ওপেনএআই-এর আয়ের নতুন প্রতিবেদন থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে ওয়াল স্ট্রিটে প্রযুক্তি খাতের দুর্বলতা হয়তো সীমিত পরিসরেই সীমাবদ্ধ থাকবে; এর ফলে মার্কিন ইকুইটি ফিউচার মার্কেট এবং এশীয় স্টক সূচকসমূহ ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। S&P 500 সূচকের ফিউচার 0.3% এবং নাসডাক 100 সূচকের ফিউচার 0.5% বৃদ্ধি পেয়েছে; পাশাপাশি এশীয় স্টক সূচকগুলো প্রায় 0.3% বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ইউরোপীয় ফিউচারগুলোতেও ইতিবাচক সূচনার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ব্রেন্ট ক্রুড গ্রেডের তেলের মূল্য হ্রাসও কিছুটা স্বস্তি জুগিয়েছে। তবে, মার্কেটের সার্বিক পরিস্থিতির দীর্ঘস্থায়ী কোনো পরিবর্তনের পরিবর্তে এটিকে আমি মূলত সংবাদ-নির্ভর সাময়িক উত্থান হিসেবেই দেখছি।

স্টক মার্কেটের সাম্প্রতিক দরপতনের সূত্রপাত হয়েছিল ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে, যেখানে ওপেনএআই-এর বার্ষিক আয়ের হিসাব নতুন করে করা হয় এবং দেখা যায় যে তা আগের প্রতিবেদনের চেয়ে তা প্রায় $20 বিলিয়ন ডলার কম। এর ফলে চিপ-নির্মাতা কোম্পানিগুলোর স্টক সূচক 3.4% কমে যায় এবং প্রযুক্তি খাতের কোম্পানিগুলোই S&P 500 সূচকের দরপতনের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তবে ওপেনএআই এখনও আশা করছে যে, মূলত কর্পোরেট বিক্রির ওপর ভর করে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ তাদের বার্ষিক আয় $70 বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বা তা ছাড়িয়ে যাবে। তুলনামূলকভাবে উল্লেখ করা যায় যে, জুলাই মাসের শেষ নাগাদই অ্যানথ্রোপিকের বার্ষিক আয়ের পরিমাণ $65 বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে গিয়েছিল।
মূল আয়ের পরিসংখ্যানে থাকা এই পার্থক্য স্টকের মূল্যের বড় ধরনের ওঠানামা ঘটাতে পারে। ট্রেডাররা এখন আর এআই-কে কেবল একটি ধারণা হিসেবে মূল্যায়ন করে না; বরং বিনিয়োগকৃত মূলধনের ওপর প্রাপ্ত আয়ের ভিত্তিতে এআইভিত্তিক কোম্পানির স্টকের মূল্য নির্ধারণ করে। যেসব কোম্পানির ডেটা-সেন্টার পরিচালনার খরচ আয়ের তুলনায় দ্রুত বাড়ছে, তারা পিছিয়ে পড়ছে; অন্যদিকে, যেসব কোম্পানির কর্পোরেট চুক্তিগুলো ইতোমধ্যেই নগদ অর্থে রূপান্তরিত হচ্ছে, তারাই এগিয়ে থাকছে।
এখন মূল পরীক্ষাটি হচ্ছে কোম্পানিগুলোর আয় প্রকাশের মৌসুম, যা এই সপ্তাহেই শুরু হচ্ছে। এআই কম্পিউটিং প্রযুক্তির বৃহত্তম ক্রেতাদের প্রমাণ করতে হবে যে ভবিষ্যতেও তাদের বিপুল আয় অব্যাহত রাখবে। গত এক বছরে এআই-সংক্রান্ত নেতিবাচক খবরের ঢেউগুলো সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যেই মিলিয়ে যেত এবং মার্কেটের পরিস্থিতি আবার ইতিবাচক হয়ে উঠত; কিন্তু এখন এ ধরনের নেতিবাচক খবরের ঢেউ আগের চেয়ে অনেক বেশি ঘন ঘন আসছে।
কমোডিটি ও বন্ড মার্কেটে কিছুটা নমনীয় পরিস্থিতি দেখা গেছে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা চালানো থেকে যুক্তরাষ্ট্র বিরত থাকবে—ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর ব্রেন্ট ক্রুড গ্রেডের জ্বালানি তেলের মূল্য 1.2% কমে প্রতি ব্যারেল $102.95-এ পৌঁছেছে। ট্রেজারি বন্ডের ক্ষেত্রে পুনরায় ক্রয়ের প্রবণতা দেখা গেছে এবং বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশ কমেছে। স্বর্ণের মূল্য 1.1% বেড়ে প্রতি আউন্স $4,175-এর কাছাকাছি অবস্থান করছে। উল্লেখ্য, গতকাল ১০-বছর মেয়াদি বন্ডের ইয়েল্ড 5.31%-এর কাছাকাছি ছিল; তাই এই পতন স্বর্ণকে কিছুটা স্বস্তি দিলেও, এটির মূল্য এখনও সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে পৌঁছানো $4,350-এর কাছাকাছি লেভেলের নিচে অবস্থান করছে।

আমার মতে, আজ সম্ভবত স্টক মার্কেটে সাইডওয়েজ রেঞ্জভিত্তিক মুভমেন্ট বজায় থাকবে এবং বিভিন্ন খবরের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রতিক্রিয়া বজায় থাকবে। যদি আয়ের প্রতিবেদনগুলোতে দেখা যায় যে এআই-খাতে ব্যয়ের তুলনায় আয় বাড়ছে, তবে প্রযুক্তি খাতের পুনরুদ্ধার ঘটবে এবং রেকর্ড উচ্চতায় সেশন শেষ করা নাসডাক 100) সূচকটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। আর যদি বড় কোম্পানিগুলো মূলধনী ব্যয়ের ক্ষেত্রে সতর্কতার ইঙ্গিত দেয়, তবে গতকাল চিপ-প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোর স্টকের যে ব্যাপক দরপতন দেখা গেছে, তা হয়তো আরও বড় কোনো দরপতনের সূচনা হতে পারে—বিশেষ করে যদি ১০-বছর মেয়াদী বন্ডের ইয়েল্ড 5%-এর উপরেই থেকে যায়।
টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপট অনুযায়ী S&P 500 সূচকের ক্রেতাদের প্রধান কাজ হবে সূচকটির মূল্যের $7,841-এর নিকটতম রেজিস্ট্যান্স অতিক্রম করানো। এটি আরও উর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিশ্চিত করবে এবং $7,860-এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত করবে। সূচকটির দর $7,880-এর উপর ধরে রাখাও ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর ফলে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। যদি ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা কমে গিয়ে দরপতন হয়, তাহলে সূচকটির দর $7,824-এ থাকা অবস্থায় বায়ারদের সক্রিয় হতে হবে। এই লেভেল ব্রেক করে নিম্নমুখী হলে সূচকটির মূল্য দ্রুত $7,810-এ নেমে যেতে পারে এবং $7,793 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনা রয়েছে।