![]()
১৬ সেপ্টেম্বর কোন ইভেন্টগুলোর উপর মনোযোগ দেওয়া উচিত?
সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনের বিশ্লেষণ: বুধবার বেশ কয়েকটি সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো যুক্তরাজ্যের মুদ্রাস্ফীতি বিষয়ক প্রতিবেদন, যা আগামীকালের বৈঠকে এবং বছরের বাকি সময়জুড়ে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের অবস্থান ও সম্ভাব্য পদক্ষেপকে প্রভাবিত করবে। মুদ্রাস্ফীতি বাড়লে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড মুদ্রানীতি কঠোর করতে বাধ্য হবে। তবে ট্রেডাররা হয়তো এই প্রতিবেদনের প্রতি খুব একটা গুরুত্ব দেবে না, কারণ সন্ধ্যায় ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে—যা স্বাভাবিকভাবেই ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের বৈঠকের চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া আজ ইউরোজোনের শিল্পোৎপাদন সংক্রান্ত প্রতিবেদন এবং যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বিক্রয় সংক্রান্ত প্রতিবেদনও প্রকাশিত হবে, তবে ট্রেডাররা এসব প্রতিবেদনের উপর দৃষ্টিপাত করবেন সেই সম্ভাবনা বেশ কম।
ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টের বিশ্লেষণ: বুধবারের গুরুত্বপূর্ণ ফান্ডামেন্টাল ইভেন্টগুলোর মধ্যে ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠক, 'ডট-প্লট' পূর্বাভাস এবং ফেডের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শের সংবাদ সম্মেলন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সেপ্টেম্বরে সুদের হার বৃদ্ধির বিষয়ে ট্রেডারদের মধ্যে কোনো সংশয় নেই এবং এই সিদ্ধান্তটি ইতোমধ্যেই তাঁদের মূল্যায়নে অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে। তাই স্বল্পমেয়াদে মার্কিন ডলারের মূল্যের মুভমেন্ট মূলত ওয়ার্শের মন্তব্য এবং 'ডট-প্লট' পূর্বাভাসের ওপর নির্ভর করবে। উল্লেখ্য যে, 'ডট-প্লট' হলো আগামী তিন বছরে মূল সুদের হার নিয়ে ফেড সদস্যদের প্রত্যাশার প্রতিফলন। ওয়ার্শের বক্তব্যের মাধ্যমে এটি জানা গুরুত্বপূর্ণ হবে যে, ফেড কি সুদের হার বৃদ্ধির পূর্ণাঙ্গ চক্র শুরু করতে যাচ্ছে, নাকি কেবল সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে একবারই সুদের হার বাড়াতে যাচ্ছে।
![]()
ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও তেমন সন্তোষজনক নয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো আলোচনা হচ্ছে না; হরমুজ প্রণালী বন্ধ বা আংশিকভাবে বন্ধ রয়েছে এবং ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী সৌদি আরবের ওপর নৌ-অবরোধ বজায় রেখেছে এবং সক্রিয়ভাবে দেশটির অবকাঠামোর উপর হামলা চালাচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কোণঠাসা করার লক্ষ্যে এক নজিরবিহীন অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং ইরানের সাথে যেকোনো ধরনের সম্পর্ক রাখা দেশগুলোর ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত ইরানকে অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করার ব্যাপারে ট্রাম্পের এই পরিকল্পনাকে কেউ সমর্থন করেনি এবং এটি আদৌ বাস্তবায়িত হবে কি না, তাও অনিশ্চিত। সংঘাত অব্যাহত রয়েছে; বাব আল-মান্দেব প্রণালী সম্পূর্ণভাবে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ার হুমকি সৃষ্টি হয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যও বাড়ছে...
উপসংহার: চলতি সপ্তাহের তৃতীয় দিনের ট্রেডিংয়ে উভয় কারেন্সি পেয়ার আবারও চাপের সম্মুখীন হতে পারে। আজ ইউরো 1.1527–1.1531 এবং পাউন্ড 1.3456–1.3476 রেঞ্জের মধ্যে ট্রেড করা যেতে পারে। ইউরো ও পাউন্ডের মূল্যের ডাউনওয়ার্ড কারেকশন সম্ভবত এই সপ্তাহেই সম্পন্ন হয়ে যাবে, যেহেতু ট্রেডাররা ইতোমধ্যেই ধরে নিয়েছে যে ফেড নিশ্চিতভাবেই হকিশ বা কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে।
ফান্ডামেন্টাল সংবাদ পেতে ভিজিট করুন: https://ifxpr.com/475deTW