ব্রিটিশ পাউন্ডের ট্রেডের বিশ্লেষণ এবং টিপস
যখন MACD সূচকটি জিরো লাইনের বেশ নিচে নেমে গিয়েছিল তখন এই পেয়ারের মূল্য 1.3363-এর লেভেল টেস্ট করেছিল, যা এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করেছিল। 1.3363-এর লেভেলের দ্বিতীয় টেস্টের ক্ষেত্রে পাউন্ডের বাই সিগন্যালের পরিকল্পনা 2 বাস্তবায়নের সুযোগ পাওয়া যায়, যার ফলে এই পেয়ারের মূল্য 30 পিপস বৃদ্ধি পেয়েছে।
গতকাল পাউন্ডের স্টার্লিংয়ের দরপতনটি মূলত অধিকাংশ কারেন্সির বিপরীতে মার্কিন ডলারের শক্তিশালী হওয়ার সামগ্রিক চিত্রের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রকাশিত মার্কিন অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের ফলাফলগুলোই যে এর একমাত্র কারণ—তা হয়তো নয়, তবে সেগুলোকে উপেক্ষা করারও সুযোগ নেই। জবলেস ক্লেইমসের সংখ্যা 194,000-এ পৌঁছেছে, যেখানে পূর্বাভাস ছিল 200,000-এ পৌঁছানোর (এক সপ্তাহ আগেও এই সংখ্যা 200,000 ছিল)। সেপ্টেম্বরের লিডিং ইন্ডিকেটরস ইনডেক্স 0.0%-এ পৌঁছেছে, যেখানে -0.1%-এ পৌঁছানোর প্রত্যাশা। এছাড়া, কন্টিনিউইং ক্লেইমসের সংখ্যা ছিল 1,728,000, যা 1,720,000-এর পূর্বাভাসের চেয়ে বেশি। মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তবে পাউন্ডের দরপতনের পেছনে নিজস্ব কিছু কারণও ছিল। অক্টোবরে দেশটির CBI ইন্ডাস্ট্রিয়াল অর্ডারের ব্যালেন্স ছিল -32, যেখানে পূর্বাভাস ছিল -20 (এক মাস আগে এই সংখ্যা ছিল -9)। এছাড়া, GfK-এর তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে ভোক্তা আস্থা কমে -24-এ নেমে এসেছে—যা -14-এর পূর্বাভাসের চেয়ে নেতিবাচক ফলাফল এবং সেপ্টেম্বরের -13 থেকে অনেক নিচে; অর্থাৎ, পরিবারগুলোর আস্থার সূচকে বড় ধরনের পতন ঘটেছে।
আজকের অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আসন্ন প্রতিবেদনগুলোর ফলাফল সন্তোষজনক হলে পাউন্ডের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে। সকালের মূল প্রতিবেদন হলো সেপ্টেম্বরের খুচরা বিক্রয় সংক্রান্ত প্রতিবেদন, যার মধ্যে জ্বালানি ব্যয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, আগের মাসের 0.5% বৃদ্ধির বিপরীতে এবার খুচরা বিক্রয় সূচক 0.1% হ্রাস পেতে পারে; এছাড়া বার্ষিক ভিত্তিতে এই হার 2.4% থেকে কমে 1.0%-এ নেমে আসার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। যদি প্রকৃত ফলাফল প্রত্যাশার চেয়ে ইতিবাচক হয়, তবে তা দৃঢ়ভাবে ইঙ্গিত দেবে যে উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যেও ভোক্তারা তাদের ক্রয়ক্ষমতা বজায় রাখতে পেরেছেন। খুচরা বিক্রয় সংক্রান্ত প্রতিবেদনের পরপরই যুক্তরাজ্যে অক্টোবরের PMI সূচক প্রকাশিত হবে। উৎপাদন খাতভিত্তিক PMI সূচকটি 51.9 থেকে কমে 51.8-এ নামতে পারে; পরিষেবা খাতভিত্তিক সূচকটি 52.1 থেকে কমে 51.8 হতে পারে; এবং কম্পোজিট সূচকটি এর আগে 52.0 ছিল। তুলনামূলকভাবে, আগস্ট মাসে পরিষেবা ও কম্পোজিট সূচক 52.5 ছিল—অর্থাৎ সামগ্রিক পরিস্থিতি ধীরে ধীরে দুর্বল হচ্ছে। সূচকগুলোর ফলাফল 50-এর থাকলে তা অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ নির্দেশ করে এবং আপাতত তিনটি সূচকই এই সীমার উপরে রয়েছে। সুতরাং, বিশ্লেষকরা বড় কোনো বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে না, তবে অপ্রত্যাশিত ফলাফল এই পেয়ারের মূল্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। আমার মতে, ইতিবাচক ফলাফল প্রকাশিত হলে তা GBP/USD পেয়ার কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করতে পারে; অন্যদিকে, দুর্বল ফলাফল প্রকাশিত হলে পাউন্ড ডলারের বিপরীতে চাপের মুখে থাকবে এবং ট্রেডারদের নতুন করে এই পেয়ারের বাই পজিশন ওপেন করার জন্য আরও অনুকূল পরিস্থিতির অপেক্ষায় থাকতে হবে।
দৈনিক কৌশল হিসেবে, আমি মূলত পরিকল্পনা #1 এবং #2 বাস্তবায়নের উপর নির্ভর করব।

বাই সিগন্যাল
পরিকল্পনা 1: আজ পাউন্ডের মূল্য 1.3416-এর (চার্টে গাঢ় সবুজ লাইন) লেভেলে বৃদ্ধির লক্ষ্যে 1.3395-এর (চার্টে হালকা সবুজ লাইন) এন্ট্রি পয়েন্টে পৌঁছালে আমি পাউন্ডের লং পজিশন ওপেন করার পরিকল্পনা করছি। মূল্য প্রায় 1.3416-এর লেভেলের আশেপাশে পৌঁছালে, আমি লং পজিশন ক্লোজ করতে যাচ্ছি এবং বিপরীত দিকে শর্ট পজিশন ওপেন করতে যাচ্ছি, উল্লিখিত লেভেল থেকে বিপরীত দিকে 30-35 পিপস মুভমেন্টের প্রত্যাশা করছি। আজ আসন্ন প্রতিবেদনের ইতিবাচক ফলাফল প্রকাশিত হলে পাউন্ডের মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ! এই পেয়ারের লং পজিশন ওপেন করার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি জিরো লাইনের উপরে রয়েছে এবং জিরো লাইনের উপরে উঠতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা 2: MACD সূচকটি ওভারসোল্ড জোনে থাকা অবস্থায় মূল্য পরপর দুইবার 1.3383-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রেও আমি আজ পাউন্ডের লং পজিশন ওপেন করতে যাচ্ছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের নিম্নমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে ঊর্ধ্বমুখী করবে। 1.3395 এবং 1.3416-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দর বৃদ্ধির প্রত্যাশা করা যেতে পারে।
সেল সিগন্যাল
পরিকল্পনা 1: আজ পাউন্ডের মূল্য 1.3383-এর (চার্টে লাল লাইন) লেভেল অতিক্রম করলে আমি পাউন্ডের শর্ট পজিশন ওপেন করার পরিকল্পনা করছি, যা GBP/USD-এর দ্রুত দরপতনের দিকে নিয়ে যাবে। সেলারদের জন্য মূল লক্ষ্যমাত্রা হবে 1.3359-এর লেভেল, যেখানে মূল্য পৌঁছালে আমি শর্ট পজিশন ক্লোজ করতে যাচ্ছি এবং অবিলম্বে বিপরীত দিকে লং পজিশন ওপেন করার পরিকল্পনা করছি, এই লেভেল থেকে বিপরীত দিকে 20-25 পিপস মুভমেন্ট হওয়ার আশা করছি। আজ নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশিত হলে পাউন্ডের উপর চাপ ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ! এই পেয়ারের সেল পজিশন ওপেন করার আগে, নিশ্চিত করুন যে MACD সূচকটি জিরো লাইনের নিচে রয়েছে এবং এটির নিচে নামতে শুরু করেছে।
পরিকল্পনা 2: MACD সূচকটি ওভারবট জোনে থাকা অবস্থায় মূল্য পরপর দুইবার 1.3395-এর লেভেল টেস্টের ক্ষেত্রে আমি আজ পাউন্ডের শর্ট পজিশন ওপেন করার পরিকল্পনা করছি। এটি এই পেয়ারের মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনাকে সীমিত করবে এবং মূল্যকে বিপরীতমুখী করে নিম্নমুখী দিকে নিয়ে যাবে। 1.3383 এবং 1.3359-এর বিপরীতমুখী লেভেলের দিকে এই পেয়ারের দরপতনের আশা করা যেতে পারে।

চার্টে কী আছে:
- হালকা সবুজ লাইন – এন্ট্রি প্রাইস নির্দেশ করে যেখানে এই ট্রেডিং ইন্সট্রুমেন্ট ক্রয় করা যেতে পারে।
- গাঢ় সবুজ লাইন – টেক-প্রফিট (TP) অর্ডার সেট করা যেতে পারে বা এটি ম্যানুয়ালি মুনাফা নির্ধারণ করার জন্য সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা নির্দেশ করে, কারণ এই লেভেলের উপরে আরও দর বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই।
- হালকা লাল লাইন – এন্ট্রি প্রাইস নির্দেশ করে যেখানে এই ট্রেডিং ইন্সট্রুমেন্ট বিক্রয় করা যেতে পারে।
- গাঢ় লাল লাইন – টেক-প্রফিট (TP) অর্ডার সেট করা যেতে পারে বা এটি ম্যানুয়ালি মুনাফা নির্ধারণ করার জন্য সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে কাজ করে, কারণ এই লেভেলের নিচে আরও দরপতনের সম্ভাবনা নেই।
- মার্কেটে এন্ট্রি নেওয়ার সময় ওভারবট এবং ওভারসোল্ড জোন মূল্যায়নের জন্য MACD সূচক ব্যবহার করা উচিত।
নতুন ট্রেডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ:
- নতুন ফরেক্স ট্রেডারদের মার্কেটে এন্ট্রি নেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। মূল্যের তীব্র ওঠানামা এড়ানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক প্রতিবেদন প্রকাশের আগে মার্কেটে এন্ট্রি না করাই উত্তম। যদি আপনি সংবাদ প্রকাশের সময় ট্রেডিং করার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে লোকসানের সম্ভাবনা হ্রাসের জন্য অবশ্যই স্টপ-লস অর্ডার ব্যবহার করুন। স্টপ-লস অর্ডার ছাড়া ট্রেডিং করলে দ্রুত আপনার সম্পূর্ণ ডিপোজিট শেষ হয়ে যেতে পারে, বিশেষত যদি আপনি অর্থ ব্যবস্থাপনার নীতিমালা উপেক্ষা করেন এবং বেশি ভলিউমে ট্রেড করেন।
- মনে রাখবেন, সফল ট্রেডিংয়ের জন্য একটি সুসংগঠিত ট্রেডিং পরিকল্পনা থাকা আবশ্যক, ঠিক যেমনটি উপরে নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলে সেটি দৈনিক ভিত্তিতে ট্রেড করা ট্রেডারদের জন্য লোকসানের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।