আজ এশীয় সেশনে ফিউচার সূচকগুলো কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হলেও পরবর্তীতে তা নিম্নমুখী হয়। অ্যানথ্রোপিক গতকাল এস-১ নথিপত্র দাখিল করায় এআই খাতে সাম্প্রতিক অস্থিরতার পর নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর নেতৃত্বে এশীয় স্টক সূচকগুলো প্রায় 0.7% বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে এই ঘুরে দাঁড়ানোর প্রবণতা দ্রুতই মিলিয়ে গেছে। নাসডাক 100 সূচকের ফিউচার এখন প্রায় 0.4% হ্রাস পেয়েছে এবং S&P 500 সূচকের ফিউচার প্রায় 0.1% হ্রাস পেয়েছে। ইউরোপীয় স্টক মার্কেটে প্রায় 0.5% দরপতনের সাথে সেশন শুরু হতে পারে বলে মনে হচ্ছে।
প্রযুক্তি খাতে ক্রমবর্ধমান অর্থায়ন ও বিনিয়োগ স্টক মার্কেটের পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করেছে। মেটা জানিয়েছে যে তারা কমন এবং প্রেফার্ড শেয়ারের মাধ্যমে $97.5 বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত তহবিল সংগ্রহের আশা করছে। ব্রডকম চিপ কেনার জন্য প্রায় $63 বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ জোগাড় করেছে। স্পেসএক্স প্রায় $40 বিলিয়ন ডলার মূল্যের সরঞ্জামের জন্য ইজারা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। অ্যানথ্রোপিকের বহু প্রতীক্ষিত এস-১ এটিকে উন্নত এআই মডেলের প্রথম পাবলিক পিওর-প্লে ডেভেলপার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। অতিরিক্ত মূল্য এবং বিশাল মূলধনী ব্যয়ের আশঙ্কায় চিপ প্রস্তুতকারকদের শেয়ার বিক্রির হিড়িকের পর, এই আইপিও এআই খাতের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হবে। সব খবরই ইতিবাচক ছিল না: দুর্বল ফলাফলের পর হংকং-এর এইচএসবিসি-র শেয়ারের মূল্য 6%-এর বেশি কমে গেছে।
এই সপ্তাহের অর্থনৈতিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বেশ ব্যস্ত সূচী অপেক্ষা করছে। বুধবার ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেবে। একই দিনে অ্যালফাবেট এবং মাইক্রোসফটের আয়ের প্রতিবেদন প্রকাশের কথা রয়েছে। এরপর বৃহস্পতিবার অ্যামাজন ও ইন্টেল আয়ের প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। বিনিয়োগকারীরা এই কোম্পানিগুলোর ব্যয় পরিকল্পনার দিকে নজর রাখবে—এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই বিনিয়োগগুলো আদৌ কোনো মুনাফা বয়ে আনছে কি না সেদিকেও সজাগ দৃষ্টি থাকবে। কিছু ট্রেডার সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন: একদিকে যেমন এআই সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোতে পুঁজি ফিরে আসছে, অন্যদিকে একই সময়ে এসব কোম্পানি বিপুল পরিমাণ নতুন অর্থায়নের সন্ধান করছে। এছাড়া, শীর্ষস্থানীয় ল্যাবগুলোতে ক্রমবর্ধমান ঋণ এবং দ্রুত নগদ অর্থ ফুরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি যৌক্তিকভাবেই উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছিল: আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার এবং সংঘাতের ব্যাপক বিস্তার রোধ করার প্রচেষ্টায় বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদল তেহরানে যায়, যার ফলে শুরুতে জ্বালানি তেলের মূল্য কিছুটা হ্রাস পায়। তবে এই স্বস্তি ছিল ক্ষণস্থায়ী। ব্রেন্ট ক্রুড গ্রেডের তেলের মূল্য আগের দরপতন পুষিয়ে নিয়েছে এবং বর্তমানে প্রতি ব্যারেল প্রায় $115.90-এ ট্রেডিং হচ্ছে; অন্যদিকে, কঠিন একটি সপ্তাহ পার করার পর স্বর্ণের মূল্য এখন প্রতি আউন্স প্রায় $4,005-এ অবস্থান করছে।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে, বিনিয়োগকারীরা আবারও এআই খাতের উপর আস্থা রাখতে আগ্রহী, তবে তারা বেশ সতর্ক রয়েছে—বিশেষ করে অর্থায়ন এবং কোম্পানিগুলোর আসন্ন আয়ের প্রতিবেদনের দিকে নজর রেখে। আমার মতে, অ্যালফাবেট, মাইক্রোসফট এবং অ্যামাজন—এই কোম্পানিগুলো তাদের এআই সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগ থেকে কী ধরনের মুনাফা অর্জন করছে তার প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত প্রযুক্তি খাতের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণয়া বেশ নাজুক অবস্থায় থাকবে। জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য এবং ফেডারেল রিজার্ভের সিদ্ধান্ত মার্কেটে স্বস্তিজনক পরিবেশ সৃষ্টি হতে বাধা দিতে পারে। কোম্পানিগুলোর শক্তিশালী আয়ের ফলাফল চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টককে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করতে পারে, অন্যদিকে হতাশাজনক ফলাফল প্রকাশিত হলে তা সম্ভবত আবারও শেয়ার বিক্রির হিড়িক বা দরপতন ডেকে আনবে।

টেকনিক্যাল প্রেক্ষাপট অনুযায়ী S&P 500 সূচকের ক্রেতাদের প্রধান কাজ হবে সূচকটির মূল্যের$7,679-এর নিকটতম রেজিস্ট্যান্স অতিক্রম করানো। এটি আরও উর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিশ্চিত করবে এবং $7,698-এর দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা উন্মুক্ত করবে। সূচকটির দর $7,718-এর উপর ধরে রাখাও ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর ফলে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে। যদি ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা কমে গিয়ে দরপতন হয়, তাহলে সূচকটির দর $7,656-এ থাকা অবস্থায় বায়ারদের সক্রিয় হতে হবে। এই লেভেল ব্রেক করে নিম্নমুখী হলে সূচকটির মূল্য দ্রুত $7,633-এ নেমে যেতে পারে এবং $7,607 পর্যন্ত দরপতনের সম্ভাবনা রয়েছে।