
গতকাল কারেন্সি মার্কেটে জ্বালানি পণ্য ও অপরিশোধিত তেলের দরপতনের সম্ভাবনা নিয়ে ইরানের অসন্তোষের বিষয়টি আলোচিত হয়েছে—এমন একটি পরিস্থিতি তৈরির জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। প্রসঙ্গত, এই মুহূর্তে তেহরানের প্রধান লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয় নিশ্চিত করা। গ্রীষ্মকালেই আমি উল্লেখ করেছিলাম যে, ডেমোক্র্যাটরা বর্তমানে ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক মিত্র; কারণ তারা ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডকে 'অর্থহীন যুদ্ধ' হিসেবে অভিহিত করে নিয়মিত সমালোচনা করে আসছে—যে যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ব অর্থনীতি—উভয়েরই ক্ষতি করছে। তাই, ডেমোক্র্যাটরা যদি কংগ্রেসের অন্তত একটি কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারে, তবে তারা সম্ভবত ট্রাম্পের বিরুদ্ধে পুনরায় অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর চেষ্টা করবে এবং তাঁর নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করবে।
তবে, তেল ও ডিজেলের দাম কমে গেলে আমেরিকানদের মধ্যে রিপাবলিকানদের প্রতি সমর্থন বাড়তে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত পুরোপুরিভাবে প্রশমিত হলে মার্কিন ভোটাররা মনে করতে পারেন যে যুদ্ধের অবসান ঘটেছে। হরমুজ প্রণালীর ওপর আরোপিত অবরোধ যদি অকার্যকর হয়ে পড়ে, তবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও গ্যাস পুনরায় অবাধে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে পৌঁছাতে পারবে। আর ঠিক এই কারণেই, উল্লিখিত পরিস্থিতিগুলো যাতে বাস্তবে রূপ না নেয়, তা নিশ্চিত করতেই তেহরান বেশি আগ্রহী।
গতকালই ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কর্মকর্তা আলী আজমায়ি জানিয়েছেন যে, তিনি অধীর আগ্রহে পারস্য উপসাগরে মার্কিন জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার সুযোগের অপেক্ষায় বসে আছেন। এছাড়া, বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করছে। মনে হচ্ছে, ইরান সংঘাতকে নতুন করে উসকে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে—সম্ভবত নির্বাচনের ঠিক আগে ট্রাম্পকে চমকে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই তারা এমনটা করতে পারে। তেহরানের দৃষ্টিকোণ থেকে এই ধরনের পদক্ষেপ কৌশলগতভাবে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ইরান যদি মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস অবকাঠামোর ওপর পুনরায় হামলা শুরু করে, তবে জ্বালানির দাম আরও বেড়ে যেতে পারে; আর এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্ণ রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার সম্ভাবনা আরও কমে যেতে পারে। ইরান ঠিক এমনটাই চায়।
অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইদানীং বেশ নমনীয় ভাষায় কথা বলছেন। তিনি খোলাখুলি জানিয়েছেন যে, নির্বাচনের আগে ইরানের ওপর নতুন করে কোনো হামলা চালানোর ইচ্ছা তাঁর নেই—যা থেকে বোঝা যায়, সংঘাত বাড়ানোর কোনো আগ্রহ তাঁর নেই। ট্রাম্প যদি সংঘাত এড়াতে চান, তবে ইরান হয়তো সংঘাত বাড়ানোর দিকেই ঝুঁকে পড়তে পারে। সুতরাং, ইরান যদি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই আক্রমণ শুরু করে, তবে তাতে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। উদাহরণস্বরূপ, তারা প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালাতে পারে অথবা পারস্য উপসাগরে মার্কিন জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।
EUR/USD পেয়ারের ওয়েভ বিশ্লেষণ:
EUR/USD-এর বিশ্লেষণের ভিত্তিতে বলা যায়, এই কারেন্সি পেয়ার এখনও একটি সামগ্রিক কারেক্টিভ ট্রেন্ড স্ট্রাকচার—A-B-C-D-E-এর মধ্যেই রয়েছে। তবে, এই স্ট্রাকচারটি পুরোপুরি বিকশিত হয়েছে বলে মনে হচ্ছে এবং সম্ভবত এটি এখন সম্পন্ন হয়েছে। আমার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি কেবল ইউরোর লং পজিশনের জন্যই নয়, বরং একটি দীর্ঘস্থায়ী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরুর প্রত্যাশার জন্যও অনুকূল। হায়ার টাইমফ্রেমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই পেয়ারের মূল্য অন্তত 1.1700–1.1800 লেভেল পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। 1.1126 লেভেলটি—যা 50.0% ফিবোনাচি রিট্রেসমেন্ট লেভেল (বটম চার্ট, হায়ার টাইমফ্রেম) সাথে সঙ্গতিপূর্ণ—সেটিকে অতিক্রম করার ব্যর্থ প্রচেষ্টাও ইঙ্গিত দেয় যে, মার্কেটে সম্ভবত ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা শুরু হতে যাচ্ছে।
GBP/USD পেয়ারের ওয়েভ বিশ্লেষণ:
GBP/USD-এর ওয়েভ স্ট্রাকচার এখন মোটামুটি স্পষ্ট। চার্টগুলোতে একটি সুনির্দিষ্ট কারেক্টিভ A-B-C-D-E স্ট্রাকচার দেখা যাচ্ছে, যা সম্ভবত সম্পন্ন হয়েছে। EUR/USD-এর ক্ষেত্রেও অনুরূপ একটি স্ট্রাকচার সম্ভবত সম্পন্ন হয়েছে। যদি এই অনুমান সঠিক হয়, তবে পাউন্ডের মূল্যের নিম্নমুখী প্রবণতার মাত্রা নিয়ে কয়েক সপ্তাহের অনিশ্চয়তার পর এটির দরপতন শেষ হয়ে থাকতে পারে। এমতাবস্থায়, পাউন্ডের মূল্য কেবল একটি কারেক্টিভ ওয়েভ গঠন শুরু করতে পারে তা-ই নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাও হতে পারে—যার লক্ষ্যমাত্রা হবে B এবং D ওয়েভের পিকের উপরে, অর্থাৎ 1.3700 লেভেলের উপরে। আমার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি লং পজিশন ওপেন করার জন্য বেশ অনুকূল।
আমার বিশ্লেষণের মূল নীতিমালা:
- ওয়েভ স্ট্রাকচার সহজ এবং বোধগম্য হওয়া উচিত। জটিল স্ট্রাকচারে ট্রেড করা কঠিন এবং এগুলোর ক্ষেত্রে প্রায়শই অপ্রত্যাশিত মুভমেন্ট ঘটে।
- মার্কেটের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে, মার্কেট থেকে দূরে থাকাই ভালো।
- মূল্যের মুভমেন্টের দিক সম্পর্কে কখনোই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। সুরক্ষিত থাকতে সবসময় স্টপ লস অর্ডার ব্যবহার করুন।
- ওয়েভ বিশ্লেষণ অন্যান্য ধরনের বিশ্লেষণ এবং ট্রেডিং কৌশলের সাথে যুক্ত করা যেতে পারে।