আজ পুনরায় স্বর্ণের দরপতন শুরু হয়েছে এবং এটির মূল্য প্রতি আউন্স প্রায় $4,144-এ অবস্থান করছে; এর মাধ্যমে গত দুই দিনে স্বর্ণের যে 0.8% দরপতন হয়েছে, তা থামানোর প্রচেষ্টা দেখা যাচ্ছে। গতকালের $60.57-এর তুলনায় আজ রুপার দাম ০.১% বেড়ে $59.20-এ পৌঁছেছে; প্লাটিনামের দর অপরিবর্তিত ছিল এবং প্যালাডিয়ামের মূল্য বেড়েছে।

নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভের প্রেসিডেন্ট জন উইলিয়ামসের মন্তব্যের জেরে সকালে স্বর্ণের মূল্যের স্থিতিশীলতা দেখা যায়। তিনি মনে করেন, এ বছর সুদের হার আরও একবার বাড়ানো যৌক্তিক, তবে ২০২৭ সালে আর্থিক নীতিমালা আরও কঠোর করার কোনো প্রয়োজন তিনি দেখছেন না। তাঁর এই মন্তব্যের পর মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইয়েল্ড (লভ্যাংশের হার) কিছুটা কমে আসে; আর সুদের হার বৃদ্ধির প্রবণতা শিথিল হলে সাধারণত স্বর্ণ লাভবান হয়, কারণ স্বর্ণ থেকে কোনো সুদ পাওয়া যায় না।
তবে জ্বালানি তেলের মূল্য স্বর্ণের পূর্ণাঙ্গ পুনরুদ্ধারের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে হামলার ঘটনায় জ্বালানি সরবরাহ আবারও ঝুঁকির মুখে পড়ায় ব্রেন্ট ক্রুড গ্রেডের জ্বালানি তেলের দর ব্যারেলপ্রতি $106-এর উপরে অবস্থান করছে। জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য মুদ্রাস্ফীতি উসকে দেয় এবং সুদের হার বাড়ানোর যৌক্তিকতা জোরালো করে তোলে, যা স্বর্ণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই কার্যকারণ-সম্পর্কই স্বর্ণের মূল্যের ওঠানামার গতিপথ নির্ধারণ করেছে এবং আজও তা স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধির প্রবণতাকে বাঁধাগ্রস্ত করছে।
দিনের মূল প্রতিবেদন এখনও প্রকাশিত হয়নি। বুধবার প্রকাশিতব্য মার্কিন ভোক্তা মূল্য সূচক সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে—উল্লেখ্য যে, গত মাসেই মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২০২৩ সালের পর প্রথমবারের মতো সুদের হার বাড়িয়েছিল। সোয়াপ মার্কেটের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি মাসের বৈঠকে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা কম হলেও ডিসেম্বরে তা বাড়ার সম্ভাবনা প্রায় ৯০ শতাংশ। অর্থাৎ, সুদের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধির বিষয়টি ট্রেডারদের প্রত্যাশায় আগেই অন্তর্ভুক্ত হয়ে আছে; তাই মুদ্রাস্ফীতির হার বেশি হলে তা স্বর্ণের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে, আর মুদ্রাস্ফীতি কম হলে স্বর্ণ আগের ক্ষতি পুষিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, প্রবণতা অনুসরণকারী বিনিয়োগ ফান্ডগুলো সক্রিয়ভাবে স্বর্ণ বিক্রয় করা সত্ত্বেও স্বর্ণের মূল্যের মুভমেন্ট আশ্চর্যজনকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। ডয়চে ব্যাংক উল্লেখ করেছে যে, স্বর্ণের ধারাবাহিক ভৌত চাহিদার কারণে এটি টিকে আছে; এছাড়া বাণিজ্যিক ও অ-বাণিজ্যিক খাতের লেনদেনের প্রবাহ অ্যালগরিদমিক বিক্রয়ের প্রভাবকে প্রশমিত করছে। তবে খুচরা বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতি এক্ষেত্রে নগণ্য। আমার মতে, ভৌত চাহিদা স্বর্ণের দরপতন রোধ করছে ঠিকই, কিন্তু ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বা নতুন কোনো গতি সঞ্চারের জন্য বাহ্যিক প্রভাবকের দরকার।
আমার মতে, মার্কিন ভোক্তা মূল্য সূচক প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত ক্রেতা ও বিক্রেতারা অপেক্ষমান থাকায় স্বর্ণের মূল্য সম্ভবত $4,165-এর কাছাকাছি একটি সীমিত পরিসরের মধ্যেই ওঠানামা করবে। যদি মুদ্রাস্ফীতি কম থাকে এবং জ্বালানি তেলের দর $106-এর নিচে অবস্থান করে, তাহলে স্বর্ণের মূল্যের $4,200 বা তারও উপরে ফিরে যাওয়ার প্রচেষ্টা দেখা যেতে পারে বলে আমি মনে করি। আর যদি মার্কিন ভোক্তা মূল্য সূচক প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বৃদ্ধি পায়, তবে ডিসেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা জোরালো হবে, বন্ডের ইয়েল্ড বা লভ্যাংশ বাড়বে এবং স্বর্ণের ওপর নতুন করে দরপতনের চাপ সৃষ্টি হবে।

স্বর্ণের বর্তমান টেকনিক্যাল চিত্র অনুযায়ী, ক্রেতাদের স্বর্ণের মূল্যকে নিকটতম রেজিস্ট্যান্স $4,192-এ পুনরুদ্ধার করতে হবে। এতে করে স্বর্ণের মূল্যের $4,249-এর দিকে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা যেতে পারে; যা ব্রেক করে ঊর্ধ্বমুখী হওয়া তুলনামূলকভাবে কঠিন হবে। পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে $4,304 এরিয়া নির্ধারণ করা যেতে পারে। দরপতনের ক্ষেত্রে স্বর্ণের মূল্য $4,124 লেভেলে থাকা অবস্থায় বিক্রেতারা মার্কেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করবে। যদি তারা সফল হয়, এই রেঞ্জ ব্রেক করে স্বর্ণের মূল্য নিম্নমুখী হলে সেটি বুলিশ পজিশনগুলোর উপর উল্লেখযোগ্য আঘাত হিসেবে বিবেচিত হবে এবং স্বর্ণের মূল্য $4,062-এ নেমে যেতে পারে, ও পরবর্তীতে সম্ভবত $4,047 পর্যন্ত দরপতন হতে পারে।