলনায় ফিজিক্যাল মার্কেটে তেলের ঘাটতি অনেক বেশি তীব্র; তাছাড়া এশিয়া থেকে নতুন করে ক্রয়ের ফলে জ্বালানি তেলের প্রকৃত সরবরাহ পরিস্থিতি আরও সংকুচিত হয়ে পড়ছে।

রিয়াদ থেকে জ্বালানি সরবরাহ সংক্রান্ত আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পাওয়া গেছে। সৌদি আরব সতর্ক করেছে যে, গত মাসে তাদের তেল উৎপাদন ১৯৯০ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে—অর্থাৎ উৎপাদন এমন এক তলানিতে ঠেকেছে যা গালফ যুদ্ধের আগের পরিস্থিতির সমতুল্য। তেহরানের মদদপুষ্ট হুথি বিদ্রোহীদের চালানো হামলার কারণেই মূলত উৎপাদনের এই পতন ঘটেছে; এর ফলে যুদ্ধের আঁচ হরমুজ প্রণালীর গণ্ডি পেরিয়ে সরাসরি এই অঞ্চলের বৃহত্তম তেল উৎপাদনকারী দেশটিকে আঘাত হেনেছে।
সিআইবিসি প্রাইভেট ওয়েলথ গ্রুপ মার্কেটের সামগ্রিক মুভমেন্টে একটি পরিবর্তনের বিষয়টি চিহ্নিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, "ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির তীব্রতা বৃদ্ধি এবং এর দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কার বিষয়টি ট্রেডাররা নতুন করে মূল্যায়ন করায় তেলের দাম মে মাসের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। যখন তেলের দর এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যা অপশন ডিলারদের জন্য উল্লেখযোগ্য 'শর্ট গামা এক্সপোজার' তৈরি করে, তখন সেই অবস্থানটি বিদ্যমান ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে আরও ত্বরান্বিত করে।"
এর ফলে একই মার্কেটের দুটি অংশের মধ্যে এক বিরল পার্থক্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভৌত তেলের চাহিদা অনুযায়ী মূল্য $120 হওয়ার ইঙ্গিত মিললেও, স্পেকুলেটিভ পজিশনিংয়ের ক্ষেত্রে মূল্য সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এক্ষেত্রে প্রকৃত তেল বা ব্যারেল যাদের হাতে রয়েছে, তারাই নিশ্চিতভাবে লাভবান হচ্ছেন; অন্যদিকে, যারা সপ্তাহের শুরুর দিকে 'লং ফিউচার্সে' বাই পজিশন ওপেন করেছিলেন, তারা দ্রুত দরপতনের ঝুঁকির মুখে রয়েছেন। কারণ, প্রকৃত সরবরাহের ভারসাম্য বা পরিস্থিতির পরিবর্তনের গতির চেয়ে 'পেপার প্রাইস' বা ফিউচারস মার্কেটে মূল্য অনেক দ্রুত পতনের শিকার হতে পারে।
এর সবচেয়ে তীব্র প্রভাব দেখা যাচ্ছে পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যের ক্ষেত্রে, যেখানে বিষয়টি ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক মাত্রা পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে খুচরা পর্যায়ে ডিজেলের দাম গ্যালনপ্রতি নজিরবিহীন $6-এর কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং ইউরোপে গ্যাস-অয়েল ফিউচারের দর ব্যারেলপ্রতি $200-এর দ্বারপ্রান্তে রয়েছে; এছাড়া বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেল ফিউচারের দাম ২০২২ সালের এপ্রিলের পর প্রথমবারের মতো গ্যালনপ্রতি $5 ছাড়িয়ে গেছে।
আমি আশা করছি, আগামী সেশনগুলোতে কারেকশনের অংশ হিসেবে ব্রেন্ট গ্রেডের তেলের মূল্য $100–103-এর দিকে নেমে আসবে, কারণ ট্রেডাররা তাদের মুনাফা নিশ্চিত করে নেবে, যেহেতু পজিশনিং প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। কিন্তু এটা বুঝতে হবে যে, এটি সম্ভবত একটি কাঠামোগত পরিবর্তনের পরিবর্তে একটি টেকনিক্যাল রিট্রেসমেন্ট হবে: $12-এর ফিজিক্যাল প্রিমিয়াম এবং সৌদি আরবের ৩৬ বছরের সর্বনিম্ন উৎপাদনের প্রভাব এতো তাড়াতাড়ি মিলিয়ে যাবে না। আমি এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছি না যে, প্রতি গ্যালন ডিজেলের দাম $6 হওয়ার কারণে নভেম্বরের নির্বাচনের আগে ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে তাদের কৌশলে ব্যাপকভাবে পরিবর্তন আনতে পারে — এই রাজনৈতিক ঝুঁকিটিই বুল বা ক্রেতাদের জন্য একমাত্র উল্লেখযোগ্য হুমকি হিসেবে বজায় রয়েছে।

জ্বালানি তেলের মূল্যের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের জ্বালানি তেলের মূল্যকে নিকটস্থ রেজিস্ট্যান্স $104.70-এ নিয়ে যেতে হবে। এতে করে জ্বালানি তেলের মূল্যের $109.30-এর লক্ষ্যমাত্রার দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে, যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জিং হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $113.40 এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। যদি তেলের দরপতন হয়, তাহলে মূল্য $100-এ থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। তারা সফল হলে এই রেঞ্জ ব্রেক করে মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনের উপর উল্লেখযোগ্য আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তেলের মূল্য $96.54 পর্যন্ত নেমে যেতে পারে, যেখানে পরবর্তীতে $92 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনাও রয়েছে।